যে ঘটনার পরে তৈরী হলো টেডি বিয়ার

Reading Time: 3 minutes

বিশ্বের জনপ্রিয় সফট টয়গুলোর মধ্যে অন্যতম টেডি বিয়ার। নরম তুলতুলে এ খেলনা দেখলে ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও যেন একটু আদর না করে থাকতে পারেন না। এই টেডি বিয়ারের উৎপত্তি হয়েছে কিন্তু মজার একটি ঘটনার মাধ্যমে।


আমরা সবাই জানি ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস। তবে এর এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় ভালোবাসার বিশেষ বিশেষ দিন। ভালোবাসার এ সপ্তাহে ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে, ৮ ফেব্রুয়ারি প্রোপোজ ডে, ৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে পেরিয়ে, ১০ ফেব্রুয়ারি টেডি ডে।

ভালোবাসা প্রকাশে ‘টেডি ডে’র গুরুত্ব কিন্তু মোটেও কম নয়। নরম গোলগাল একটা টেডি বিয়ার এক নিমেষেই বদলে দিতে পারে আপনার গম্ভীর প্রেমিক-প্রেমিকার মেজাজ। একটা শব্দ খরচ না করেও ওই এক টেডিই বলে দিতে পারে আপনার ভালোবাসার গোপন অনুভূতি। এমনকি সব ঝগড়া, সব অভিমান ওই এক ছোট্ট পুতুলের জাদুতেই উড়ে যাবে মুহুর্তেই।

ছোট খাটো চেহারার এই আদুরে ভাল্লুকটি যে কতো প্রেমের জন্ম দিয়েছে সে কথা হিসেব করা অসম্ভব। প্রেম নিবেদন থেকে শুরু করে মান-অভিমান ভাঙাতে টেডি বিয়ারের জুরি মেলা ভার।

তবে টেডি বিয়ার শুধু একটি পুতুল নয় এর সঙ্গে জুড়ে আছে একটি আবেগ ঘন ইতিহাস। আর এই ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম। এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন আমেরিকার ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট। যিনি ‘টেডি’ নামে বেশি জনপ্রিয় ছিলেন।

১৯০২ সালের নভেম্বর মাস, মিসিসিপির জঙ্গলে ভল্লুক শিকার করতে বেরিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট। সারাদিন কেটে গেলেও তিনি সে দিন ভাল শিকার পাননি। ততক্ষণে অন্য শিকারিরা সকলেই অন্তত একটি করে ভল্লুক শিকার করে ফেলেছিলেন।

প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে তাঁর সঙ্গী-সাথীরা ধরে আনেন এক লুসিয়ানিয়া কালো ভাল্লুক ছানা। কিন্তু উইলো গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রাখা ভাল্লুক ছানার উপর গুলি চালাতে মন চায়নি রুজভেল্টের। ছোট্ট ছানাটিকে ছেড়ে দেন তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত অমানবিক একটা কাজ। এই কাজ তিনি করতে পারবেন না। ভল্লুকটিকে দেখে তাঁর মায়াই লাগছে বরং।

সেই সময়ে শিকার নিয়ে গোটা বিশ্বে কোন কড়া আইন ছিল না। সামাজিক ভাবেও শিকার ছিল এক বীরত্ব প্রদর্শনেরই খেলা। প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী গোটা সমাজকে নাড়া দেয়। পরদিনই সেই সময়ের সংবাদমাধ্যমগুলোতে উঠে আসে এই মানবিকতার কাহিনি।

‘ড্রইং দ্য লাইন ইন মিসিসিপি’ কার্টুনে এই গল্প তুলে ধরেন ওয়াশিংটন স্টার কার্টুনিস্ট ক্লিফর্ড বেরিম্যান। ছবিতে তিনি আঁকেন টেডি রুজভেল্ট রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আর তাঁর পিছনে রয়েছে ছোট্ট এক ভাল্লুক ছানা। সেই কার্টুন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমেরিকার খেলনা কোম্পানি ‘আইডিয়াল নভেলটি অ্যান্ড টয় কোম্পানি”র মালিক মরিস মিকটম এবং তার স্ত্রী প্রথম তৈরি করেন খেলনা ভল্লুক।

আর তার নাম দেওয়া হয় টেডি’স বিয়ার, অর্থাত্‍ টেডির বিয়ার। পরে যা টেডি বিয়ার নামেই পরিচিতি লাভ করে। সময়ের সঙ্গে অনেক বদল হয়েছে টেডি বিয়ারের, বদল হয়েছে আকারে এবং রঙে।

নানান রংয়ের টেডির কি অর্থ?

গোলাপি টেডির অর্থ হলো প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হওয়া। যদি ক্রাশকে প্রস্তাব দিয়ে থাকেন এবং বিনিময়ে আজ একটা গোলাপি টেডি উপহার পান, তাহলে বুঝে নিন আপনার প্রস্তাব সে গ্রহণ করেছে। লাল টেডি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে। যারা ইতিমধ্যেই ভালোবাসায় হাবুডুবু খাচ্ছেন, তারা একে অপরকে লাল টেডি উপহার দিতে পারেন।

কমলা অথবা পিচ রং এর টেডি পেলে বুঝে নিন মানুষটি আপনাকে খুব পছন্দ করে এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার কাছ থেকে ভালোবাসার প্রস্তাব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর সাদা হলো বিশুদ্ধতার প্রতীক। বিশুদ্ধ ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সাদা টেডি উপহার দিতে পারেন প্রিয়জনকে। তবে ব্রাউন এবং কালো টেডি দেয়ার অর্থ হলো যাকে দিচ্ছেন তার প্রতি আপনার কোনো ভালোবাসা নেই অথবা তার হৃদয় ভাঙতে চাইছেন আপনি।

                 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>