ড্যাম্প দেয়ালে করণীয়

আজ ০১ অক্টোবর ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সাবিহা কুমু’র জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


প্রতিরোধে

নোনা ধরা দেয়াল ভালো রাখতে ঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের সুবিধা থাকা প্রয়োজন। দেয়ালের ড্যাম্প পুরোপুরি সারিয়ে তোলা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। দেয়ালের পুরনো প্লাস্টার তুলে ড্যাম্প নিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করে তারপর আবার প্লাস্টার করতে হবে। পুরনো দেয়ালে ছত্রাক জন্মালে রং করার আগে তা চেঁছে তুলে ফেলতে হবে। তারপর দেয়ালে অ্যান্টি-ফাঙ্গাশ সলিউশন ব্যবহার করুন। এতে দেয়ালের রং দীর্ঘস্থায়ী হবে। অবশ্যই দেয়ালের বাইরে ও ভেতরে ড্যাম্প নিরোধক রং ব্যবহার করতে হবে। ড্যাম্প দেয়ালে চুন রং ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ছত্রাক আরো দ্রুত হয়। ড্যাম্প দেয়ালে রং করতে সাধারণত চারটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো হলো—

♦ সারফেস প্রিপারেশন

♦ প্রাইমার বা আস্তর

♦ পুটি

♦ রঙের কোট।

সারফেস প্রিপারেশন

প্লাস্টার ভালোভাবে শুকাতে হবে এবং খুব ভালোভাবে কিউরিং হতে হবে। প্লাস্টার করার ৪৫ দিন পর রং করা উচিত। রং শুরু করার আগে যেকোনো ধরনের ড্যাম্প, স্যাঁতসেঁতে, ভেজা বা নষ্ট থাকলে তা ঠিক করে নিন। এরপর পাথর বা স্যান্ডস্টোন দিয়ে ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। প্লাস্টার করা দেয়াল সমতল হতে হবে। সমতল না থাকলে পাথর দিয়ে ঘষে সমতল করতে হয়। এতে আলগা ময়লা বা অন্য কিছু থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুনের পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভালো হয়। এতে প্লাস্টার ভালোভাবে শুকিয়ে যায়। শেষে স্যান্ডপেপার বা শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে নিন।

প্রাইমার বা আস্তর

সারফেস প্রিপারেশন হলে পরে প্রাইমার বা আস্তর দিতে হয়। এক আস্তর দেওয়া হয় এই প্রাইমার। মূলত প্লাস্টার ও রঙের মধ্যে আঠালো সম্পর্ক তৈরি করে এই প্রাইমার। প্রতি গ্যালনে প্রাইমার ৪৫ স্কয়ার মিটার আস্তর দেওয়া যায়। রোলার বা ব্রাশ দিয়ে প্রাইমার দেওয়া হয়। দেওয়ার আগে এই প্রাইমার পানি দিয়ে পাতলা করে নেওয়া হয়। এটি আঠালো সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সারফেসকে মসৃণ করে। এ ছাড়া শোষণক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং রং সুন্দরভাবে ও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে দেয়।

পুটি

কোনো ফাটল বা সমস্যা থাকলে পুটি করা হয়। একে ছিট পুটিও বলা হয়। কমপক্ষে চার দিন এই পুটি শুকিয়ে নিতে হবে। বেশি পুটি যেখানে থাকবে, সেখানে স্ক্র্যাপ করে নিতে হবে। এক গ্যালন প্লাস্টিক পেইন্টের সঙ্গে এক লিটার এনামেল পেইন্ট ও ২৫ কেজি চক পাউডার মিশিয়ে এই পুটি তৈরি করা হয়।

রঙের কোট

রং দুই থেকে তিনবার প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রথম প্রলেপের পর সাত দিন শুকানোর সময় দিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় প্রলেপ দেওয়া হয়। এতেও যদি রং ভালো না হয়, যেমন—পরিচ্ছন্ন না হয়ে ছোপ ছোপ থাকে বা রং হালকা হয় তাহলে দ্বিতীয় প্রলেপের তিন দিন পর তৃতীয় প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রথম প্রলেপের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ ভাগ পানি মেশানো হয়। দ্বিতীয় প্রলেপের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ ভাগ পানি মেশানো হয়। ড্যাম্প, স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা দেয়ালে পেইন্ট করা যাবে না। আর্দ্রতা ২০ থেকে ৫০ ভাগের মধ্যে থাকতে হবে। সরাসরি সূর্যের আলো যেন রং করার সময় না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জেনে নিন

বাইরের দেয়ালকে ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলা করতে হয়। তাই বাইরের দেয়ালে ব্যবহার করুন অ্যাক্রেলিক ইমালশন। দেয়ালের জন্য সাধারণত ডিসটেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্ট এই দুই ধরনের রং ব্যবহার করা যায়। তবে রং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান থেকে জেনে নিন  আপনার কেনা রঙের মেয়াদকাল। সে অনুযায়ী বাড়ির পুরনো রং তুলে নতুন করে রং করিয়ে নিন। সাধারণত পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে বাইরের দেয়াল তিন বছর পর পর রং করা উচিত। ভেতরের দেয়ালের রং সাধারণত পাঁচ বছর পর্যন্ত উজ্জ্বল থাকে। দেয়ালের রং খুব ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে সিলার ব্যবহার করতে পারেন। এতে দেয়াল মসৃণ ও রং দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত