| 15 জুলাই 2024
Categories
দুই বাংলার গল্প সংখ্যা

ডানায় বাহানা

আনুমানিক পঠনকাল: 12 মিনিট

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.comপাতা আর শেকড়ের অন্তর্গত সম্পর্কের মধ্যে বিস্তারিত টানাপোড়েন কত দীর্ঘ এই ভাবনা নিয়ে খেলতে খেলতে জানালা দিয়ে পেছনের বাগানে ঝকঝকে বিকেলের অলস চলে যাওয়া আর জাল গোটানো কালো সরু সন্ধ্যা নামা দেখি একেক দিন। বিকেল বেলা কেন আর আগের মত কোথাও যাই না সে প্রশ্ন খুব সহজেই করা যায় কিন্তু তৃতীয় কোন মানুষ না থাকলে আমরা পরস্পরকে এড়িয়ে যাই। টুপ্পুসকে তৃতীয় মানুষ হিসেবে ভাবা আমার জন্য দিনকে দিন দূরহ হয়ে উঠছে, দুজনে পরস্পরের কাছে পোষ মেনে যাচ্ছি।

আগে স্কুল থেকে এসে হাত ধরে টানতো পার্কের দিকে, তারপর না যেতে না যেতে ওর জেদও পোষ মানা পাখির বাচ্চা। এখন জামা কাপড় বদলে দুধ খেয়ে নিজের ঘরে প্লে ষ্টেশনে বসে যায়। আবার কোন কোনদিন দশ বছরের তুল তুলে লালচে চুলের মেয়েটি বয়স্ক মানুষের উৎসাহে গল্প শুনতে চেয়ে আমাকে আর ছুটি দেয় না।

কত গল্পই তো মনে আসে, কিন্তু ও শুধু আমার নাম বদলের গল্পটা শুনতে চায়,-“ওইখান থেকে বলো, দ্যা মরনিং ইউ ফাউন্ড আউট যে তোমার নামটি আর তোমার নেই”। 

কি কুক্ষণে যে বলে ফেলেছিলাম, এই গল্প ওকে ভোলাই কি করে? ধানাই পানাই করি প্রসঙ্গ পাল্টাতে। এক সময় রণে ভঙ্গ দিয়ে ও গেম নিয়ে বসে গেলে আমি ছুটি পাই। কে যে আসলে ছুটি পাই! আমি তখন আমার রাজ্যের নাই কাজ নিয়ে পড়ি, নাই কাজ মানে দেশে ফোন করি, গল্প করি খালার সঙ্গে। এখানকার কাজের লোকের খবর দিই। নাইরোবীতে কাজের লোকের বিকেল পাঁচটায় ছুটি। তারা হয় তাদের কোয়ার্টারে চলে যায় নয়তো বাসে করে ডাউন টাউনে ক্লাবে গিয়ে নাচে, বিয়ার খায়। সিনেমা দেখে ফিরে আসে রাতে। কখন ফেরে কি দরকার সে খোঁজে?

বিকেল বেলা তাই আমার নিজের সঙ্গে দোলাচলের সময়। তার বাইরে, আসিফ অফিস থেকে ফিরে আসার আগে অথবা যখন আসিফের মা মেয়েদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে নিউজার্সি বা মেলবোর্ণ চলে যায়, তখনো আমি পোষা ডাহুক, কিচেন কাউন্টারে দু তিন দানা লবণ সাফ করতে ক্লিনার লিক্যুইড স্প্রে করি, হাতে গ্লাভস পরে নিই। আসিফ শুচিবায়ুগ্রস্থ ব’লে ক্ষ্যাপায় আর বলে যে এটা একটা কমন অসুখ, এত কমন যে কেউ একে অসুখ বলে গোনায় ধরে না। আসিফের কথার জবাব দেই না। না দেয়া অভ্যাস ক’রে ফেলেছি, কিন্তু এ কথাতো মিথ্যে না যে আমার শুধু হাত ধুতে ইচ্ছে করে, নইলে হাতের তালুতে আঠা আঠা বিশ্রী একপ্রস্থ নেইল পলিশের মত অনুভূতি সেঁটে থাকে। আসিফকে বলি না এসব, কি কথায় কখন খেঁকিয়ে উঠবে। সেদিন যেমন কাজের লোকের সামনে কফির কাপ ছুঁড়ে দিল কপাল বরাবর, কি কারণে তা আমি কাউকে বলি না। বলবো না কোন দিন।

আরেকদিন, কি যেন করছিলাম, সিডি প্লেয়ারে ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’ বাজছিলো। টুপ্পুস নীচে। পায়ে ছন্দ চলে এসেছিল, মনে মনে ফিরে গিয়েছিলাম ঢাকার বৃষ্টিতে। হঠাৎ রেনা, আমাদের মেইড চিৎকার দিলো- টুপ্পুস তার হাতের শিরা কেটে ফেলেছে। রক্তে ভিজে গেছে লিভিং রুমের শাদা নরম কার্পেট। টুপ্পুসের স্কুল নোটিস আমি দেখিনি। আসিফ আর ক্রিস্টিন ফোনে ঘন ঘন আলোচনা করছে। সাইকিয়াট্রিষ্ট, থেরাপিষ্ট, কাউন্সিলর এসব শব্দ অনুসরণ ক’রে বিষয়ের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করি। শুকিয়ে সে যাচ্ছিলই, পরে জানা গেল অনেক দিন হয় সে লাঞ্চ খায় না, ফেলে দিয়ে মিথ্যে কথা বলে, আর বাথরুমে গিয়ে কাটা কম্পাস দিয়ে হাত পায়ের কচি নখ খুঁচিয়ে রক্ত বের করে। 

টুপ্পুসকে হাসপাতালে কেন নিয়ে গেলাম, কেন বাসায় ডাক্তার ডাকিয়ে আনলাম না-, সেই অপরাধে সাব্যস্ত হলো যে আমি মেইডদের সঙ্গে আসিফের সোনার পিঞ্জিরায় পুরো শনি, রবি দুই দিন দুই রাত কাটাবো। কড়া নির্দেশ, আমাকে মালিক পক্ষের একজন হয়ে থাকতে হবে, মানে একা থাকতে হবে।

প্রথমে আমার বিশ্বাসই হয়নি, যে সত্যি সত্যি আমাকে রেখে সবাই জাঞ্জিবারে ছুটি কাটাতে চলে যেতে পারে। গেটের কাছে দাঁড়ানো কাজের লোকের বিস্মিত দৃষ্টি পাত্তা না দিয়ে আসিফ খুব স্বাভাবিকভাবে– বাই বাই ব’লে, চিবুকে চুমু খেয়ে চলে গেল! দুঃস্বপ্নে আমার ঘুম হলো না। দেখলাম এক নগর ধ্বংসাবশেষ একা হেঁটে হেঁটে পার হচ্ছি। সকালবেলা, বারান্দা থেকে দূরের পাহাড়ের ঢালে বেড় না পাওয়া বাউ বাউ গাছগুলোর নত ভঙ্গি দেখতে দাঁড়িয়ে থাকলাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারপর থেকে বার বার মিথ্যে বলে কোন কথাকে সত্যি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অভ্যেসটা রপ্ত করে ফেলেছি। খুব পরিশ্রম হয়, ক্লান্ত করে ফেলে। 

অভ্যাসটার শুরু কিন্তু বিয়ের মাত্র দিন পনেরো বাদে, বিদেশে আসার ছাড়পত্র জোটাতে গিয়ে, যার আদালতি নাম- ম্যারিটাল মাইগ্রেশান। মাইগ্রেশানের কত রকম ধরণ- তার মধ্যে এটিকে আমার খুব বাহারী মনে হয়, বিয়ে করে প্রবাসী হওয়া। নিজের খাটাখাটনি নেই, স্বামীদের বরাতে মানচিত্র পাড়ি দেওয়া। প্রাপ্তির ঝুলি ভারি হতে হতে পিঠ বেঁকে গেলে টের পাই কত  পেলাম! -একদিন একথা আসিফের বন্ধুদের আড্ডায় মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম, আসিফ আমার দিকে চেয়ে প্রশ্রয়ের এমন হাসি হাসলো যে আমি নিজেকে চটজলদি খোলসবন্দী করে ফেললাম, এ কাজটা আমি ভালোই পারি। এখানের বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে নিতে বুকের ভেতর যে বোঝা আমি বয়ে বেড়াই, সে কথা এখানে ব’লে লাভ কি? ওরা যা বলে আমি সায় দিই আর সেই সঙ্গে চিকেন উইংস, টুকরো চীজ বা আভাকাডোর ডিপ সার্ভ করি। বীয়ারের গ্লাস আর শাদা ওয়াইন সন্ধ্যাকে আরো ধীর গতির ক’রে তোলে, আর সেইসঙ্গে সবার মুড দ্রুত চাঙ্গা হতে থাকলে সবাই যখন আমাকে- “সামিয়া তোমার স্মোকড বীফ এর রেসিপিটা আমাকে ই-মেইল করে দিও… সামিয়া তুমি এই সেক্সি ব্লাউস কোত্থেকে কিনলে? শপিং এ এরপর একলা গেলে কিন্তু সত্যি সত্যি খবর আছে… সামিয়া ডারলিং ইধার আও” … আমার তখন এত ক্লান্ত লাগে যে, না ডুব না উড়ালের মধ্যের ভাসানটাতে যেতেই হয়। মনে মনে একটা চৌকো থালায় শুয়ে ভাসি যেমন ভাসছিলাম চারপাশ তুচ্ছ করে, তখন কি এমন ছিলাম, গা মোছানো শুকনো খটখটে আগপাশতলা নিয়ে এক ফোটা বুদবুদ, উড়ছিলাম, যেখানে আমার শোলকগাঁথা পূর্বপুরুষের কথোপকথন বাতাসে ভাসতে ভাসতে বেশ একটা দেখনদারী প্রতিকৃতি নিয়ে নিচ্ছিলো। আমি উড়তে উড়তে পড়ে যাচ্ছি, আর সেই পতনোন্মুখ উড়ান আমাকে এনে ফেলেছে সেই ভূমিতে যেখানে পা ফেলতেই আলগা হয়ে গেলো মাটির শরীর আর কী ভীষণ আতিশয্যে জড়িয়ে ধরে দাপুটে এক চুম্বন দিয়ে আমার মত একফোটা জলবিম্বকে বহতা নদী ক’রে দিলো! আমার শরীর হয়ে উঠলো তেজী খরস্রোতা এক নাচের ভঙ্গী।

একথা শুনলে সবাই ভাববে আসিফ বুঝি আমাকে দাগী আসামীর মত রেখেছে। না, ও ভালোও বাসে। ভালোও বাসে, ভালো ও… একটা বাড়তি ঢেউ আছে আমার বলার মধ্যে। আমি নিজেই টের পাই। ঢেউ থাকার কথা ছিল কি? পার্টি টার্টি হ’লে, ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার ধীর লয়ের সঙ্গে, নাচে আসিফও যোগ দেয়। সে মাতাল হয় না, হলে বাচাল হয় না, বাচাল হলেও বেসামাল হয় না, আর বেসামাল যদি কখনো হয়, তাহলে আমাকে নিয়ে পড়ে-“সামিয়া, তোমার ফিগার দিন দিন এত ভালো হচ্ছে যে মাথা ঠিক থাকে না। সামিয়া, শাড়ি এভাবে পড়বে না… নাভির আরো নিচে, কোমরের খাঁজ দেখতে চাই… বুক খোলা ব্লাউজ বানাও না কেন আরো… বন্ধুরা থাকলে এত জড়সড় হওয়ার কি আছে? … ওরাও একটু ভাগ পাক, হা হা হা… আমি একা একা তোমাকে দেখি, আমার বন্ধুদের জন্য আফসোস হয়, ওদের বৌদের অবস্থা দেখেছো? তোমার জন্য ওদের লোভ ঠিকই টের পাই আমি”। 

প্রশস্তি কি আমার গায়ে, চামড়ার নিচে চাই চাই বরফের স্তর তৈরী করে? আমার রাগ হয় না কেন? তারিফ দিয়ে ভেতরের অন্ধকার তাড়াতে চেপে থাকা ভারের তুলো উড়িয়ে দিতে চাই কি? বেসামাল আসিফের মনযোগে আগে আমার গা গোলাতো, এখন অনেক কিছু পারতে হয়, না হ’লে আমার বড় হয়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে খোঁটা দেয় সে। নিজেকে সামলে নিতে পারলে দেখি আমার শরীর সাড়া দেয়- আস্তে আস্তে শুধু সাড়াই দেয় না, এ রকম সন্ধ্যার জন্য আমি সতর্ক খরগোশের মত উৎকর্ণ থাকি। কিন্তু পরদিন শাশুড়ির মাস কাবারি রোজার ইফতারি বানাতে গিয়ে নিজেকে এটোবাসন ধোয়া পানি ভর্তি বাথটাবে আবিস্কার করি। আমি তখন ইচ্ছে ক’রে আবারো সীমাবদ্ধ কথার মাপা দিনে চলে যাই, যেখানে আমার নাম বদলে গেছে।

আমি উড়তে ভালোবাসি একথা ওরা সবাই জানতো কিন্তু তারপর আমি কখন, কেমন ক’রে সামিয়া হয়ে নিজের গায়ে গজানো পাখা নিজেই মুচড়ে ছিঁড়ে ফেলছি, কি জানি। সামিয়া বলে ডাকলে আগের মত চমকে উঠিনা বা আর কাউকে অন্য কেউ ডাকছে বলে অন্যমনস্ক ঘর ছেড়ে চলে যাই না। এখন জানি এ আমারই নাম, নিজেকে শুধরে দিই,- শুধু আদ্যাক্ষর পালটে গেছে। কিন্তু যে মুহুর্তে নাম পালটে গেল, আমি সেই যে শূণ্যে ভাসতে ভাসতে আমার অতীত কাল আর তার শিখরের চিত্রাবলী প্রায় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, শুনতে পাচ্ছিলাম অদৃশ্য গম্ভীর কন্ঠস্বর। আমার না পাল্টানো নাম ধরে প্রাগুক্তকালের কেউ হয়তো ডেকে উঠতে যাচ্ছিলো, সেই সময়ই আমার পতন হলো।

খালামনিরা একে ঘুণাক্ষুরেও পতন বলবে না, ওদের জন্য তো এ কেবল উর্ধ্বপানে যাওয়া, যেখান থেকে নেমে আসা নেই। ওদের কাছে আমি সপ্তর্ষি মন্ডলে মিলিয়ে গেলেও কিছু যায় আসে না, ওরা আমাকে কোলে পিঠে ক’রে ডানা গজিয়ে দিয়ে খুশী, আর কিইবা করবে। শাদা কালো ফ্রেম থেকে মা যখন ওদের সঙ্গে সুখের হাসি হাসে, আমি ভরসা পাই। সেই ভরসাতেই ভার্সিটি থেকে ফিরে কাপড় ছাড়ি, বাথরুমে সিমেন্টা বাঁধাই চৌবাচ্চার ঠান্ডা পানি ঢেলে জ্বলতে থাকা ত্বক শীতল করি। নাভীর সমান্তরালে চারপাশ ঘিরে অনভ্যস্ত সিল্কের শাড়ি গুজে গুজে খালা যখন পরিয়ে দেয়, আমার শরীর শির শির করে। কোমরের কাছে মসৃণ ত্বককে নিজের কাছে শ্যাওলার পুকুর মনে হয়, ইচ্ছে হয় নিলাম ডাকি- “কে ডুব দিতে চাও এসো?” সবচেয়ে বেশী দাম হেঁকে কোন ফেরীওয়ালা যেন ফিরে না যায়, আমি তাই হিল জুতোয় শাড়ির কুচি জংঘার কাছে হাতে চেপে ধরে রেস্তোরার সিঁড়ি বেয়ে উঠি, যেখানে আসিফ অপেক্ষা করে, ওর আরো কেউ কেউ অপেক্ষা করে। ভেতরে উড়ে যাওয়ার স্ফূর্তি টের পাই, ডানা দুটো একটু একটু বড় হচ্ছে, দেখি। খালা অবশ্য সিএনজিতে আসার পথে বলে যে আমার ডানা দুটো এখন খুলে রাখার সময় এসেছে, অথচ আসিফের নাকি ডানা দুটোই ভীষণ ভালো লেগেছে। খালা বলে –“এত ভালো প্রফেশন আসিফের, বলতে গেলে রাজরাজরা! ডানা যে কেন ওর পিঠে গজালো না”! প্রকৃতি কত রকম করে তার দান ওল্টায়- এই রকম না সান্তনা, না আক্ষেপের মাঝামাঝি কথা বলে খালামনি চুপ ক’রে গেলে আমি কিছু কিছু ভবিতব্য বুঝেও বুঝিনা।

টুপ্পুসের ঘুম পেয়েছে, তাকে শোবার ঘরে দিতে এসে আমি অনেকক্ষণ নিচে নামি না। পার্টি, হৈ হুল্লোড়ে আমাকে আর কে খুঁজবে? বেডরুমের ওয়াক-ইন ক্লজেটে হ্যাঙ্গারে ঝোলানো শাড়ি, স্কার্ট আর শালোয়ারের পেছনে আমার একটা ঝোলা, ইউনিভার্সিটিতে কাঁধে ঝুলিয়ে ঘোরাঘুরির দিনে বড় আপন, কাছের সঙ্গি। সঙ্গে আনবার দরকার ছিল না, কিন্ত কে যে আমার ঘরে পরার স্যান্ডেল আর নাচের ঘুঙ্গুর জোড়া ভরে জড়িয়ে মড়িয়ে দিয়েছিল। যখন আমি পুরোদস্তুর অভিনেত্রীর মত মিথ্যে বলা আয়ত্ব করে ফেললাম তখনো, আসলে নতুন নতুন তো, অনুশোচনায় কাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদবো এমন কথা ভাবতে ভাবতে মেঝের ওপর খোলা স্যুটকেসের পাশে প্রিয় ঝোলা ব্যাগের ভেতরে দেখি আমার উত্তাল হবার পসরা! অবচেতনে ভয় হয়তো ছিল, নইলে আমি কেন তড়িঘড়ি ডানা জোড়াকে ক্লজেটের নিরাপদ কোনে জায়গা করে দেব? সুযোগ পেলেই আমি ডানাদুটো বের করি, জানলা দিয়ে আকাশে তাঁকাই, যেখানে এক দিন বুদ বুদ হয়ে উড়তাম, ডানার আশ্রয়ে নেই বলে সে উড়ানের স্মৃতি ক্রমশ কি ক্ষীণায়ু হচ্ছে? আমিতো আবারো উড়তে চাই। নিজের কথা নিজের কাছেই কেমন আনকোড়া শোনায়। তাও ডানাদুটোকে উড়ানের জন্য ঝেড়ে মুছে তৈরী করি, দুই হাত মাথার ওপরে জমিয়ে স্থির করি- ঠিক এ সময়ই আসিফ দরজায় ঠক ঠক শব্দ করে আমাকে ডাকে। চোখের আড়াল হলে ও আমাকে ঠিক খুঁজে বের করবে। এমনতো না যে আমাকে দিয়ে ওর সকল বাসনারা প্রাণ পায়, আমি ঘর অন্ধকার করে বসে থাকলে ওর কোন মাথা ব্যথা নেই, কিন্তু ওড়ার জন্য ডানা জোড়া আড়মোড়া ভাঙ্গতে শুরু করলেই কেমন করে যেন ও টের পায়।

টের পায় না শুধু টুপ্পুস, ওর কানে সবসময় আইপডের বোতাম গোজা। যখন কান বন্ধ থাকে না তখন ও কি যেন ভাবে, মায়ের কথা হয়তো। দশ বছরের জীবনের ভাবনার বৈচিত্র্য আমি আমার কৈশোরে ফিরে গিয়ে গিয়ে বোঝার চেষ্টা চালাই। খুব একটা মেলে না। আমার শৈশব, আহ, কারো সঙ্গে কি মেলে আর কারো শৈশব কৈশোর! 

টুপ্পুস হয়তো ভাবতে পারে যে আমার সঙ্গে ওর ভাব হবে না, আমিও যেমন ধরে নিয়েছি। যতইনা ওর বাপ আমাকে কলমা পড়ে সাক্ষী সাবুদ ডেকে বিয়ে করে নিয়ে আসুক না। আগে খুব ইর্ষা নিয়ে ভাবতাম যে আসিফের মত প্রফেশনাল আর আয়েশী জীবন যাপন নিয়েও ক্রিষ্টিনের সঙ্গে কেন বনিবনা হলো না। শুরুর দিকে আসিফের আমেরিকান এক্স-ওয়াইফকে দেখলে আমার কী যে বিষগেলা কষ্ট গলা অবধি উঠে আসতো। কেন আমি ততটাই জানলাম যা না জানলেই নয়? আসিফ আরো বিশদ করে ক্রিষ্টিনের কথা বললে আমি কি করতাম, তাও তো জানি না। ক্রিষ্টিন ফোন করে আসিফকে চাইলে কোন মতে “হোল্ড অন” বলে আসিফকে ডাকতে আমার পাক দেয়া কষ্ট মুচড়ে মুচড়ে বুকের কাছে এসে জমে থাকতো। দরজার পাশ ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকতাম, আসিফের কন্ঠস্বরে আবেগের ওঠা নামার পরিমাপ করতাম। ওরা হয়তো তখন টুপ্পুসকে কোন সামার ক্যাম্পে দেয়া যায় কিনা, কোনটা কত খরচ, কার কোথায় কনফারেন্সে যেতে হচ্ছে- ইত্যাদি নিয়ে পিতা মাতা সুলভ আলোচনায় মগ্ন। ক্রিষ্টিন বলছে কেলির কথা আর আসিফ বলছে আসিয়ার কথা। শাশুড়ির দেয়া নাম, আসিফও খুব সচ্ছন্দ বোধ করে। মাঝখান থেকে আমি টুপ্পুসের কেউ না হয়ে নিজেকে কোথাও খুঁজে পাই না। ওকে টুপ্পুস ডাকি মনে মনে, কোন কারণ নেই, শুধু গাল ফোলা, ঝাঁকড়া লালচে চুল দেখলে এই নামেই ডাকতে মন চায়। ওর নিজের পছন্দ না, তাই আমার ডাকে কোন জবাব দেয় না। আমাকে একদিন বলেছে, “কল মি আরিয়ানা” বড় হয়ে সে নিজের এই নাম রাখবে। কারুর দেয়া কোন নামই তার আর ভাল্লাগে না।

মাঝে মাঝে উড়ি, মাঝে মাঝে ডানার ভাঁজে হাঁটুমুড়ে কুঁজো হয়ে শুয়ে থাকি। কেউ না থাকলে শোবার ঘরের বড় মেঝেতে ডানা মেলি, সতর্ক, সজাগ, সন্তর্পণ। যখন রোমকূপে ইচ্ছে চিড়বিড় করতে থাকে তখন নিঃশব্দে একটু উড়ে ছাদের কাছাকাছি গিয়ে নেমে আসি। 

সেদিন খেয়াল ছিল না। আমি তো দেখেই গেলাম আসিফ ওর মায়ের সঙ্গে দেশের প্রপার্টি নিয়ে আলাপ করছে, কি উপায়ে ওর ট্যাক্স বিহীন ইউ এন স্যালারীকে দেশে ট্যাক্সের বাইরে রাখা যায়, আর আম্মা জাকাতের কথা বলছেন, কত ভরি গয়না সারাক্ষণ পরে থাকলে জাকাতের আওতাহীন হয়ে যাবে আর প্রসঙ্গক্রমে সামিয়া কেন সোনার গয়নাগুলো পরে না, তাহলে তো জাকাত কিছু কম হতো- শাশুড়ির এই প্রিয় আলোচনায় নিজেকে অবাঞ্ছিত দেখে শোবার ঘরে চলে গিয়েছিলাম। মা ছেলের বৈঠক ভেঙ্গে শাশুড়ি নামাজ পড়ে নিজের ঘরে থেকে একতলায় নেমেছিলেন চা খেতে। তার চা যে সময় তৈরী থাকবার কথা সে সময় আমাকে অথবা চায়ের পেয়ালাকে দেখতে না পেয়ে উনি আমার শোবার ঘরের আওয়াজ ধরে উঁকি দিলেন। আমি তখন ডানার মাঝখানে পা গুটিয়ে বসেছি। 

-‘আবার উড়তে চাই আমি’। 

আমার কথায় ডানাদুটো ভাঁজ আলগা করে ভাবে কিছুক্ষণ। উদাসীনতা আমার সয় না, আমাকে মনযোগের কেন্দ্রবিন্দু করে এখন চুপ করে গেলে চলবে না। আমি ধাক্কাতে থাকি, ওরা নড়ে না। কিন্তু শুকনো কিনারগুলো চড় চড় করে ওঠে। না দু ডানা একসঙ্গে না, আমি একটাকে বেছে নিই। পালকের ধার খসে খসে পড়ে যেতে থাকলে এবার আমার সত্যি রাগ হয়। আমি শুধু একটু উড়তে চাই, আর কিছুতো নয়। আমার রোষ শুনে অন্য ডানাটি একটু উঁচু গলায় ডাক দিয়ে থামাতে চায়। আমার সঙ্গে উষ্মা! ওরা কি আমার তাড়নায় অস্থির হলো? তা নইলে তারাফোটা সন্ধ্যায়, আমি ঝিমিয়ে যাচ্ছি এমন মূহুর্তে আমাকে জাগিয়ে ফিস ফিস করে বলে,-‘শোন, তোমার ওড়ার সাধ আর কাউকে বলোনা, আমরা দুজন শুধু তার সাক্ষী’।  

আমি অবাক হই,-‘আর কে জানবে?’

-‘বাতাস, আকাশের ওপারে যেখানে তুমি ভাসছিলে’!

-‘জানবে কি করে, আর জানলে বা কি?’

-‘তোমার ওড়ার প্রয়াস দেখলে জেনে যাবে। তখন তোমায় যদি ফিরিয়ে নিতে চায়, আমরা তখন কিন্তু আর থাকবো না। তোমায় না জড়ালে আমাদের জীবনের কি মানে?’

-‘কিন্তু ডানা না থাকলে আমার জীবনের কি মানে?’

আমাদের অমিমাংসিত কথার ভেতর সকালের চকচকে আলো। আমি দোটানায় থাকি- কার জীবন অর্থময় করে তোলা আমার কাজ। আমি অস্থির দাপাদাপি করি। ডানা দুটো শ-শ-শ-স শব্দ তুলে  চুপ করাতে চায়, গায়ের ভেতর চাগিয়ে ওঠা কাঁপন স্তিমিত করতে আমার কষ্ট হয়, তারপরও অচঞ্চল ভাব নিয়ে ওড়ার তীব্র ইচ্ছে বাগ মানাতে চেষ্টা ক’রে যাই।

-‘সামিয়া, চা করোনি?’ শুনে আমি ধপ করে পড়ি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বুঝি যে দেরী হয়ে গেছে। আমার পায়ের পাতায় ঘাম, হাতে আধখোলা ডানা, যেখানে কথারা ভাসতে ভাসতে গলে যাচ্ছে। 

আমি দ্রুত হাতে চায়ের পটে পাতা ভেজাই, সুইটনারের ছোট্ট প্যাকেট ছিঁড়ে মিষ্টি মেশাতে তৎপর হই। তাতেও শেষরক্ষা হয় না। সামিয়াতে ফিরে আসতে দেরী হবার অপরাধে আমার ওপর সমন জারী করে ডানাগুলো ছেটে দেয়া হয়।

টুপ্পুসের অসুখে বাবা হিসেবে আসিফের কেমন লাগে আমি অনুভব করতে চাই, কিন্তু ক্রিষ্টিনের লাগাতার অনুযোগ- মেয়েটার জন্য প্রপার এনভায়রনমেন্ট নেই শুনলেই আসিফ আমাকে আক্রমণ করে কথা শেষ করে। আমি অত সবল প্রতিপক্ষ নই জেনেও করে। আমি ওর অস্থিরতা দেখি- ডাক্তার বলেছে, টুপ্পুসের অসুখটা এখনি সারানো জরুরী। ওর বাবা মা ওকে বেশী বেশী সময় দেয়ার চেষ্টা করছে। প্রতি উইকেণ্ডে ওকে নিয়ে বেড়াতে বেরোয়। প্ল্যান হচ্ছে- তাঞ্জানিয়া যাবার। টুপ্পুস পাহাড় ভালোবাসে। আমি কাজের লোক আর বাড়ি পাহারা দিই। প্যাটিওতে বৃষ্টির আছড়ে পড়া দেখি।

-‘তুমি লাইট জ্বালোনি কেন?’ টুপ্পুস আমার ঘরের দরজায়, আমি তড়িঘড়ি ঝোলাটাকে কোনে ছুঁড়ে দিই, ওর চোখ এড়ায় না। সে দরজার কাছে সুইচ টিপে ঘর আলোকিত করে ক্লজেটে ঢুকে যায়-‘হোয়াট ডিড ইয়ু থ্রো ইন দেয়ার?’

টুপ্পুস কি ভালো হতে শুরু করেছে একটু? ওর চোখে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রং আর কৌতুহল। আমার রঙ্গিন ঝোলাটা হাতে তুলে নেয় সে।

-‘বাহ, এটা কি সুন্দর, উইল ইয়ু গিভ দিস টু মি প্লি-ইইজ,’ আমার ব্যাগ বুকে চেপে মেয়েটা আমার কন্ঠ চেপে বের হওয়া ‘না’ কে ঠেলে ভেতরে পাঠিয়ে দেয়। কোলে নিয়ে বিছানার ওপর গোল হয়ে বসে- গল্প করার মুড বুঝে আমি একটু সতর্ক হই।

-‘জানো আমার ডক্টর ড্যাডিকে কি বলেছে? আমার পারসেপশান ডিসোর্ডার হয়েছে,’ ওর চোখে মুখে দুষ্টু হাসি, ‘আমাকে কনফিউজড করতে না করেছে। ইউ নো, আই এম সোওও কনফিউজড সাম-টাইমস, আমার এত্তগুলো নাম কেন, ভালো লাগে না। এভরি ওয়ান কলস মি উইদ আ ডিফরেন্ট নেইম। জানো আমি কি চাই? আমার ওনলি একটা নাম হোক, সবাই তাই ডাকবে। আই ওয়ান্ট মাই নেইম টু বি আরিয়ানা’।

আমার ওর সঙ্গে গল্প জুড়ে দিতেই হয়,-‘কিন্তু তোমার মত আমাদেরও ছোট বেলায় কত্তগুলো নাম থাকতো জানো, তাতে তো কোন সমস্যা হতো না।

টুপ্পুস ভারী ম্যাচিওরড ভাব করে তর্ক করতে লেগে যায়,-‘আই ডোন্ট এগ্রি, জানো কেনো? তোমাকে সবগুলো নামে কে ডাকতো? দে আর ইয়োর পেরেন্টস, আর আমাকে তুমি ডাকো, ইউ আর নট মাই মাম’! আমার বুকের মধ্যে ধক ধক শব্দ কি টুপ্পুস শুনতে পায়? এই বাচ্চা মেয়েটির এত অকপট হওয়া কি খুব দরকার? দরকার, অবশ্যই দরকার- আমি আমাকে শাসাই।

-‘আর জানো, জ্যাক আমাকে রবিন বলে ডাকে, আমি কখনোই আন্সার করি না।বিকজ ওতো আমার ড্যাড না, মাম রাগ করে, বাট আমি কি করতে পারি? ইয়ু মে নট হ্যাভ এনি প্রব্লেম, কারণ ড্যাডতো তোমার নাম চেইঞ্জ করে দিয়েছে, ওর পাকিস্থানী ফ্রেন্ডরা কি আসলেই তোমাকে তোমার রিয়াল নেইম এ ডাকতে পারতো না?’

আহ, টুপ্পুস! আবারো সেই গল্প! আমার খোলা চোখের সামনে এক রকম দৃশ্য ঘোরে আর বন্ধ চোখের সামনে আরেক রকম। 

চার পাশে কোন অচেনা গান বাজছিল না, ভীড় গরমের মধ্যে আমি ঠান্ডা কমিউনিটি সেন্টারে বসে ছিলাম। সই সাবুদ সকাল বেলাতেই হয়ে গেছে, আমি এখন তিরিশোর্ধ, সঙ্গত কারণে তালাকপ্রাপ্ত আসিফ সালামের আইনত বৈধ স্ত্রী। পাঁচ তারা হোটেলে উঠি দু রাত্রির জন্যে। ক্লান্তিতে নুয়ে গেলেও কি এক টেনশন আমার চুলের ডগা পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে। রাত আসে, আসিফের অভিজ্ঞ হাতের আদর পাই, তাও আমার ক্লান্তি আসে না। এক টানা তিন রাত প্যাঁচা ভর করে আমার পিঙ্গল চোখে। ঘুম আসে আবার বাড়ি ফিরে এলে। রাজ্যের ঘুম, খালা তুলে কোনমতে খাইয়ে দেয়, আমি তারপর আবার ঘুমের অথৈ তলানিতে। আসিফ দৌড়াদৌড়ি করে আমাকে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করতে। তাছাড়া বিয়ে শেষ, এখন যাওয়ার যোগাড়যন্ত্র, বন্ধুদের সময় দেয়া, সম্পত্তির বিলি ব্যবস্থা করতে করতে তার হাতে শুধু মধ্য রাতের দেয়া নেয়া থাকে। এক সকালে আসিফ আমার আরো সই নিতে আসে, আমি ঘুম ক্লান্ত আধবোজা চোখে সই করে দিই, পাসপোর্টের ফরম। চ্যানেল আর দালাল কাজে লাগিয়ে দিনকয়েকের মধ্যে হাতে এসে যায় কাঙ্খিত ছাড়পত্রের বই। আর তারপর হানিমুন প্রত্যাশী নবদম্পতি ফরাসী দূতাবাসে ভিসার জন্য গেলে আমার ডাক পড়ে কিন্তু আমি সচকিত হই না। আসিফ আমাকে ঠেলা দেয়, আমি তখন, -‘এরা তো অমিয়া ডাকছে না!’ এ কথা বললে, জানতে পাই, এরা সামিয়া ডাকছে। আমার নামের আদ্যাক্ষর বদলে গেছে আমি জানার আগেই। কেন? যেন জানাই ছিল, তবু দমবন্ধ অনুভূতি গাঢ় স্বরে পাশে এসে দাঁড়ায়। 

-‘আর ইয়ু ওকে?’ বলে আসিফ পিঠে হাত রাখলে আমি সে হাত সরিয়ে দিই না। দূতাবাসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ পেরিয়ে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজে পাই না। বসে বসে আসিফের সঙ্গে ভিসা অফিসারের প্রশ্নোত্তর পর্বের মৌনমুখ সাক্ষী হই। তারপর ভিসা হবার নিশ্চয়তার সঙ্গে বদলানো নাম গায়ে সেঁটে এসির ঠান্ডা থেকে চটচটে গরমের বাতাসে বের হয়ে আসি। ফিরতি পথে আসিফ আমাকে একগাদা কথা বলে,- কি কেন আর কি জন্য প্রয়োজন, অমিয়ার চেয়ে সামিয়া কেন সেখানে অধিক মানানসই ইত্যাদি। চিৎকার করে বুকের ভেতরে আটকে থাকা দম বের করে দেয়া আমার ধাত। এখন তার বদলে চোখ শুকিয়ে গেল।ধাত কি তাহলে এত দ্রুত বদলে গেল? 

-‘দিস ইজ নট জাষ্ট এ গল্প, এটা ফ্যাক্ট! আমি আজকে ড্যাডের কাছে আমার পছন্দের নামটা ফেরত চাইবো। ইফ হি ওয়ান্টস মি টু বি কিওরড এণ্ড লিভ আ হেলদি লাইফ, আই মাষ্ট হ্যাভ মাই নেইম ব্যাক। তুমিও কি তাই চাও না?’

-‘মি টু টুপ্পুস, আমিও আমার নাম ফেরত চাই, আমি অমিয়া হতে চাই, আবারো আমার শীর্ণ ডানাদুটোর সাহস দেখতে চাই। টুপ্পুস আমার ঝোলাব্যাগটা তুই নিবি? সেখানে আমার লুকোনো ডানাদুটো ছিল, উড়তে উড়তে বুদবুদ হয়ে গিয়েছিলাম’। মেয়েটা আমার কথা শুনতে পায় না। কানে আইপডের বোতাম গুজে দিয়েছে। তার চোখ ঝকঝকে। আমাকে টানতে টানতে নীচে নিয়ে আসে। আমরা আসিফের ফেরার অপেক্ষা করি। বাইরে ছেড়া সন্ধ্যার ছায়া, গাছের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে আকাশ নেমে আসছে। দেখতে থাকি আমি, আর টুপ্পুস ওর ড্রইং বই নিয়ে ছবি এঁকে ইরেজার দিয়ে মুছছে, ও মনে হয় সামিয়া থেকে ‘এস’ অক্ষরটি বাদ দিয়ে শুধু অমিয়ার ওপর রং ছোঁয়ায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত