এক ঝলক খোলা হাওয়া যেন বয়ে গেল ছবিতে

ফটোগ্রাফ মুভি রিভিউঃ

।।অ নি রু দ্ধ ধ র ।।

অভিনেতা-নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী,সানিয়া মালহোত্রা,ফারুক জাফর
পরিচালক-রীতেশ বাত্রা
ছবির ধরন-Drama,Romance
সময়সীমা-1 hrs. 50 Min.

‘লাঞ্চবক্স’ তৈরির ছ’বছর পর দেশে ফিরে রীতেশ বাত্রা আরও একটি হিন্দি ছবি করলেন, ‘ফটোগ্রাফ’। অথচ, আশ্চর্যের ব্যাপার ছ’বছর বাদে দুটো ছবির থিমই মোটামুটি এক। সম্পূর্ণ বিপরীত দু’জন মানুষ, যার একজন পুরুষ এবং অন্যজন নারী, বিচিত্র পরিস্থিতিতে কি একে অপরের প্রেমে পড়তে পারে? ‘লাঞ্চবক্স’-এর সেই অফিস কর্মী এবং তার সম্পূর্ণ অপরিচিত গৃহবধূ যেভাবে একে অপরকে না-দেখে অদ্ভুত এক রোম্যান্টিক সম্পর্কের মধ্যে যেতে পারে, প্রায় একই রকম ভাবে ‘ফটোগ্রাফ’-এর গেট ওয়ে অফ ইন্ডিয়ার সামনে ট্যুরিস্টদের ছবি তুলিয়ে নিম্নবিত্ত স্ট্রিট ফটোগ্রাফার মুসলমান যুবক রফি (নওয়াজ) এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পড়া উচ্চমধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের ছাত্রী মিলোনী (সানিয়া)-ও ওই ধরনের রোম্যান্টিক সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। এই রকম পরিস্থিতিতে রাজেশ দেখতে চান পাত্র-পাত্রীরা কী করে? দুটি ছবির মিল ছবির শেষেও। দুটি ছবিই ওপন এন্ডেড।

‘ফটোগ্রাফ’ এত ধীর গতির ছবি যে মনে হয় সময় বুঝি কাটতে চায় না। কিন্তু ধীর গতিই ছবির অন্যতম সম্পদ। ক্রমশ এই ছবিটি হয়ে ওঠে শুধু মুম্বই শহর নয়, ভারতবর্ষের সবকটি শহরের নস্টালজিয়ার ছবি। দর্শকদের কাছে স্মৃতিরোমন্থনের এক বিস্তৃত অবকাশ যেন তৈরি করে দেয় এই ছবি। মহম্মদ রফির গাওয়া ‘তুমনে মুঝে দেখা’ সেই স্মৃতি-মুহূর্ত তৈরি করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার সামনে অচেনা মিলোনীকে ছবি তোলার প্রস্তাব দেয় রফি। রফি যখন সেই ছবি প্লাস্টিকে মোড়ার জন্য চোখ সরিয়েছে, সেই ফাঁকে ভুল করে পয়সা না দিয়ে চলে যায় মিলোনী। রফির কাছে ছিল সেই মুহূর্তের আরও কয়েকটি গেট। রফির দাদি চায় সে যেন দ্রুত বিয়ে করে। দাদি (ফারুক জাফর)-র চাপে পড়ে মিলোনীর ছবি তাকে পাঠিয়ে দেয় রফি তার প্রেমিকার ছবি হিসেবে। সমস্যা তৈরি হয় দাদি যখন গ্রাম থেকে মুম্বই এসে দেখা করতে চায় মিলোনীর সঙ্গে। কিন্তু রফির কাছে তো মিলোনীর ঠিকানা নেই। এইভাবে শুরু হয় ছবির গল্প।

রীতেশের কোনও দায় নেই রফি আর মিলোনীর সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কারণ বিশ্লেষণে। গল্প বলার এমন কোনও শর্ত থাকা উচিত নয় বলেই রীতেশ মনে করেন। আর এই কারণেই রীতেশের ‘লাঞ্চবক্স’ কিম্বা ‘ফটোগ্রাফ’ অন্য ঘরানার ছবি।

এই ছবিতে ম্যাজিক মোমেন্ট তৈরি হয়েছে একাধিক। এর অন্যতম হল যে ঝুপড়িতে রফি এবং তার বন্ধুবান্ধব থাকে সেখানকার মৃতবাসিন্দা ভূত হয়ে মাঝ রাতে রফির কাছে বিড়ি চাইতে আসা। এমন নানা ম্যাজিক মুহূর্ত আছে বলেই ছবিটি অন্য মাত্রা পেয়েছে।অভিনয়ে মূল ভূমিকায় যে দু’জন আছেন তাঁরা অভিনয় নয়, বিহেভ করেছেন। তাই কখনওই মনে হয়নি তাঁদের রোম্যান্স মেকি।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত