রূপকথার রাশিয়া


ছোটবেলায় পড়া রুশ রূপকথা একেবারে চোখের সামনে। সাহিত্য, ঐতিহ্য, ইতিহাসের সাম্রাজ্যে পা রেখে শৈশবের নস্টালজিয়ায় সামিল হলেন বর্ণালি মিত্র।


শৈশবের সঙ্গী রূপকথা, উপকথার দেশ রাশিয়া নিয়ে এক অলীক স্বপ্ন বাস করত অন্তরে। কল্পিত চিত্রের সাথে কিছু সাদৃশ্য এবং কিছু বিভেদ রয়ে গেল বাস্তব অভিজ্ঞতায়। ৪ জুন, শেষ বিকেলে সেন্ট পিটার্সবার্গ এর ফিনল্যান্ডস্কি স্টেশনে নেমে মনে হল হেলসিঙ্কি’র ঠান্ডাও এর তুলনায় কিছুই নয়। মুহূর্তের মধ্যে নাক ও চোখ দিয়ে জল গড়াতে শুরু করল। তার উপর ঝিরঝিরে বৃষ্টি।

স্টেশন থেকে নেমে ট্যাক্সি নেওয়ার মাঝের সময়টুকুতে মনে হল মুখে, গায়ে কেউ বরফের টুকরো ঘষে দিচ্ছে। ট্যাক্সি আমাদের ঠিকানা বুঝে আস্তানায় নিয়ে এলো। মনে হল উত্তর কলকাতার কোনও দেড়শো বছরের পুরনো বাড়ির দরজায় এসে নামলাম। প্রাচীন আমলের অন্ধকার সিঁড়ি, টিমটিম করছে মলিন বাতি।

একজন কর্মী আমাদের মালপত্র দোতলায় বয়ে এনে দরজা খুলে দিলেন। ভিতরে পা দিয়ে তাক লেগে গেল, চোখ যাকে বলে ছানাবড়া! যদিও জানাই ছিল হোটেল নয়, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট, তাও। সুসজ্জিত, সুবিশাল বৈঠকখানা, দু’টি বড় শয়নকক্ষ, সমস্ত আধুনিক সরঞ্জামযুক্ত রান্নাঘর, খাওয়ার ঘর, আধুনিকতম স্নানঘর। শোওয়ার ঘরের কোণে বার্নিশ করা পিয়ানো পর্যন্ত রাখা। অথচ বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই।


সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরশহর। মূল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও বটে। কমপক্ষে তিনশো বছর বয়স এই শহরের। রাস্তাঘাট, বড় বড় দোকান ও ইমারতগুলি সেই প্রাচীন ছাপই বহন করে চলেছে। পর্যটকদের সমস্যা একটিই, তা হল এখানকার বাসিন্দারা ইংরেজি খুবই কম বোঝেন ও বলতে পারেন। চেহারার বৈশিষ্ট্য বলতে প্রায় সকলেই বলিষ্ঠ, দীর্ঘদেহী, আর সকলেরই সুঠাম গঠন। আপেলের মতো গাত্রবর্ণ। শহরের পথে প্রধান যান ট্রামের মতো তার টানা বিদ্যুৎচালিত বাস। মেট্রোরেলই বহুলব্যবহৃত ও সুবিধাজনক। রাশিয়ার মেট্রো পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরে অবস্থিত পাতালরেল। গতিও অসম্ভব দ্রুত। ভূগর্ভে নামার চলমান সিঁড়িগুলি এতই দীর্ঘ, চলতে চলতে একটি ছোট গল্প পড়ে ফেলা যায়। আমরা শুরু করলাম কাজ়ান ক্যাথিড্রাল দিয়ে। খ্রিস্টানরা মোমবাতি জ্বালিয়ে নীরবে প্রার্থনা করছেন। বড় বড় মোমের ঝাড়বাতি জ্বলছে মাথার ওপর। চকচকে কালো দেওয়ালের কারুকাজ, শিল্পকর্ম ঝলমল করছে মোমের আলোয়। পরের দ্রষ্টব্য ছিল প্যালেস স্কোয়্যার। নেভা নদীর ধারে, বিস্তীর্ণ পরিধি জুড়ে সাদা ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে শহরের বৃহত্তম এই প্রাসাদ। বর্তমানে এটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। নাম হারমিটেজ মিউজ়িয়ম। এটি দেখতে কমপক্ষে ঘন্টা তিনেক লেগে যায়। ৩০ লক্ষের বেশি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত আছে এই জাদুঘরে। ষোলোশো থেকে আঠারশো শতাব্দীর রাজরাজড়াদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি অতি যত্নে সংরক্ষিত করা আছে বিভিন্ন তলার অসংখ্য কক্ষে। জাদুঘর আলো করে রেখেছে রুপো, ব্রোঞ্জ ও আরও কিছু মিশ্র ধাতু নির্মিত মূর্তি ও ভাস্কর্য। শিল্পীরা প্রধানত পশ্চিম ইউরোপে ও রাশিয়ার, তা বলাই বাহুল্য। এরপর পৌঁছে গেলাম সেন্ট আইজ়্যাকস ক্যাথিড্রাল। রাশিয়ার সম্রাট পিটার দ্য গ্রেট এটির নির্মাণে একশো কিলো সোনা ব্যবহার করেছিলেন। শেষ বিকেলের ম্লান আলোতেও যা ঝলমলে রশ্মি বিকিরণ করছিল। বেলা পড়ে এলে, বিকেলের আলোয় দেখলাম সেভিয়র অন দ্য স্পিলড ব্লাড। এটি রাশিয়ার তাৎপর্যপূর্ণ এক বিশেষ প্রতীক। এই চার্চের গায়ের অসামান্য কারুকাজ ও মোজ়েইক শিল্পকর্ম বিশ্বপ্রসিদ্ধ।


পিটার্সবার্গ শহরের প্রাণকেন্দ্র ও উজ্জ্বলতম অঞ্চল হলো নেভস্কি। অগুনতি বড় বড় হোটেল, আলো ঝলমলে দোকানপাট, কাফে, রেস্তরাঁ এই চৌমাথার দু’ধারে সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো। অনেকটা যেন কলকাতার পার্ক স্ট্রিট। চওড়া এক ফুটপাথে গিটার, ড্রাম সহ একটি ব্যান্ড একটানা গেয়ে চলেছে গান। ভিড় করে দর্শকেরা গলা মেলাচ্ছেন, শরীর দোলাচ্ছেন সেই গানের সঙ্গে। দিনের আলো এখানে এগারোটা পর্যন্ত স্পষ্ট। মেট্রো স্টেশনে রাত সাড়ে ন’টায় কাতারে কাতারে মানুষের চলাচল। পাতালরেলের চাতালে একজন মানুষ একমনে বসে বেহালা বাজাচ্ছিলেন। সে যে কী বুকে মোচড় দেওয়া সুর। মনের সব তন্ত্রীতে ঝিম ধরে যায় এমনই সে সুরের মূর্চ্ছনা।

রাশিয়া সাহিত্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত এক দেশ। বাড়িতে একটা সময় আসত বড়সড় চকচকে মসৃণ পাতার ‘সোভিয়েত দেশ’। কৈশোরের বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে থাকতাম সাদা কালো পাতাগুলোর দিকে। আর এই বয়সে রাশিয়ার ভূমিতে পা রেখে যে শিহরণ জাগলো তা বর্ণনাতীত। লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, ম্যাক্সিম গোর্কি, আন্তন চেকভ, নিকোলাই গোগোল… আরও কত নমস্য দার্শনিক-লেখক-কবিদের পদধূলিধন্য এ দেশ, এ মৃত্তিকা। যাঁদের চিরকালীন রচনাসমূহের অনুবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছি, উন্মুক্ত হয়েছে মনের দিগন্ত।

দ্বিতীয় দিন ঘুম ভেঙে দেখলাম ঝকঝকে রোদ্দুরে হাসছে শহরের আকাশ পথঘাট। সেদিনটি ছিল রবিবার, পথচারীদের চলাফেরায় খানিক আয়েশি ভাব। তবে দর্শনীয় স্থানগুলিতে ভালই ভিড়। অত্যধিক ঠান্ডার কারণেই হয়তো, যে কোনও বয়সি পুরুষরা চলতে ফিরতে পথের ধারে দাঁড়িয়ে খানিক সুরাপান করে নেন, শরীর গরম রাখার জন্যে। দেশজ সুরার খোলা বোতল হাতে লোকজনকে হামেশা ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। মেট্রোরেলে চড়ে এলাম পিটারহফ বোট রাইডিং-এ। বিশালাকার বোটের ভিতরটি ও ব্যবস্থাপনা অবিকল বিমানের মতো।


ঘণ্টাখানেক পাড়ি দিয়ে সেটি নিয়ে গেল প্রায় মাঝসমুদ্রের একটি অপূর্ব দ্বীপে। লঞ্চ থেকে নেমে সমুদ্রের ওপর নির্মিত এক টানা দীর্ঘ সেতু পার হয়ে যেতে হয় দ্বীপটিতে। সেতুর একপাশে লম্বা গাছের ছায়াময় বিস্তীর্ণ ঘাসভূমি, অন্য পাশে সাজানো উদ্যান। আর তা যেখানে গিয়ে শেষ হল সে এক অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, চোখ ঝলসানো বিশাল প্রাসাদ। নাম পিটারহফ প্যালেস। মনে হল এ কি স্বপ্ন না সত্যি? এমন সুন্দর প্রাসাদ পৃথিবীতে থাকা সম্ভব? অপরূপ উদ্যানের পিছনে সুদৃশ্য প্রাসাদ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় উদ্যানের ফোয়ারাগুলি। সোনার জলে রং করা অসংখ্য চোখ ঝলসানো মূর্তি, সেগুলির মুখ থেকে তীব্র গতিতে বেরিয়ে আসছে জলধারা। একদম কেন্দ্রে, দেশের শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক স্বরূপ এক বিশালাকায় শক্তিধর মানুষ সিংহের মুখ দুই হাতে টেনে রেখেছে। সিংহের মুখগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসছে তীব্র ফোয়ারা। ঝকঝকে রোদ্দুরে সোনালি মূর্তিগুলি থেকে যেন স্বর্ণালী জ্যোতি ঠিকরে পড়ছিল। জীবনে এমন চটকদার, জমকালো প্রাসাদ আমরা কেউই দেখিনি। শোনা যায়, রাশিয়ার সম্রাট পিটার দ্য গ্রেট প্যারিসের ভার্সাইলস প্রাসাদকে টেক্কা দেওয়ার অভীষ্ট নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন এই প্রাসাদ। বিকেল ছ’টা নাগাদ চলে এলাম জমজমাট এক কেন্দ্রীয় এলাকায়। ঘুরে দেখলাম কিছু সুপারমার্কেট। সবশেষে দেখলাম সেই সমাধিস্থল, যেখানে রাশিয়ার প্রখ্যাত সাহিত্যিক,কবি, সংগীতশিল্পীদের নশ্বর দেহ শায়িত আছে চিরশান্তিতে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের পর আমাদের গন্তব্য মস্কো।


মস্কো’র ‘Sheremetyevo’ বিমানবন্দরে নামার আগেই জোরদার বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সজল ছাইবর্ণ মেঘে ছেয়ে আছে আকাশ। চরম ব্যস্ত শহর অনুপাতে পথচারীর সংখ্যা খানিক কম। রাস্তাঘাট ভিজে সপসপে। তবে মস্কোর ঠান্ডা সহ্য করার মতো। যে কোনও দেশের রাজধানীর এক বিশেষ চেহারা থাকে। মস্কোভা নদীর ধারে, সাবেকি ধরনের আভিজাত্যপূর্ণ ইমারতে ঠাসা ঐতিহাসিক নগর মস্কো। ‘গথিক’ স্থাপত্যশৈলী এখানে বিশেষভাবে নজরে আসে। রাস্তা পারাপারের জন্য ফুট ব্রিজগুলি কাচের ছাউনিতে ঢাকা। অতীব প্রশস্ত সব রাজপথ। কিছু অঞ্চল যেন আমাদের ধর্মতলার অফিসপাড়ার কথা মনে করিয়ে দিল। শহরটি ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের চূড়ান্ত মিশেল। গোটা শহর জুড়ে এক রাজকীয় ছাপ। মানুষজন চূড়ান্ত পেশাদারি মনোভাবের। এখানে আবার অনেক রাস্তাতেই পারাপার নিষিদ্ধ। সাবওয়ে ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই। সেগুলিও অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও ঝলমলে দোকানপাট শোভিত। আমাদের আস্তানা ছিল Novenskiy Bulvar অঞ্চলে। আমাদের হোটেল বেশ রাজসিক। এমন অত্যাধুনিক অভিজাত বসার ঘর, শোওয়ার ঘর, স্নানঘরে নিজেদের যেন বেমানান লাগে। আমাদের ঘর সবচেয়ে উপরতলায়। সিলিং-এর দুই পাশের টানা কাচের অংশ দিয়ে আকাশ দৃশ্যমান।  হোটেলেই ডিনার সারলাম। রাতে গানবাজনার লাইভ পারফরমেন্স দেখলাম। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলিতে বোঝা যায় শহরের ব্যস্ততা। কলকাতার তিনগুণ বেশি মানুষ চলাচল করেন মেট্রোতে। মেট্রোরেলের বিদ্যুৎগতির কারণে, ট্রেন যখন স্টেশনে ঢোকে বা ছেড়ে যায়, প্রচণ্ড শব্দে কানে তালা লাগার উপক্রম হয়। মোট ন’টি মেট্রোরেলের রুট আছে এখানে।

মস্কো শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রখ্যাত রেড স্কোয়ার। জাতীয় সড়কগুলি সব এখানেই মিলিত হয়েছে। এই স্কোয়ারে রয়েছে পাশাপাশি তিনটি বিশিষ্ট সৌধ। রাশিয়ার বিখ্যাত সেন্ট বেসিল’স ক্যাথিড্রাল (আকৃতিগত কারণে বলা হয় অনিয়ন ডোম, লেনিন’স মৌসলিয়ম (লেনিনের কবরের ওপর যে স্মৃতি-সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে) আর তার ঠিক পাশেই ক্রেমলিন, দেশের সর্বশক্তিমান, রাষ্ট্রপতির ভবন। রেড স্কোয়ারের মাঝের বিশাল চাতালে একদিকে দেখলাম লিটারেচার ফেস্টিভাল চলছে। মস্কো শহরে দ্বিতীয় দিন ঘুম ভাঙতেই হোটেল-কক্ষের ছাদে ছাইরঙা আকাশ উঁকি দিয়ে জানিয়ে দিল মেঘলা দিনের আভাসবার্তা। তবে পথে বেরিয়ে নিরাশ হতে হয়নি, আকাশে রৌদ্রছায়ার অবিরাম খেলা চলেছে ঠিকই তবে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেলাম। আবহাওয়া এসব দেশে বড়ই খামখেয়ালি, কখন হাসবে আর কখন হয়ে যাবে মুখভার, বোঝা দায়।


স্পেস মিউজ়িয়মটি এখানকার অন্যতম সেরা দর্শনীয় স্থান। পৃথিবীর বাইরে রাশিয়া প্রথম যে স্পেস শাটল পাঠিয়েছিল তার সমস্ত সরঞ্জাম ও প্রস্তুতির বিবরণ ছবি ও মডেল সহ রাখা। ১৯৬৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, রাশিয়ার যে মহাকাশযানটি প্রথম চাঁদে পাড়ি দেয় ও সফ্ট ল্যান্ডিং করে সেখানকার খুঁটিনাটি ছবি নিয়ে আসে তার নিখুঁত মডেল সাজানো। এই জাদুঘরে স্পেস ওয়াক করার যাবতীয় পোশাক, স্পেস ক্যাপসুলগুলোর রেপ্লিকা বা প্রতিমূর্তি প্রদর্শিত। এই জাদুঘরটি এতই সুবিশাল দেখতে দেখতে কোথা দিয়ে যে তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেল, বুঝতেই পারলাম না। ফিরতি পথে এক বিশেষ ইমারতের শীর্ষে দৃষ্টি আটকে গেলো। আশি ফিট দীর্ঘ ও সমানুপাতিক প্রস্থের নিখুঁত একজোড়া মানব-মানবীর দৈত্যাকৃতি মূর্তি। হাতে তাদের কাস্তে-হাতুড়ি। স্টেনলেস স্টিল দ্বারা নির্মিত এই মূর্তির নাম ‘worker and Kolkhoz woman’। এমন বিশালাকায় মূর্তি জীবনে কমই দেখেছি। ঘড়ির কাঁটায় যখন আট’টা, মস্কো শহরের ওপর ছড়িয়ে আছে বিকেলের নরম, মোলায়েম আলো। সে সময় আমরা এসে ঢুকলাম গোর্কি পার্কে। ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন, শান্ত এক উদ্যান। শহরের ব্যস্ততার রেশ এখানে নেই, যানবাহনের কোলাহলের আওয়াজ এখানে এসে পৌঁছয় না। ১৭০ একর জমি নিয়ে নির্মিত উদ্যানের একদিকে চলছে নানাবিধ খেলাধূলা। কৃত্রিম ‘টার্ফ’ পেতে মহা উৎসাহে ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে, যার উত্তেজিত দর্শকও নেহাত কম নয়। পায়ে পায়ে হেঁটে এসব দেখার পর এসে বসলাম এক শান্ত, স্থির সরোবরের ধারে। টলটলে, স্বচ্ছ, নিস্তরঙ্গ জল। সারাদিন শহরের এত সব ব্যস্ত কোলাহলময় পথ পেরিয়ে ঘুরেছি, চিত্তশান্তি হল এই জলাশয়ের পাশে বসে। শারীরিক ক্লান্তি জুড়িয়ে গেল নিমেষে। নীরবতার এক অদ্ভুত আরাম আছে। মানসিক বিশ্রাম হয়। শব্দের পৃথিবী থেকে দূরে গেলে যে বিরামের মর্ম অনুভূত হয়, তৃপ্ত হয় প্রাণ। পরদিন দুপুর তিনটে’তে ছিল দিল্লি যাবার উড়ান। রাশিয়াকে ‘Dasvidaniya’ (বিদায়) জানিয়ে উঠে পড়লাম দেশে ফেরার বিমানে।

 

কীভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে মস্কো যাওয়ার কোনও সরাসরি বিমান নেই। জেট এয়ারওয়েজ়-এর বিমানে চড়ে দিল্লি হয়ে মস্কো-র ‘Sheremetyevo’ বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেন। মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গের বিমান তো আছেই, দ্রুত গতির ট্রেনও পেয়ে যাবেন। আগে থেকে টিকিট কেটে নিলে সুবিধে হবে।

 

কোথায় থাকবেন

মস্কোতে থাকার নানাবিধ ব্যবস্থা আছে। বেছে নিতে পারেন মস্কো ম্যারিয়ট গ্র্যান্ড হোটেল, ক্রাউন প্লাজ়া মস্কো ওয়র্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইত্যাদি। এছাড়া নানা বাজেটের হলিডে রেন্টালসও পেয়ে যাবেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে থাকতে পারেন পিটার হোটেল, গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল হোটেল। হলিডে রেন্টাল তো আছেই। বিশদে জানতে দেখে নিতে পারেন: www.russiatourism.ru, www.visitrussia.com

 

জেনে রাখা ভাল

রাশিয়ার টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ মোটামুটি ৩০দিন।

কৃতজ্ঞতাঃ সানন্দা

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত