| 17 জুলাই 2024
Categories
শিশু-কিশোর কলধ্বনি

কুশল স্যার

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

রাসকিন বন্ড

জন্মঃ ১৯শে মে, ১৯৩৪। জন্মসূত্রে রাস্কিন বন্ড যদিও বৃটিশ কিন্তু কর্মসূত্রে এবং চিন্তা ভাবনায় তিনি আদ্যোপান্ত ভারতীয়। তাঁর ছোটবেলার অনেকটা সময় কেটেছে দেরাদুনে। পরবর্তীকালে অল্প কিছুদিন ইংল্যান্ডে থেকেছেন কিন্তু আবার ফিরে এসেছেন দেরাদুন ও মুসৌরির টানে এবং আজ পর্যন্ত মুসৌরিতেই রয়ে গেছেন। তাঁর মরমী লেখায় গাড়োয়াল হিমালয় সহ গোটা ভারতের সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্র যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে ভারতীয় সাহিত্যে তেমনটি বিরল। তিনি যেমনটি দেখেছেন যেমনটি অনুভব করেছেন হৃদয় নিংড়ে ঠিক তেমনটিই লিখেছেন। তাঁর সোনার কলমের ছোঁয়ায় সেইসব গল্প হয়ে উঠেছে হৃদয়স্পর্শী। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তাঁর লেখা পাঠক সমালোচকদের নজর কাড়ে। ১৯৯২ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি, ১৯৯৯ সালে পদ্মশ্রী ও ২০১৪ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ পুরস্কার। এখানে প্রকাশিত গল্পটি লেখকের ‘দ্য রাইটার অন দ্য হিল’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। মূল গল্পের নামঃ ‘মাস্টারজি’।


 

অমৃতসর এক্সপ্রেসের জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলাম। প্ল্যাটফর্মে পায়চারি করতে করতে হঠাৎই কুশল স্যারকে দেখতে পেলাম। হ্যাঁ, কুশল স্যারই তো! কিন্তু দৃশ্যটা খুব মধুর নয়। বলতে গেলে অস্বাভাবিক। পুলিশের একজন কনস্টেবল তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

দূর থেকে দেখে চিনতে একটু সমস্যা হয়েছিল বৈকি। ভুঁড়ি হয়েছে, দাঁড়িতেও বেশ ভালই পাক ধরেছে, তার ওপর হাতে হাতকড়া। বেশ খানিকটা কাছাকাছি আসার পর আমি আমার স্কুলের সেই হিন্দি স্যারকে চিনতে পারলাম।

খুব অবাক হয়েই দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। তাকিয়ে ছিলাম ওঁর দিকেই। উনিও ঘুরে তাকালেন আর মুহূর্তের মধ্যেই যেন ওঁর চোখে বহুদিনের পুরনো ছাত্রকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ ঝলসে উঠল। ওঁর স্মৃতিশক্তির প্রশংসা করতে হয়। কারণ, প্রায় বছর কুড়ি বাদে দেখলাম কুশল স্যারকে। তবুও মনে হচ্ছে চিনতে পেরেছেন।

আমার চোখে তাঁর সেই পুরনো চেহারাটা ভেসে উঠল। ক্লাসের ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ঝলমলে হাসিখুশি চেহারা। আর আজ সেই মানুষটাকেই কিনা পুলিশ হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রেখেছে! কিন্তু তার মধ্যেও একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলাম। এমন একটা পরিস্থিতিতেও কিন্তু কুশল স্যারের মুখেচোখে একটা বিন্দাস ভাব, যেন এটা কিছুই না।

‘গ্‌-গ্‌-গুড মর্নিং স্যার’, আমি গোটা ব্যাপারটাকে হজম করতে গিয়ে তুতলে গেলাম। 

কুশল স্যারের মুখটা এবার আনন্দে ভরে উঠল। হেসে বললেন, ‘চিনতে পেরেছ তাহলে? বাহঃ! এতদিন বাদে তোমাকে আবার দেখে খুব ভাল লাগল।’

খুব ছোটবেলা থেকেই শিখেছিলাম, গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন শিক্ষককে সব সময় সম্মান জানাতে হবে। খুব অস্বস্তি হচ্ছিল কিন্তু তবুও ছোটবেলার শিক্ষা ভুলি কী করে? আমি হাত বাড়িয়ে প্রণাম করতেই উনি অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে আমার হাত চেপে ধরলেন।

ডান হাতে যেহেতু হাতকড়া তাই বাঁহাতেই আমার ডান হাতখানা চেপে ধরে রেখেছেন। আমি বহু পুরনো একটা গন্ধ পেলাম। সেই লবঙ্গ আর দারুচিনির গন্ধ। হিন্দি থেকে ইংরেজীতে ইংরেজী থেকে হিন্দিতে অনুবাদ করতে গিয়ে যখন নাজেহাল হতাম তখন এই গন্ধটা নিয়ে উনি পাশে এসে দাঁড়াতেন।

স্বাধীনতার ঠিক পরে পরেই ১৯৪৮ সালে কুশল স্যার আমাদের স্কুলে এসেছিলেন। আমাদের স্কুলটা ছিল একটা সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। উনি আসার আগে আমাদের স্কুলে কোনও হিন্দি শিক্ষক ছিলেন না। অতিরিক্ত ভাষা শিক্ষার ক্লাসে আমাদের উর্দু আর ফারসি ভাষা শেখানো হত। স্বাধীনতার পর একটা নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হল, যে বাধ্যতামূলক ভাবে সব স্কুলে হিন্দি ভাষা শেখাতে হবে। আমার তখন ষোলো বছর বয়স। সে বয়সে নতুন করে হিন্দি ভাষা শিখতে গিয়ে আমি একেবারে ল্যাজেগোবরে হচ্ছিলাম। কী শিখছিলাম জানি না কারণ আমাদের স্কুলে কেউই হিন্দি জানত না। আমরা কুশল স্যারের হিন্দি কুশলতার ওপরেই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলাম।

এতদিন বাদে আবার সেই কুশল স্যারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি আমি অথচ কী অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে! হাতকড়া পড়ানো অবস্থায় স্যারকে কোনওদিন দেখব ভাবতেও পারি নি। আমি মনে মনে ধাক্কাটা হজম করার চেষ্টা করছিলাম। ততক্ষণে ট্রেন চলে এল।

প্ল্যাটফর্ম ভর্তি লোক হুটোপুটি করে ট্রেনে উঠতে শুরু করেছে। কনস্টেবল ভদ্রলোকটি দেখলাম বেশ দক্ষতার সঙ্গে এক হাতে কুশল স্যারের হাতকড়া সামলে অন্য হাত দিয়ে ভিড় সরিয়ে সুন্দর জায়গা করে একটা থার্ড ক্লাস কম্পার্টমেন্টে ঢুকে পড়ছেন। আমিও ফাঁকতালে স্যারের পেছন পেছন উঠে পড়লাম ট্রেনে। স্যারের উলটো দিকে বসার সিটও পেয়ে গেলাম।

ট্রেনের মধ্যেও অনেকেই স্যারকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল। হাতকড়া পড়ানো একটা লোকের প্রতি সাধারণ মানুষের এটুকু কৌতূহল তো থাকবেই। তাই না? আমার ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু কুশল স্যারের দেখলাম এসবে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। বরং পুলিশের লোকটাকে দেখে মনে হচ্ছে উনিও যেন খুব একটা স্বস্তিতে নেই।

ট্রেন চলতে শুরু করলে আমি আমার ব্যাগ থেকে টিফিন বক্স বের করলাম। ফিরোজপুরে আমি যে বাড়িতে ভাড়া থাকি সেই বাড়ির মাসিমা আমায় কয়েকটা পরোটা বানিয়ে দিয়েছিলেন। আমি টিফিন বক্স খুলে কুশল স্যারের দিকে বাড়িয়ে দিলাম। উনি বেশ খুশি মনে একটা পরোটা তুলে নিলেন। টিফিন বক্সটা পুলিশের কনস্টেবলের দিকেও বাড়িয়ে দিলাম। ভদ্রলোক প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও খেলেন না। বোধহয় কর্তব্য পরায়ণতা দেখানোর জন্যই আত্মত্যাগটুকু করলেন।

খেতে খেতে আমি কুশল স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ওরা আপনাকে অ্যারেস্ট করল কেন? খুব সিরিয়াস কিছু কি?’

স্যার খুব সহজ ভঙ্গিতে বললেন, ‘না, না, তেমন কোনও ব্যাপার না। খুব সামান্য ব্যাপার। কয়েক দিনের মধ্যেই ছেড়ে দেবে’।

খুবই ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিন্তু আপনি কী করেছিলেন?’

কুশল স্যার আমার দিকে ঝুঁকে বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গেই বললেন, ‘মান-সম্মান চলে যাওয়ার মত কোনও ব্যাপার নয়। সক্রেটিসের মতন মহান শিক্ষককেও আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হতে হয়েছিল’।

আমি খুব অবাক হলাম, ‘তার মানে আপনার কোনও এক ছাত্র আপনার নামে অভিযোগ জানিয়েছে?’

আমার কথা শুনে স্যার খুব বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘ওরা কেন খামোখা অভিযোগ জানাতে যাবে? ওদের জন্যই তো এত কিছু করা। শুধুমাত্র ওদের ভালোর জন্যই’।

ওঁর কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। সব কেমন যেন গুবলেট হয়ে যাচ্ছে। স্যার আমার অবস্থাটা বুঝতে পারলেন। পুরো ব্যাপারটাকে প্রাঞ্জল করার চেষ্টা করলেন। বললেন, ‘আরে বাবা, সিম্পল জাল সার্টিফিকেট কেস’।

আমরা সরকারি স্কুলের ছেলেরা প্রায়শই উপসংহারে ভুল করি। চোখ গোল গোল করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘স্যার, তাহলে আপনার সার্টিফিকেট গুলো জাল?’

স্যার আমার নির্বুদ্ধিতায় খুব বিরক্ত হলেন। মাথা নেড়ে বললেন, ‘আরে, না না। আমার সার্টিফিকেটে কোনও ভুল নেই। ওগুলো ১৯৪৬ সালে লাহোরের একটা ভাল প্রেস থেকে প্রিন্ট করা। ওতে কোনও ভুল নেই’।

প্রেস থেকে প্রিন্ট করা সার্টিফিকেট! সর্বনাশ! কিন্তু এটাও আসল সমস্যা নয়! আমার বিস্ময় উত্তরোত্তর বাড়ে, ‘তবে কোন সার্টিফিকেট নিয়ে সমস্যা, স্যার?’

স্যার খুব নির্বিকার গলায় বললেন, ‘আরে বাবা, যে গাধা গুলো নিজের ক্ষমতায় কোনও দিনও ম্যাট্রিকুলেশনের চৌকাঠ ডিঙোতে পারত না তাদেরকে এতদিন ধরে যে সার্টিফিকেট গুলো দিয়ে এসেছি সেগুলো’।

‘মানে!’ আমার চোখ তখন কপালে। শুধু নিজের সার্টিফিকেটটাই জাল তা নয়, আবার ছাত্রদেরও জাল সার্টিফিকেট বিলোতেন! কুশল স্যারের কর্ম কুশলতায় আমি রীতিমত চমৎকৃত হচ্ছি। খানিকটা ধাতস্থ হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বোর্ডের বদলে আপনি নিজেই ওদেরকে সার্টিফিকেট দিতেন?’ 

নির্বিকার উত্তর, ‘ছাত্রদের জন্য এটুকু তো করতেই হয়, তাই না?’ 

আমি বিস্ময় আর উত্তেজনায় ফেটে পড়ি, ‘তাই বলে জাল সার্টিফিকেট দিতে হয়!’

আমার সমস্ত উত্তেজনায় জল ঢেলে স্যার বললেন, ‘হ্যাঁ, এ আর এমন কী? আরে, কিছুই হত না, কেউ ধরতেও পারত না। গণ্ডগোলটা এখানকার প্রেসের। এত বানান ভুল করে হতচ্ছাড়াগুলো যে কী বলব। আজকাল এদিকে একটা ভাল প্রেস পর্যন্ত নেই। বানান ভুলের জন্যই ধরা পড়ে গেল। নইলে’, কুশল স্যার নির্বিকার বলে চলেছেন। আমার বিস্ফারিত মুখচোখ দেখেই বোধহয় মুহূর্তের জন্য থেমে গেলেন। তারপর বললেন, ‘আরে তুমি এত ভাবছ কেন? এটাও তো ছাত্রদের ভালোর জন্যই করা। ভাব একবার, আমি যদি সার্টিফিকেট না দিই তবে ওরা পাশ করবে কীভাবে? ফালতু ক’টা পরীক্ষায় পাশ করতে পারে নি বলে সারাটা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে নাকি? তবে হ্যাঁ, আমি কিন্তু কাউকে যেচে সার্টিফিকেট দিতাম না। যারা দু’তিন বার ফেল করার পর আমার কাছে আসত তাদের জন্যই এটুকু করতাম’।

আমার খানিকটা অভিমান কিংবা রাগ হচ্ছিল। গম্ভীর গলায় বললাম, ‘তার জন্য টাকাও নিতেন নিশ্চয়?’

‘দেখ, লোভ আমার কোনও কালেই ছিল না। কেউ দিতে পারলে ভাল, না দিতে পারলেও আমি কিছু মনে করতাম না। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের পাশ করানোটা তো আমার একটা কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে তাই না?’

আমি রাগ করব, না হাসব, না কাঁদব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালাম। বাইরের সবুজের দিকে তাকিয়ে আমার আবার ইস্কুলবেলার কথা মনে পড়ে গেল। একবার হিন্দি পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র হাতে অকূল পাথারে ভাসছি। একটা লাইনও লিখতে পারি নি। বুঝতে পারছি যে কিচ্ছু পারব না। চোখ ফেটে জল আসতে চাইছে। এমন সময় দারুচিনি আর লবঙ্গের কড়া গন্ধটা পেলাম। মুখ তুলে দেখি কুশল স্যার দাঁড়িয়ে আছেন ঠিক আমার পাশটিতে। ‘কী হল এখনও শুরু কর নি কেন?’

‘খুব কঠিন, কিচ্ছু পারব না স্যার’, আমি অকপটে বলে ফেললাম।

‘আরে তাতে কী, কিছু একটা তো কর’, বলে উনি আমার কানের কাছে মুখখানা এনে ফিসফিসিয়ে বললেন, ‘কিছু না পারলে কোয়েশ্চেন পেপারটাই টুকে দাও’।

আমি সেবার সত্যি সত্যিই পরীক্ষার খাতায় কোয়েশ্চেন পেপারটাই কপি করলাম। কারণ সময় কাটানোর জন্য আমার আর কিছু করার ছিল না এবং সপ্তাহ দুয়েক পর রেজাল্ট বেরলে দেখলাম আশ্চর্যজনক ভাবে আমি হিন্দিতে পাশ করে গেছি। 

পরীক্ষায় পাশ করে গেলেও মনের মধ্যে একটা গ্লানি কাজ করছিল। একদিন স্যারকে একা পেয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, ‘স্যার পরীক্ষার খাতায় আমি তো কোনও উত্তর লিখতেই পারিনি। তবু আপনি আমায় পাশ করিয়ে দিলেন?’

কুশল স্যার খুব সহজ ভঙ্গিতেই বলেছিলেন, ‘বা রে, পাশ নম্বরটুকু দেব না? কী সুন্দর হাতের লেখা তোমার। তুমি যদি হিন্দি শিখতে পারতে কী দারুন লিখতে বল তো?’

এতদিন আগেকার সেই ঘটনাটা যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য আমার চোখের সামনে ছবির মত ভেসে উঠল। আর ঘটনাটা মনে পরার সঙ্গে সঙ্গেই কুশল স্যারের প্রতি বিরূপ ভাবটা আমার মন থেকে মুছে গেল। মনে হল এই মানুষটিকে চেনা আমার কম্ম নয়।

সামনের দিকে ঝুঁকে কুশল স্যারের হাতটা ধরে বললাম, ‘স্যার, আপনার জেল হলেও বেশীদিনের সাজা তো আর হবে না। আপনি ছাড়া পেয়েই দিল্লিতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনি তো জানেন না আমি হিন্দিতে আজও সেই একই রকম আনপড় রয়ে গেছি। আপনি যদি আমায় আবার হিন্দি পড়ান তবে হয়ত হিন্দিটা শিখে ফেলতে পারব। এর জন্য যা লাগবে আমি খুশি মনে দিতে রাজি। আপনি না বলবেন না’।

আমার কথা শুনে কুশল স্যার হো হো করে হাসতে লাগলেন। গোটা কম্পার্টমেন্ট তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। ট্রেনটা গতি অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছে। বোধহয় সামনেই স্টেশন। কনস্টেবল ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়েছেন। কুশল স্যারও হাসতে হাসতে উঠে পড়েছেন। এই স্টেশনেই নামবেন নিশ্চয়। কুশল স্যার হাসতে হাসতেই বললেন, ‘তোমায় হিন্দি শেখাবো?’ ভাবলাম আমার হিন্দির অজ্ঞতা নিয়ে মজা করছেন।

স্যার করিডোরের দিকে হাঁটছেন দেখে আমিও উঠে দাঁড়ালাম। খুব অনুনয় করে বললাম, ‘স্যার যদি দয়া করে পড়াতেন …’

স্যার তখনও হাসছেন। বললেন, ‘কে বলল যে আমি হিন্দি জানি?’

মনে হচ্ছে আমি আবার গোত্তা খাচ্ছি। বললাম, ‘স্কুলে তো আপনিই আমাদের হিন্দি পড়াতেন!’

ট্রেনটা স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। কুশল স্যার সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বললেন, ‘ধুর, হিন্দি নয়, পাঞ্জাবি। শুদ্ধ পাঞ্জাবি পড়াতাম তোমাদের। আর তাতে তোমাদের কী-ই বা এল গেল। পাঞ্জাবি কিংবা হিন্দি কোনটাই তো তোমরা জানতে না। একটা পড়লেই হল’।

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত