সুহিতা সুলতানা’র একগুচ্ছ কবিতা

 

হাঁসকল

পথ তো পথের মতন, যারা হাঁসকলে আটকা পড়েছে চৌহদ্দীর মধ্যে তাদের উচ্চতা কতটুকু? জ্ঞানশূন্য ও লোভী মানুষের পাশে অবশেষে কেউ থাকে না! চলো যাই পাখিদের গ্রামে! ছুঁয়ে দেখি অস্তিত্বের সমূহজল; মেঘের দুপুরে অপার শূন্যতা মনে করিয়ে দেয় রক্তাক্ত দিনের কথা! গোধূলিলগ্নে যখন আমাদের গাড়ি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হয়ে বাড়ি ফিরছিল তখন চারদিকে আনন্দ ও বিষাদের উল্লাস ছিল। পথজুড়ে স্মৃতির ক্রন্দন অভিন্ন হৃদয়ের কাছে নিয়ে যায়। সেদিন সামান্য লোকও অসামান্য হয়ে তর্জনী উঁচিয়ে ধরেছিল। অনন্ত স্বপ্নের ভেতরে শক্র’র কোনো চিহ্ন মাত্র নেই! রাতের চাঁদ হেলে পড়েছে আশ্বিনের বারান্দায়…

 

হাঁসকল ২

শান্তি নষ্ট করতে করতে যিনি হাল ছিঁড়ে ফ্যালেন তিনি হতভাগ্য বটে! হাবুজখানায় তার একমাত্র গতি হলে, দেশ-কাল অন্দরমহলের একটা গতি হয়। একদা যিনি রূপসী বলে সুখ্যাতি অর্জন করে এলাকা মাতিয়েছিলেন, বিধিবাম অসংখ্য বহুবর্ণ কলঙ্ক আজ তাকে কাঁটার মুকুটে রতিক্লান্ত রমণীর রূপে রূপান্তরিত করেছে। এখন চরের ক্ষুধার্ত মানুষের মুখগুলো ক্রমশ অস্পষ্ট হতে থাকে। বালি ও ঘাসে থেঁতলে গ্যাছে যাদের জীবন সেখানে তুমি কোন ঈশ্বর? বহুবার হাতের মুঠোয় ইলিশের তৈলাক্ত পেটির স্বাদ তোমাকে দ্বিধাগ্রস্ত মাতাল করেছে বৈকি। রূপসী বাংলার নিচে তোমার আহ্লাদিত মুখ মহাভারতের দ্রৌপদীর কাছে নিয়ে যায়।

 

হাঁসকল ৩

নিঃশব্দে যিনি কাঁদতে পারেন তিনি দুর্বোধ্য ও রহস্যময় শ্রেণী বিভাজনে হাওয়ায় উড়তে থাকে অনন্ত নিদ্রার ধ্বনি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভূসম্পত্তির ওপর আমার কোনো মোহ কাজ করেনি কখনো; আমি জানি জীবন একটা আস্ত ঘাসফড়িং। এই আছে এই নেই! সৃজিত অধ্যায় খসে গেলে জীবনও ভোঁ কাটা ঘুড়ি! কে তুমি অন্ধ পথিক স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচো? জলের ভেতরেও এখন হাঁসকল জলই জলের বৈরী। শ্যাওলার ক্রন্দনেও আজ অনন্ত ধাঁধা বারবার কেন মুখোশের হাতছানি?

হাঁসকল ৪

একটা মেয়ের অদৃশ্য হয়ে থাকাটাই য্যানো মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের স্বস্তিকর দিক। দিনের আলোয় তার একমাত্র আলো! সূর্য অস্ত গেলে যথারীতি অন্দরমহলের হাঁসকলের মধ্যে বসে জাবর কাটতে থাকো। একমাত্র কবিতাই খুলে দিল মেয়েটির ভাবনার জগৎ, অবগুণ্ঠন   কোথায় গেলে পাবো তারে? নীরবে ভালোবাসার জন্য অপেক্ষাও মৃত্যুর মতন, কে? কার জন্য অপেক্ষা করে থাকে? জীবন কী এরকমই বিস্ময়কর

 

হাঁসকল ৫

যখন তোমার উপস্থিতি দেশ কাল আর মানুষের কল্যাণে না আসে তাহলে থাকো তুমি হাঁসকলে আটকে। আমাদের বহুবিধ সমস্যার ভেতরে তোমার সমস্যাখানা বেশ ভয়াবহ! অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কখনো কী স্বাভাবিক হয়? একদা জলকাঁটা আর বারুদের গন্ধে পথ দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতো মৃতের মতো! এখন তোমার কুচকে যাওয়া ঠোঁটের ভাজে ঝুলে থাকে আত্মপ্রতারণার আড় বাঁশি!

One thought on “সুহিতা সুলতানা’র একগুচ্ছ কবিতা

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত