যুগল কবিতা

শাড়ি

বহুদিন আগে জনৈক এক কবির
কবিতায় পড়েছিলাম-
“নারীর শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে থাকে দুঃখের পদাবলী আর কষ্টের সাতকাহন।”

আজ অপরূপ সাজে সজ্জিত তোমাকে দেখে
আচমকা পুরনো  সেই কথা মনে পড়ে গেল
আর তখনই উদভ্রান্তের মত এই আমি
তন্ন তন্ন করে দেখতে লাগলাম শাড়ির ভাঁজগুলো আর অশ্রুবদনে ভাবতে থাকলাম-
কবির কথা মিথ্যে হোক, মিথ্যে হোক, মিথ্যে হোক….

অবশেষে বাদল দিনের প্রথম ফোঁটা কদম ফুলের মত
যখন তোমার চোখেমুখে ফুঁটে উঠলো
দিগন্ত প্রসারিত হাসির রেখা
তখনই বুঝতে পারলাম–
দুঃখের লেশমাত্র চিহ্ন নেই কোনখানে।

 

 

সৌন্দর্যের ঘ্রাণ  

সেদিন ভুল করে নাকি ইচ্ছে করে জানিনা
ফেলে গেলে খোঁপার গোলাপ
আমি দেখেও না দেখার ভান করেছি
মিথ্যে বলব না ইচ্ছে করেই বলিনি
খোঁপার  গোলাপের কথা
আমিও তো পারতাম-
যাবার কালে সিনেমার ঢংয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে
গোলাপটি খোঁপায় গুজে দিতে
বিনিময়ে তুমি আলতো করে গালে টোঁকা দিয়ে বলতে-
খুব তো বেশি পেকে গেছো দেখছি!

কিন্তু আমি… হায় আশ্চর্য এক আমি
কী এক মায়াবলে বলতে পারিনি
গোলাপটি যেনো আমার দিকে অপলক তাকিয়ে বলছে
“আমার সৌরভের বিনিময়ে কী তোমার হৃদয়ে স্থান দিতে পারো না?”
আমি সারারাত জেগে থেকে গোলাপটিকে পাহারা দিয়েছি
আর নাকের কাছে নিয়ে শুকে দেখেছি হে প্রিয়তমা-
গোলাপের গন্ধ নয়
আলতোভাবে লেগে থাকা তোমার সৌন্দর্যের ঘ্রাণ।

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত