সোনি ওয়াকম্যানের ৪০ বছর

১৯৭৯ সালের ১ জুলাই প্রথম বাজারে এসেছিল সোনির ওয়াকম্যান…

রাস্তায় যেতে বাসে-ট্রামে-ট্রেনে স্মার্টফোনের অ্যাপ থেকে হেডফোনে গান? ব্যাপারটা আজকালকার দিনে যতই মু়ড়কির মোয়া হোক না কেন, আজ থেকে বছর ৫০ আগেও ছিল কল্পনারও বাইরে। নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছে এমন কারও কথাও ধরা যাক। গান বলতে তখন টেপরেকর্ডার। মূলত একটু আকারে ছোট সাইজ়ের টেপরেকর্ডারই থাকত। কিন্তু একেবারেই পোর্টেবল নয়। সেই বাজারে এল টেপডেক! মানে ডাব্‌ল সাউন্ডবক্সের ক্যাসেট প্লেয়ার। বিনোদনের তো এত বাহার তখন ছিল না। টেলিভিশন তখন হাতে গোনা কয়েকটা বাড়িতে। তাও সম্বল সরকারি দূরদর্শনকেন্দ্র। তাই নব্বইয়ের দশকে গানের এলাহি রাজত্বের রাজা টেপরেকর্ডার। সুতরাং, ধরা যাক, রাত্তিরে শুয়ে শুয়ে পছন্দের গান শোনার ইচ্ছে হচ্ছে, কিন্তু উপায় নেই। এইসময়ে খুবই কম হলেও হাতে গোনা কিছু গানপাগল লোকের বাড়িতে একটা জিনিস দেখা যেত। ওয়াকম্যান। সোনি কোম্পানির ওয়াকম্যান যার বাড়িতে আছে, তার মানে তাকে ‘হিংসে’ (হিংসা নয় কিন্তু) করাই যেত, এরকম একটা ব্যাপার। সোনির সেই ছোট পোর্টেবল ওয়াকম্যানে পছন্দের ক্যাসেট চালিয়ে যেকোনও সময়ে বাড়ির বাইরে ট্র্যাভেল করার সময় গান শোনা, গান রেকর্ড করা, এইসব প্রায় ‘স্বপ্নের মতো’ জিনিসগুলো করা যেত। স্মার্টফোনের অ্যাপনির্ভর সংগীতসংকলনের যুগে এখন এসব নস্ট্যালজিয়া ভেবে উড়িয়ে দিলেও সেই সময়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিন্তু ‘রেভলিউশনারি’ ব্যাপারই ছিল। ১৯৭৯ সালের ১ জুলাই প্রথম বাজারে এসেছিল সোনির ওয়াকম্যান। সেইসময়ে জার্মান স্টিরিয়োবেল্ট নামে একটি পোর্টেবল অডিয়োপ্লেয়ার চালু ছিল বাজারে, যেটা পৃথিবীর প্রথম পোর্টেবল অডিয়ো ক্যাসেটপ্লেয়ার। কিন্তু তার দাম ছিল সাধারণের নাগালের বাইরে। সিডির জমানাতেও ওয়াকম্যানের কাটতি কিন্তু কমেনি। ১৯৮১ ওয়াকম্যানের আরও একটা উন্নততর সংস্করণ বের করা হয়েছিল। ২০০১ সালে আইপড, ডিজিট্যাল ডাউনলোড যখন প্রযুক্তিবিশ্বে যুগান্তর আনল, তারপর থেকেই ওয়াকম্যানের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। তা হলেও সঙ্গীতপ্রিয় নস্ট্যালজিক মানুষের কাছে ওয়াকম্যানের ৪০ বছর, একটা মনে রাখার মতো ঘটনাই!

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত