সরোদ ও যুগল ভাবনা

১.

সরোদ ও শ্রাবণরাজা

যে-রোদ অন্ধবেলাতেও সুপুরি গাছের সারির সাথে মিশে থাকে, হরপ্পার মাটি খুঁড়ে প্রেম আঁকে,
বুক অথবা প্রেক্ষাগৃহ কি যায় আসে!
সাড়ে বারোহাত শাড়ির কোল-আঁচলে যে-ভুল ছিল
সে-ভুলে আবার চোখ রেখেছি,যেখানে উৎসব হয় অন্তহীন…
শ্রাবণ-সবুজ আজ দেখিয়ে দেয় হাঁটুর ওপর ত্রিকোণ তিল
আমি শ্রাবণ দেখি। সবুজ দেখি। আর আকাশ দেখি…
আসলে পুরো আকাশটার মধ্যনাম আমি-তুমি…
বুক অথবা প্রেক্ষাগৃহ, কি যায় আসে!
তুমি আর আমি আসলে একটা বিস্তৃত বর্ষা… অভিসারের বর্ষা…অলংকারের বর্ষা…অহংকারের বর্ষা…আলিঙ্গনের বর্ষা… ভেসে যাওয়ার বর্ষা। সরোদে তখন সুর। দূরে কোথাও বেজে যায় বারেবার… ” পরানসখা বন্ধু হে আমার…’
হুহু করে বৃষ্টি ঢুকছে। আমি সব ক’টা জানালা খুলে দিয়েছি। আমার ঘরে-বাইরে শুধু জল আর জল! গহন বনের থেকে তুলে এনেছি পিপাসা। আমাদের রাস্তায় রামদাসি মলহার… আমাদের রাস্তায় নীরবতা। নীরবতা মানেই একটা আয়োজন। আয়োজন, জল-সংসারের। না, আমার নামটা কোথাও লিখো না। কোনও মনে নয়। মন্দিরেও নয়। কোনও মুখরতা? না, তাও চাই না।
আর কোনও বপনের গল্প নয়। বরং তারচেয়ে মুহূর্ত নিয়ে বাঁচে যে-অভিমানী- পথিক, তার সাথে গিয়ে বসা ভালো কোনও আধো আলো-আঁধারে।কোনও সিঙ্গিং-বারে।অথবা ডান্সিং। বরং আমরা দু-প্রান্ত থেকে বাতাসে ভাসিয়ে দিই মানসপ্রতিমা। মুক্ত করি সব। বর্জিত স্বর লাগুক সুরে। কে-যেন বলে গিয়েছিল, ‘হোক-না আরও একটা সমাপতনের গল্প..’ সেই গল্প বলব বলেই জেগে আছি। তুমি ডেকো না। তুমি চুপ থেকো। শেষের শুরু যেখানে, সেখানেই তো প্রথম কদম ফুলের দেয়া-নেয়া, এমন বৃষ্টি বেলায়। এমন খেলায়। আমি আরও কিছু কদম ফুল গুছিয়ে রেখেছি এবার যাকে ফেরাবো, তার জন্য। ঠিক করেছি তাকে কাল ঘুম থেকে উঠেই শোনাবো যে তার নামেই আমার সকাল খুলল আলো। বলব, ‘তোমার নামেই প্রথম শ্বাস পড়লো।‘ গুছনো
কদম ফুলগুলো রেখেছিলাম খোলা আকাশের নীচে। খুব ভিজেছে সারারাত। আরও ভিজবে। আরও একটা বর্ষা না-আসা পর্যন্ত। তারপর, আমি ওদের তুলে দেবো। হাতটা ছাড়িয়ে নেবো মুহূর্তে। আমাকে তোমরা হিসেবী, মতলবি বলবে। বলবে প্রতারক। উড়িয়ে দেবে ইথারে।দিয়ো। আমি ছাদের থেকে প্রায় অনেকটা ওপরে পা-তুলে আর হাত তুলে তাদের স্বাগত জানাব। জাপটে নেবো বুকে। আরও ভিজব বলেই তো আয়োজন। আমার উপাদান চাই। অনেক-অনেক উপাদান। এজীবনের বর্ষা আমাকে পারবে না শান্ত করতে। কাছে-দূরের খেলায় যে-জল দাঁড়িয়ে জমে যায়, সেই জলে কোনও আগ্রহ নেই। তিনশ’তিরানববই জোড়া ঠোঁট এলেও পিপাসা মিটবে না।


আমি তোমাকে আর চাই না। আমি আকাশ ভাঙা বৃষ্টি চাই। আমি স্বপ্নে বৃষ্টি চাই। আমি বৃষ্টিতে স্বপ্ন চাই। আমি তোমাকে চাই না। অথবা আমি তোমাকেই চাই প্রবল। আজকের আষাঢ় বড় অসাড়। আমি শ্রাবণ চাই। একটা বিকেল চাই।যে-ঝড়-ওঠা বিকেল ট্যুইট করবে। স্ট্যাটাস আপডেট করবে এমন বিকেল। তেমন বিকেল , যে- বিকেলের ন্যুড-আর্টে তোমার বিষয় হবো আমি।

যে-বিকেলে গানের ওপারে তুমি দাঁড়িয়ে আছো কারোর জন্য। আমি ব্লু-লেভেল হাতে তোমার দিকে তাকিয়ে।তোমার কবিতায়। এক-একটা সিপে তুমি একটু-একটু করে ভাঙছো। আমি দেখছি আবারও সিক্সটি এমএলে গ্লাস। গ্লাসটা আমার ঠোঁট ফেড়ে একটু-একটু করে ঢুকে যাচ্ছ আমার জিভের কাছে, গলার কাছে। গ্লাসের গায়ে বিন্দু-বিন্দু ঘাম। আরও একটু-একটু করে ভাঙন লিখছে আমার কি-প্যাড আর নির্মোহ-আঙুল। আষাঢ় আর অসাড় নেই। তোমার সাথে-সাথে ভেঙে পড়লাম আমিও।আমাদের সবটুকু ভেঙে পড়া টুকরো জড়ো করে কেউ-কেউ সাজালো তার ঘর।বাগান। আমাদের বানালো শ্রাবণ-মেঘ।

তুমি তখনও দাঁড়িয়ে আছো গানের ওপারে। মেঘের পাশে। আমিও পাশে-পাশে।আমার ঠোঁটে ফাইভ ফিফটি ফাইভ।ভদ্র হয়ে আছে আগুন। ঠোঁটের কথা খুব শোনে। হালকা-নীল ট্রান্সপারেন্ট স্লিভলেস লং-গাউনে আমি ঘিরে রেখেছি পুরো আকাশ আর তার সবটুকু মেঘ।

ভেসে আসছে –
“ ফিরিবার পথ নাহি…দূর হ’তে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়,
হে বন্ধু, বিদায়…”
মধনামে ভুল-আঙুল ছিল। পাঁচ-নম্বর পেগে ডুবিয়ে দিলাম। এবারে ওপার থেকে বিদ্যাপতির ক’লি নিয়ে রিমঝিম সন্ধ্যা। আবার একটা অধ্যায়। গিটারের স্ট্রিং নিয়ে কমলাকান্ত, স্মৃতির কোণ ছিঁড়ে। কোণ বদলালে বদলে যায় কতকিছু। ভুল-আঙুল অমরত্ব পায় তানপুরার সা পা সা-য়। কোণ বদলালে তুমি আর আমার প্রেমিক,অপ্রেমিক কিচ্ছু থাকো না। সাকিন সময় আঙুলে রাখে আঙুল। আমি আর দেখি না তোমায়।অথবা আমি ভীষণ দেখি তোমায়। বাইরে এখন খুব বৃষ্টি। বাইরে এখন মধ্যরাত। ‘যা যা রে আপন মন্দর-বা… শুনহ হো সদা রঙ্গ তুমকো চাহত হ্যায়, কেয়া তুম হামকো ছগন দিয়া…’ বাইরে এখন ‘তোরে বিনা লাগে না মোরা জিয়া…’ বৃষ্টিপাত…মধ্যরাত….এমন সময় দরবারি আর ধরো না গো…
শ্রাবনরাজা আসছে বিপুল তরঙ্গ নিয়ে। সব কিছু দুলছে। সংসার পা সা নি ধা পা মা গা রে সা-য়। সংসার নাচছে। চারিদিকে বিপুল তরঙ্গ। সম্মোহনী তর্জনী ছুঁয়ে আছে ‘বর্ষামঙ্গল’…
শুধু মৃত-নদী কেবল তাকিয়ে থাকে আলবামের দিকে…
সাড়ে বারোহাত শাড়ির কোল-আঁচলে যে-ভুল ছিল, সে-ভুল মৃত নদীর ঠোঁটে রেখেছে ঠোঁট ও জখম।
নদীটি শ্রাবণরাজাকে তারপর থেকে রোজ জল দেয়। বড়ে গুলাম আলি শোনায়। আমজাদ আলির সরোদ শোনায়, “শেষের কবিতা”-ও শোনায়।
মেঘ-প্রদেশ থেকে নেমে আসি। বারোহাত শাড়ি প্যাঁচ ক্রমশ আলগা হচ্ছে… “বহে মম শিরে-শিরে, এ কি দাহ কি প্রবাহ…” জলসিঁড়ি ভেঙে আমি নদীর কাছে আসি। ভুর্জপত্র-এ নদী লিখে যায়, কেবল লিখে যায় এজীবনের সমস্ত সংলাপ । বাইরে তুমুল ঝড়…মধ্যরাত…বৃষ্টিপাত। আরও একটা অভিসার…আরও…
শ্রাবণরাজা ও বৃষ্টিপ্রেমী হেঁটে যায়। শুধু বদলে যায় পথ…

‘হে ঐশ্বর্যবান
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান,
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়।’

.

প্রকাশিত অরণ্য-গান ও সরোদ

মেঘের বুনোনেই একদিন শ্রাবণ রেখেছিলাম , সেই গতজন্মের সবুজে… বনদুর্গার ভিতর গেঁথে রাখা ছিল যে-চাওয়া, সে-চাওয়া বরণ হল পাখিদের বাগানে….তুমি সমস্ত পাখি তুলে দিলে দু’হাত ভরে! আশ্চর্য টেনে নিয়ে গেল পুরাকালের ধুলো ছুঁয়ে…চঞ্চলতায় চকচকে সোনারঙের বিভোর জড়িয়ে কী করে ভুলবে হরিণী, বিন্দু-বিন্দু ঘুমজুড়ে দেওয়া প্রিয় হরিণকে!ফিরিয়ে দেওয়া ঘামে আঁচড় কেটে লিখি বুনো জোছনার গয়না খোলার কথা… সমস্ত অস্থির জুড়ে যে-তীব্র , তাকে লুকিয়ে রাখতে চেয়ে ফেরার হলাম!শ্বাসের সহস্র -পরাগ প্রতিটি পাতা ছুঁয়ে ফিরে আসতো যখন আমাদের ঘরে, যখন হরিণকে সম্রাটের মতো সাজাবো বলে সমস্ত উপেক্ষা করে তুলিতে তুলে নিলাম আদর, ঠিক তখনই কথার-কথাগুলো প্রজাপতি হল!একটার পর একটা পৃষ্ঠা নির্জনে গুছিয়ে ফেললো আত্মজীবনী! হরিণী গড়ে উঠতে দেখলো, এক-একটি দুর্ভেদ্য নগর!
তার চোখে শতাব্দীর বিষাদ। আড়াল থেকে চোখভরা জল নিয়ে ময়ূর দেখে।বিরহ-সন্ধ্যার যাতায়াতে কাজল ধুয়ে যায়।
চুম্বনে গাঢ় হয় সবুজ বৃত্তান্ত।পাতার গায়ে ভেজা ফেরোমন আমরা দেখেছিলাম কাব্যসন্তানের বীজ শরীরে নিতে-নিতে! বাকলে-বাকলে অপেক্ষার টিপছাপ।

তারপর বেগানা বাঁশি ঠোঁটে নিয়ে মারবাঁ রাগে ভুলগুলো খসে পড়ে ফুল হয়। মাটি আলগা হয় নাকছাবির ধারালো দ্যুতিতে। বেরিয়ে আসে আলগা হওয়া মাটি ভিজিয়ে লেবুফুলের ঘ্রাণ ও বিস্ময়… আমি গান হতে- হতে, পাখি হতে থাকি ক্রমশ…
তারপর?

তারপর বাতাস বসে সেখানে… আমি দুব্বো-ধোওয়া পাখায় তাকে বরণ করি… বাতিঘর হিলখিলিয়ে হাসে…. অনন্ত মুদ্রায় আমার তেজপাতা অরণ্যের সই সব! শরীর সরোদ হয়…মারবাঁ ফুসফুস লুট করে ফেরার কবেই, বেজে ওঠে মেঘমল্লারে… বাতাসের আলপনায় হেঁটে যায় বাতাস সদর দরজা ঠেলে… তারপর…

  „

গাঢ় বাদামি মায়ায় গাছ-মানবী লেপা উঠোনে আলপনার সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে আগামী বসন্তের কুহকিনী সংলাপ।
আর প্রতিটি আশ্বাসের পদচিহ্ন সেঁটে দিচ্ছে লাখো মুখের কপালে কপালে… আগুন ফেরার হলে, ঠিক এভাবেই তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল যাবতীয় ভুল সরিয়ে! মনে পড়ে আজও কী নিবিড়ে পুড়তে থাকা আর গলে- গলে পড়া ঘনশ্বাসের নিবিড় চলাচল! তারপর আর মনে পড়ছে না। সব কেমন অস্পষ্ট। দিন-রাতের তফাত বোঝা যায় না। ঠাণ্ডা -গরম সব-সব একরকম! বড্ড বেশি অচেনা সব আজকাল! স্বপ্নও আসে না আর,আগের মতো।
তারপর এক দূরতর দ্বীপ হয়ে যাওয়া।
হাওয়ার পালকি দুলিয়ে দেয় আচ্ছন্ন পরাগ। সমগ্রজুড়ে জলজ-সন্ন্যাস লেখা থাকে গলার ভাঁজেভাঁজে…
শুধু কে-যেন পড়ে ফেলে সব কেমন এক অলীক মায়ায়।
‘পিউকাঁহা-পিউকাঁহা’-গাইতে-গাইতে ফিরে যায় যখন বৃষ্টি নামের একটি তারা, তুমি তখন পুনর্পাঠে মগ্ন। আমার চোখ বুজে আসে। চোখের ভেতর শিবরঞ্জনী তোমায় আঁকে। আর আমি দেখি,বৃষ্টি নামের এক তারা। যার ডাকনাম সন্ধ্যা…

তুমি বলেছিলে চারিদিকে শ্বাপদ। সাবধান। রাতগন্ধে মাতোয়ারা ধারাবাহিক জল ও যমুনা। আমি তখনও ময়ূরের চোখ দেখছিলাম। শুনছিলাম মাদকাসক্ত হরিণির সলিলোকি। ভীষণ ইচ্ছে করছিল সেই আল্ফাজ ছুঁয়ে দেখতে! অনেক কিছুই তো ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। হঠাৎ কোনো সদ্যজাত শিশুর পা-দুটোকেও দেখলে, টেনে ওই পা-দুটো গালে ছোঁয়াতে ইচ্ছে করে তীব্র! তেমনি… হরিণীর স্বগতোক্তি এবং বিচ্ছিন্ন শব্দদের আমার সারাশরীর দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে সাধ হচ্ছিল! আজকাল, ইচ্ছেগুলোও কেমন সুবোধ-বালিকা হয়ে উঠছে! ইচ্ছেপূরণ না-হলেও খুব বেশি ব্যথা আর কোথাও লাগে না! শুধু কী তাই, নিন্দে শুনলেও, বড়োই উদাসীন! কোনো রেখা থাকে না আর। আগে ভারী হয়ে যেতাম। বড্ড ফুরফুরে এখন। আবার পুতুল খেলার নেশাটাকে সেদিন নতুন করে প্রশ্রয় দিয়ে ফেললো একটি ডায়েরির প্রাচীন কিছু পঙক্তি! গোপীনাথ জিঁউকে লেখা একান্ত কিছু উচ্চারণ ” তোমার প্রতীক্ষাই আমার ভজন হোক। যেন ভুলে না-যাই প্রতীক্ষায় আছি গোপীনাথ! অভিমান করবো কোথায়? কেই-বা অভিমানের মান দেবে! তাই তোমার কাছে এসে-বসে কাঁদি।মানুষের কাছে যাইনে।” আমাকে যেন আবার পুতুলখেলার ইচ্ছেটা জাগিয়ে দিল, অগোচরেই!”তাই তোমার কাছে এসে -বসে কাঁদি, মানুষের কাছে যাইনে।-এর ভেতরই সব বলা আছে! আমিও যেন বুঝতে পারছি, আমিও তো এই কথাগুলোই খুঁজছিলাম। কিন্তু বলার মতো প্রজ্ঞা ছিল না আমার!ওদের আমি কতটা বুঝি , ঠিক জানি না। তবে ওরা আমায় বোঝে! আমি পুতুলঘরেই বেশি থাকছি এখন। ওরা অনেকটাই বাবার মতো। মায়ের মতো। অসংযত সুখের চেয়ে, সংযত কষ্ট ঢের ভালো!

গন্ধম ফলের ইতিহাস, ঝাপসা হয় ছত্রে-ছত্রে। দীর্ঘ ছায়ার মতো, মায়ার মতো আমিও তখন এক ঘুম-গ্রাম। দিগন্ত থেকে দিগন্তের পর্দায় আলো ফেলে-ফেলে প্রজেক্টর তখনও দেখিয়ে চলে হরিণীর গলার নিবিড় ভাঁজ আর ময়ূরের চোখের জল…

  „

আমি স্পষ্ট দেখছি হরিণীর আকুল গ্রীবার সিঁড়ি বেয়ে ময়ূরের চোখের জল এক-পা- দু’পা করে মেঘের কাছে যাচ্ছে, আরও এক নরম শ্রাবণের অপেক্ষায়…
ঝমঝম শব্দে যখন বন বেজে ওঠে মেঘের কাঁকন পরে… বোহেমিয়ান আঁচল উড়ে যায় কোনো আশ্রয়হীন পাতা গিঁট দিয়ে, তখন বিপুল তরঙ্গে দুলে উঠি আমরা! বাতাস বসে সেখানে।চুম্বনে গাঢ় হয় সবুজ বৃত্তান্ত… আমরা খুলি যাচ্ছি। খুলে যাচ্ছে সতর্ক। যে-পাতাটা এতক্ষণ জোড়া সরস্বতীর আই-মেকাপ করছিলো, তার সারাশরীরে ভেজা দুব্বোর গন্ধ! মুদ্রা অনন্ত হলে চিরচেনা লাগে সব! সমস্ত নিষিদ্ধ পিচ্ছিল করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে! মাটি আলগা হয় নাকছাবির ধারালো ইশারায়… সরোদের মতো বেজে উঠি। রক্তাক্ত আঙুল ‘হৃদয়’-লেখে! গাঢ় বাদামি মায়ায় গাছ-মানবী শুনিয়ে যাচ্ছিল আগামী বসন্তের কুহকিনী -সংলাপ… আর প্রতিটি আশ্বাসের পায়ের ছাপ সেঁটে দিচ্ছি আমারই মতো লাখো মুখের কপালে-কপালে। আগুন ফেরার হলে,ঠিক এভাবেই তো ফিরিয়েছি আমাদের বারবার! আপ্লিকের পর্দার মতো সুন্দর -ভুলগুলোকে ফুল করেছি। কী নিবিড়ে পুড়তে থাকলাম আর গলে গলে পড়লাম ঘনশ্বাসের নিবিড় চলাচলে… তারপর শুধু তাকিয়ে দেখা বৃষ্টি নামের একটি তারা… যার ডাকনাম সন্ধ্যা…

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত