সহজিয়া

অনন্তের প্রতি কোন প্রীতি নেই আমার, নেই স্বর্গলাভের বাসনা।বেঁচে থাকাটাই আশ্চর্য করে আমাকে।জীবনের ছোট ছোট দুঃখ সুখ নিয়ে এই যে দিনযাপন,এতেই আমার চরিতার্থতা।

তা বলে যদি বল, ও মেয়ে,তুই স্বপ্ন কি দেখিস না মোটেই? হেসে বলি,দেখি না আবার?খুব দেখি।আমার স্বপ্নে ফিরে আসে মেয়েবেলার সেই এক্কাদোক্কা ঘর। কিংবা ধর, উঠোনের জমা জলে কাগজের নৌকো।স্বপ্নে আমি আমার নাওয়ের মাঝির সাথে উজানে পারি জমাই, ভাটিতে ঘরে ফিরবো বলে।তোমরা বল,কেন রে মেয়ে, গাঙের নাও কে সাগরে ভাসানোর স্বপ্ন আসে না তোর?আসে নাই তো।ভাটির টান আমায় আমার ঘরের পানে টানে গো।

তোমরা হাসো।ভাবো, জীবনটা বুঝি গেল খরচের খাতায়।তা হবেও বা।হিসেব নিকেশে বড্ড কাঁচা জীবনভর।জমা সুদের হিসেব আজও ঢুকলোনা মাথায়।তাই দুহাতে ওড়াই জীবন।আরো,আরো,আরো।জীবন উড়ে যায়।ছড়িয়ে দেই মুঠি ভরে।আমার জীবনের রঙ এ দিগন্ত যখন রেঙে ওঠে,সেই রঙে রাঙিয়ে নেই নিজেকে,রোজ।

তোমরা বলো বোকা,বলো কাব্যি করে জীবন চলেনা।আমিও তাই বলি।সত্যি।বিশ্বাস হল না বুঝি?চলার পথে নুড়িগুলো কুঁড়িয়ে আনি কোঁচরে,ভাবি মহল বানাবো তাই দিয়ে।মহল বানানো হয় নি এখনো।পিছু ফিরে দেখি রাজপথ তৈরি হয়ে আছে।মহল নাও বা যদি হয়,পথটুকু তো আমারই রইলো,দিনশেষে ঘরে ফেরার জন্যে।তাই বা কম কিসে বল?

তোমরা ভাবছো জানি,পাগলের প্রলাপ।সে তোমরা যাই বলো,পাগল কি সবাই হতে পারে, না হয়?ওগো,এটাও জানোনা,ভালোবাসতে হয় গো পাগল হতে গেলে?এই আকাশ,বাতাস,ভেঁজা মাটির সোঁদা খোশবাই বুক ভরে নিতে হয়।সারা অঙ্গে মাখতে হয় গৈরিক।ভালোবাসার গহীন গাঙে ডুবসাঁতার দিতে হয়।বুকের বাতাস যখন ফুরিয়ে আসবে,হাঁকপাঁক করবে ভেসে ওঠার জন্য,স্রোত তোমায় টানবে আরো গহীনে,বুঝবে এবারে সত্যি পাগল হলে।সেই কবে থেকে অপেক্ষায় আছি গো,পাগল হব বলে।আজও ডুব দাওয়া হল না আমার।

আমার নদীর মাঝি ভাওয়াইয়া গেয়ে যায়।আমি কান পেতে শুনি।সেই সুর মাতাল করে আমায়।আমার বুক কাঁপে।শরীর অবশ হয়।ঘুম পায়।সেই সুর মিশে যায় শরীরের প্রতিটা রক্তকণিকায়।ধাক্কা দেয় স্নায়ুতে।সেই মূহুর্তে আমার সর্ব অঙ্গ সঙ্গীত হয়ে ওঠে।যদি সত্যিই জানতে চাও আমায়,বুঝতে চাও কোনদিন, সেই মুহুর্তে হাত রেখো হৃদয়ের তন্ত্রীতে।দেখো,সেদিন ঠিক শুদ্ধ মালকোষে বেজে উঠবো।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত