সুফিয়া কামাল ও তার কবিতা

আজ ১৯ জুন কবি বেগম সুফিয়া কামালের জন্মজয়ন্তী। ইরাবতী পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধা।


বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত কবি বেগম সুফিয়া কামাল। তার কবিতা রুশ ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। রবীন্দ্র-নজরুল যুগের কবিই তিনি। তিনি বুদ্ধদেব বসুর প্রায় সমসাময়িক কবি; কিন্তু ত্রিশোত্তর ধারার কবিতা না লিখেও খ্যাতির আসন কেড়ে নিয়েছিলেন আপনগুণে।

‘সাঁঝের মায়া’ কবিতাগ্রন্থই তাকে সর্বাধিক কবি খ্যাতি এনে দিয়েছে। বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসে হাসান হাফিজুর রহমানের ‘আধুনিক কবি ও কবিতা’ বইটি অসামান্য উঁচু মাপের। সে বইয়ে সুফিয়া কামালের কবিতার মর্যাদাসম্পন্ন আলোচনা হয়েছে। তার কবিতায় আছে রোমান্টিকতা, আছে প্রকৃতি, আছে গভীর প্রেমবোধ, বিরহ-যন্ত্রণা। এছাড়া লিখেছেন একাত্তরের ডায়রি, গল্প-উপন্যাস, ছেলেবেলার কথা, সময়ের কথা।

শতাব্দীর বাঙালি নারীর সংগ্রামী ইতিহাসে কবি সুফিয়া কামাল এক শ্রেষ্ঠ নারী। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের স্নেহ তিনি পেয়েছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে আপন বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করতেন। পূর্ব পাকিস্তানে এবং বাংলাদেশের নারী আন্দোলনেই শুধু নয়, প্রতিটি আন্দোলনে সুফিয়া কামাল প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে ক্ষান্ত হননি, নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রতিটি নারী সংস্থার তিনি হয় সভানেত্রী, না হয় সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অন্যায়-অত্যাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছেন। অন্যতম সংগ্রামী নারী মালেকা বেগম সম্পাদিত ‘রাজপথে জনপথে সুফিয়া কামাল’ বইটি পড়লে অনুধাবন করা যাবে, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তিনি প্রতিটি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তার কাছেই প্রস্তাব গিয়েছিল, তিনি হবেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভানেত্রী। তিনি জাহানারা ইমামকে এই দায়িত্ব অর্পণ করেন। পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন তিনি আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে। সবচেয়ে বেশি সম্মান তিনি পেয়েছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে। তিনি ‘লেনিন’ পুরস্কার লাভ করেন। এই বিরল সম্মানের পুরস্কার বাংলাদেশের আর কোনো বাঙালি পাননি।

তার কবিতা রুশ ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। রবীন্দ্র-নজরুল যুগের কবিই তিনি। তিনি বুদ্ধদেব বসুর প্রায় সমসাময়িক কবি; কিন্তু ত্রিশোত্তর ধারার কবিতা না লিখেও খ্যাতির আসন কেড়ে নিয়েছিলেন আপনগুণে। ‘সাঁঝের মায়া’ কবিতাগ্রন্থই তাকে সর্বাধিক কবি খ্যাতি এনে দিয়েছে। বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসে হাসান হাফিজুর রহমানের ‘আধুনিক কবি ও কবিতা’ বইটি অসামান্য উঁচু মাপের। সে বইয়ে সুফিয়া কামালের কবিতার মর্যাদাসম্পন্ন আলোচনা হয়েছে। তার কবিতায় আছে রোমান্টিকতা, আছে প্রকৃতি, আছে গভীর প্রেমবোধ, বিরহ-যন্ত্রণা। এছাড়া লিখেছেন একাত্তরের ডায়রি, গল্প-উপন্যাস, ছেলেবেলার কথা, সময়ের কথা।

ড. আনিসুজ্জামানের উদ্ধৃতি আছে সুফিয়া কামালকে নিয়ে : ‘কোনগুণে এতো বড় একটা আসন তিনি লাভ করলেন? কেবল কবি হিসেবে নয়, শুধু নারী সমাজের নেত্রী হিসেবে নয়, বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে নয়। তার সকল কর্ম, সকল রচনা, সকল ভাবনার সমন্বয়ে আর সবকিছুর মূলে তার চরিত্রগুণে তিনি এ আসনটি পেয়েছেন। তার কোমল মাতৃহৃদয় থেকে দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা যেমন স্বত্যোৎসারিত হয়, তেমনি বুকভরা সাহস নিয়ে জাতির প্রয়োজনে ভগ্নস্বাস্থ্য এই মানুষটি অকুতোভয়ে এসে দাঁড়ায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। মা যেমন সন্তানকে আগলে রাখে, বিপদে-সম্পদে তিনি আমাদের তেমনি করে আগলে রেখেছেন।’ বেগম রোকেয়ার চেয়েও তার জীবন বৈচিত্র্যময়, সংগ্রামী এবং আমৃত্যু ভূমিকা বহুল।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত