| 21 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
শিশু-কিশোর কলধ্বনি

জলদেবতার নৌকা

আনুমানিক পঠনকাল: 7 মিনিট

কানাইয়ের একটা নৌকা আছে। সেগুন কাঠ দিয়ে বানানো। সেই নৌকায় চেপে কানাই মাছ ধরে। কানাইদের গ্রামের পাশে এক নদী আছে। তার নাম শ্যামা নদী। তিরতির করে জল বয়ে চলেছে। এদিক ওদিক মাছ ভেসে বেড়াচ্ছে। কানাই নৌকা নিয়ে সেই সব মাছের ঝাঁক খুজে বেড়ায়। সারাদিন শেষে যা পায় তাই নিয়ে ঘরে ফেরে। ঘরে তার তিনটি  ছোট ছেলেমেয়ে। সেই মাছ বেচে যা পয়সা হয়, তাই দিয়ে তাদের  চলে।

একদিন হল কী, সারাদিন জাল ফেলেও সে মাছের দেখা পেল না। কানাই ভাবে হল কী নদীর? সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছে। আগে বাপের সঙ্গে মাছ ধরতে যেত, এখন সে নিজে আসে। নৌকাও তার বাপের আমলের। নদী চেনা, নৌকা চেনা, জলও চেনা। তবু যে কেন সে মাছ পায় না? এদিকে সূয্যি প্রায় ডুবিডুবি করছে। শেষবেলায় যদি দু’ চারটি মাছ মেলে এই আশায় সে জাল ফেলে। টেনে তুলে দেখে জালের ভেতর এক দেবতার মূর্তি। লম্বায় এক হাত। কানাই করে কী, সেই মূর্তি নিয়েই বাড়ি ফেরে। ঘরে দানাপানি নেই। ছেলে মেয়েরা শুকনো মুখে বসে আছে। কানাইকে ঘরে ঢুকতে দেখে তারা দৌড়ে আসে। বলে,  কি মাছ পেলে বাবা?

কানাই নীরবে মাথা নাড়ে।

তবে কি নিয়ে এলে?

এক দেবতার মূর্তি।

কই দেখি বলে তারা তিনজনই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ঝোলা থেকে কানাই বের করে দেয় সেটা। ছেলেমেয়েরা বলে, কি দেবতার মূর্তি বাবা?

মনে হয় জলদেবতার। জল থেকেই পেলুম কিনা!  

এখন এটা নিয়ে কি করবে? বড় মেয়ে বলল।

পুজো করবে বাবা? মেজ মেয়ে বলল।

ছোট্ট ছেলেটা বলে, আর যদি এর সাথে খেলি?

কানাই বলে, এখন ঘরে রেখে দিই। কাল সকালে দেখা যাবে।

কিন্তু আজ খাবার কী হবে? মাছ মেলেনি যে। এই ভেবে সে মুহ্যমান হয়ে পড়ল। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে সেই নিয়ে কোন হেলদোল নেই। তারা মূর্তি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

এদিকে কানাইয়ের বাড়িতে এই হৈ চৈ কানাইয়ের দাদা বলাইয়ের কানে গেল। সে তেজারতির কারবার করে। তার অবস্থা ভালো। কানাই যে কুঁড়েতে থাকে তার পাশেই এক বড় অট্টালিকায়  বাস করে। ভাইয়ের বাড়িতে হট্টগোল শুনে সে নিচে নেমে এল। কানাইয়ের ঘরে ঢুকে বলল, কি ব্যাপার রে কানাই? এত লাফাস কেন সব?

কানাই বলল, এই দেখ না দাদা, সাদাদিন জাল ফেলে এই মূর্তি পেলুম, কোন মাছ পেলুম না। আমার অবস্থা তুমি জানো। দিন আনি দিন খাই। এখন দিনের শেষে ছেলেমেয়েদের মুখে যদি একটু অন্ন না তুলে দিতে পারি, কেমন কষ্ট হয় বল।

কী মূর্তি দেখি।

কথাটা বলে বলাই মূর্তিটি হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল। বলল, হুম!  জলদেবতার মূর্তি।এখন তুই এটা নিয়ে কি করবি?

সেটাই তো ভাবছি দাদা।

বলাই একটু ভেবে বললে, দ্যাখ ভাই, এটা তোর কাছে রাখা নিরাপদ হবে না। কারণ মূর্তিটি সত্যি সোনার। একেবারে খাঁটি সোনার। আমি সোনা খুব ভালো চিনি। কারণ আমার তেজারতির কারবার। তোর এই ভাঙ্গা ঘর। ‌ চোরেরা অনায়াসে এটাকে চুরি করে নেবে। আমার পাকা ঘর। বিশজন লেঠেল। চোর ঘরে এলে মাথা গুঁড়িয়ে ছেড়ে দেবে তারা।

তাহলে তুমি কী করতে বল দাদা?

এটা বরং আমার কাছে রেখে দে। আমার কাছে যত্ন থাকবে।

তাই ভালো হবে দাদা। জলদেবতা রোজ তোমার কাছে জল-বাতাসা পাবে। আমি তাঁর নিত্য সেবা করবই বা কখন, আর আমার ঘরে তেমন অর্থই বা কই?

মূর্তিটি আমি এমনি নোব না। তুই গরিব মানুষ, আমদের জাত ব্যাবসা জেলেগিরি করে খাস। তোর অবস্থা আমি বুঝি। তাই যেদিন যে দিন যে দিন মাছ পাবি না, সেদিন আর তোর ছেলেমেয়েদের অভুক্ত থাকতে হবে না। আমি ওদের জন্য খাবার পাঠিয়ে দোব।

সেই ভাবেই দিন কাটতে লাগল। কানাইয়ের আর কোন চিন্তা ছিল না। মাছ না পেলেও দাদা বাড়ি থেকে ছেলে মেয়েদের জন্য নানা খাবার আসতে লাগল। সে সব কি খাবার! যেমন তার রঙ তেমনই তার গন্ধ! ছেলেমেয়েরা অমন খাবার কোন দিন খাওয়া তো দূরের কথা, চোখেই দেখেনি। তারাও খুব খুশি।

মাঝে মাকজে কানাই যখন একলা নদিতে নৌকা বায়, তখন সে জলদেবতার কথা ভাবে। কি সুন্দর ছিল মূতিটা। দেবতার মুখটিতে যেন মমতা মাখানো। মাথায় রাজার মুকুট। তাতে নানা কারুকাজ। আর ভাবে এই যে সে দেবতাকে দাদার হাতে তুলে দিল, এতে কি তিনি কুপিত হবেন?

মাঝ নদীতে নৌকা স্থির রেখে সে এ সব ভাবছে, এ সময় প্রবল ঝড় উঠল। সে যখন জলদেবতাকে নিয়ে নানা কথা ভাবছে, তখন যে ঈশান কোনে মেঘ পাকিয়ে উঠেছে সে একটুও দেখেনি! তাই সে ঝড়ের আগাম আভাস পায়নি। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। সে যে কি ঝড় তা বলার কথা নয়! অমন ঝড় কানাই কোনদিন দেখেনি। নদীর জল ফুলে ফুলে উঠছে। ঢেউ উঠছে এই বড় বড়! জল নদী থেকে ফোয়ারা হয়ে বাতাসে উঠে যাচ্ছে। কানাই  নৌকাটা ঘাটে ভেড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু তার সেই চেষ্টা সফল হল না। একটা বড় ঢেউ এর ধাক্কায় পুরানো নৌকাটা চুরমার হয়ে গেল। কানাই কোন রকমে সাঁতারে  উঠল।

ঘরে ফিরে সে তার দাদাকে সংবাদ দিল। শুনে দাদা তিনতলা থেকে নেমে এল। বলল, দেখ কানাই তুই আজকের খাবারটা আমার কাছে পাবি; কাল থেকে আর পাবি না।

কানাই অবাক হয়ে বলল, কেন দাদা? তোমার সঙ্গে আমার তো তেমনই চুক্তি হয়ে ছিল।

বলাই বলল, মনে করে দ্যাখ ভাই, কি কথা হয়েছিল। কথা হয়েছিল, যেদিন যেদিন মাছ পাবি না, আমি তোকে খাবার দোব। কিন্তু এই যে তোর নৌকা ঝড়ে ভেঙ্গে গেল, এখন তুই নদীতে যেতে পারবি না। নৌকা ছাড়া মাছ ধরবি কি করে? নৌকা ভেঙ্গে গেলেও যে তোকে খাবার দিতে হবে, এমন কথা কিন্তু হয়নি!

শুনে কানাই চুপ করে গেল। সত্যি তো! এখন নতুন নৌকা না কেনা অবধি তার বাছারা কি খাবে? সে খুব ভেঙ্গে পড়ল। বলাইয়ের কাছে কাতর গলায় বলল, আমার অবস্থা তুমি জান দাদা। নতুন একটা নৌকা কেনার সঙ্গতি আমার নেই। কী হবে এবার? ছেলে মেয়েদের মুখে কি তুলে দেব?

বলাই বলল, দ্যাখ, আমি একটা ব্যবস্থা করতে পারি। তুই তো জানিস আমি আমাদের জাত ব্যবসা, মানে মাছের কারবার করি না। তুই অবশ্য জাত ব্যাবসা ধরে রেখেছিস। কিন্তু আমার আবার ওসব পোষায় না। তবে মাছ খেতে আমি ভালোবাসি। মাছ না হলে আমার মুখে ভাত রোচে না। তাই মাছের বদলে আমি তোকে নৌকা দিতে পারি।

কী রকম? উৎসুক হল কানাই।

বলাই বলল, সেটা এমন কিছু বিশেষ ব্যাপার নয়। তুই রোজ যা মাছ পাবি তার সেরাটা আমাকে দিতে হবে।

কানাই সোজা হয়ে বসল। বলল, আর কিছু নয়?

না রে।

তুমি সত্যি বলছ দাদা?

তুই  আমার নিজের ভাই। তোকে মিথ্যে বলব কেন বল?  

তোমার এই চুক্তি কবে শেষ হবে?

এক বছর পর।

তারপর?

নৌকা তোর।

তোমাকে আর মাছ দিতে হবে না?

না।

তখন নৌকা পুরোপুরি আমার হয়ে যাবে?

হ্যাঁ।

সেই মত চলতে লাগল। বলাই একটা নৌকা কিনে দিল কানাইকে। সারাদিন জাল ফেলে সে যা পায়, সেরা মাছটা দিয়ে তবেই বাকি মাছ সে হাটে বেচে। এমনি করে এক বছর কেটে গেল। বলাই বললে, চুক্তি শেষ। কাল থেকে আর মাছ দিতে হবে না তোকে। তবে কি জানিস, তুই বড় ভালো। সবসময় সেরা মাছ দিয়ে এসেছিস। তাই এবার যা নোব, দাম দিয়ে কিনে নেব।

দাদার কথায় কানাই খুশি হল। বলল, এবার তবে মূর্তিটা ফিরিয়ে দাও।

কিসের মূর্তি?

সেই যে জলদেবতার; তোমার কাছে গচ্ছিত রেখেছি।

ও সেটা। এতক্ষণ বলবি তো! ও তুই আর পাবি না।

কেন? কানাই অবাক হল।

ওটা পুরনো চুক্তিটার সঙ্গেই শেষ হয়ে গেছে।

তাহলে ওটা আমি আর ফেরত পাব না?

কি করে দিই তুই বল। চুক্তি শেষ, সব শেষ।

কানাই বুঝল দাদা আর সেটাকে দেবে না। তাই তেজারতির ব্যাবসাদারের মত করে কথা বলছে। তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। নদীর ধারে গিয়ে সে মন খারাপ করে বসে রইল। তখন দেখল, একজন খুব লম্বা মানুষ নদীর পার ধরে এগিয়ে আসছে। সোনার মত গায়ের রঙ। পরনে নীল রঙের ধুতি। গায়ে সাদা উড়নি। কানে স্বর্ণ কুন্তল।

সেই মানুষটা কাছে এসে বলল, তুমি কাঁদ কেন?

তখন কানাই নিজের দুখের কথা সব বলল। লোকটা তার পাশে বসে সবটা মন দিয়ে শুনল। বলল, তোমার দাদা মোটেই ভালো লোক নয়। সে তোমায় ঠকিয়েছে।

আমি কী করব তবে?

তুমি তাকে শাস্তি দেবে।

আমি এক সাধারণ জেলে। আর দাদা মস্ত বড়লোক।  আমি তার সঙ্গে পারব কি করে?

সে পথ আমি বলে দেব।

তাতে কি আমি জলদেবতার মূর্তি ফেরত পাব?

পাবে।

আমার খুব শখ খুব ধুম ধাম করে জলদেবতার পুজো করি। কিন্তু টাকার অভাবে করতে পারিনি। আর এখন পারলেই বা কি হবে। সেই মূর্তটি তো আমার কাছে নেই।

মূর্তিটি তোমার কাছে আসবে।

কি করে?

আমি বলে দেব। কেবল তুমি দাদাকে গিয়ে বলবে তোমার সঙ্গে জলদেবতার দেখা হয়েছিল। দেবতা তোমাকে একটা নৌকা দিয়েছে। সেটা দিয়ে সমুদ্র অবধি পারাপার করা যায়।

নৌকাটা পারের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। সেটা দেখে অবাক হয়ে গেল কানাই। এই নৌকা সে আগে দেখেছে। জলদেবতার যে মূর্তিটা সে পেয়েছিল জলের নিচে থেকে, সেই দেবতার পিছনে এমনি এক নৌকা ছিল। সে দেখে অবাক হয়ে গেল। তখন লোকটা বলল, এটা আমার নৌকা। আমিই জলদেবতা।

শুনে কানাই তাঁকে গড় করল। দেবতা তাকে আর্শিবাদ করলেন। বললেন, তোমার ভালো হবে। এখন বাড়ি যাও।

সে বাড়ি ফিরল। দাদাকে  বলল, আজ এক অদ্ভূত জিনিস দেখলুম দাদা।

কি?

জলদেবতার  নৌকা।

বলাই অবাক হয়ে বলল, মানে?

জলদেবতার সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাকে তাঁর নৌকা দিলেন না। বললেন, এই নৌকা কখনো ডোবে না। এমন নৌকা আমার দরকার ছিল। নদীর অনেক গভীরে চলে গিয়ে অনেক মাছ ধরতে পেতুম। কিন্তু তা হবার নয়। জলদেবতা মাছ ধরার জন্য তিনি দেবেন না। তিনি বললেন যদি কোন সৎ লোক পাই, তাকে দিতে পারি।

তুই কি বললি।

কি আর বলব।

কেন আমার কথা মাথায় এল না তোর? আমি কি সৎ না?

সে তো বটেই।

তুই জানিস না, আমি বেশ কয়েকদিন ধরে একটা বড় নৌকা খুঁজছি। আমার কতদিনের শখ দেশ-বিদেশে বাণিজ্যে যাব। এই কাজে যেমন ধরণের বড় নৌকা দরকার, তেমন না পেলে যাওয়া সম্ভব নয়। অত উত্তাল সমুদ্দুর আমি ডিঙ্গোব কি করে? তুই তো সারা জীবন নদীতেই কাটিয়ে দিলি, সমুদ্দুর কি জিনিস তা জানলিই না। তোর অমন নৌকা মোচার খোলার মত সমুদ্দুরের ঢেউ এর ধাক্কায় কোথায় চলে যাবে।

তুমি কি নদীর ধারে যাবে এখন?

যাবই তো। কতদিনের শখ বিদেশে বানিজ্য করার। একটা ভালো নৌকার অভাবে আমার কাজ আটকে আছে। যদি পেয়ে যাই মন্দ কি? কতদিন আমি তেমন স্বপ্ন দেখিছি। এখন স্বপ্ন বাস্তব হবার সময় এসেছে। এখন পিছিয়ে থাকলে চলে?

এই বলে সে লোকলস্কর নিয়ে ছুটল। জলদেবতা সেখানে ছিলেন না বটে, কিন্তু সেই নৌকা ছিল। পারের কিছুটা দূরে জলের উপর সেটি নাচছিল। সেটাকে নিজের কাছে টেনে আনল বলাই। তার মনে আর খুশি ধরে না। বালির উপর লাফাতে লাগল। গান ক্রতে করতে ঘরে ফিরে এল। তারপর এক শুভ দিন দেখে বানিজ্যতরী সাজিয়ে নিল।  বড় পাল লাগিয়ে চলল বানিজ্যে। যাবার আগে কানাইকে বলে গেল, আমার ঘর দোর সব রইল, দেখিস। 

দিন যায় মাস যায় বছর যায়, বলাই আর ফেরে না। কানাই ভাবল, তবে নিশ্চয় দাদা বিদেশে বড় লাভ করছে। আর এদেশে ফিরবে না। তাই পাড়ার লোকের সঙ্গে পরামর্শ করে সে দাদার বাড়ীটিকে এক মন্দির বানিয়ে ফেলল। সেখানে মহা সমারোহে ধূমধাম করে জলদেবতার পুজো শুরু হল। এলাকার যত জেলে ছিল তারা সব ভক্তি ভরে সেখানে পুজো দিত। সন্ধের পর সবাই এক জায়গায় জড়ো হলে জলদেবতার গান হোত।

এমনি করেই দিন চলছিল। জলদেবতার পুজো করে তাদের খুব উন্নতি হল। তারা রোজ রোজ দামি মাছ পেত। তা বিক্রি করে ঘরবাড়ি সারিয়ে নিল, মেয়ের বিয়ে দিল। তারা ভাবল, জলদেবতার কৃপায় তারা উন্নতি করতে পেরেছে। তাই তারা কাজে কোনদিন ফাঁকি দিত না।

এইভাবে দিন কেটে যেতে লাগল। একদিন কানাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দেখল পাড়ের কাছে একজন মানুষ উপুড় হয়ে পরে আছে। পায়ে পায়ে সে সেদিকে অগিয়ে গেল। কে এই লোকটা, কোন দেশে বাড়ি কে জানে। নদীর পাড়ে যখন তার দেহ এসে আটকে আছে তখন কানাই বুঝল, এ নিশ্চয় কোন দূর দেশের লোক। নদীতে বিপদে পড়েছিল, ঢেউ এসে পাড়ে তুলে দিয়েছে। বেঁচে আছে কিনা কে জানে!

কাছে গিয়ে ঝুঁকে পরে কানাই দেখল লোকটা আর কেউ নয়, তার দাদা বলাই।  দাদা কি আর বেঁচে নেই? সে কাঁদতে শুরু করল। ওর কান্না শুনে আরও অনেক জেলে নোউকা ফেলে এগিয়ে এল। সকলে ধরাধরি করে বলাইকে শুকনো মাটিতে নিয়ে এল। মুখে জলে ঝাপটা দিতে বলাইয়ের ঞ্জান ফিরে এল। বলাই জানাল, সে বিদেশে বেশ ভালোই ব্যবসা  করছিল। জলদেবতার স্বপ্নও দেখেছিল। কিন্তু পুজো করেনি। ফলে দেশে ফেরার পথে সব ধন-সম্পদ নিয়ে তার সেই নৌকা ডুবে গেছে। তার এখন আর কিছুই নেই। সে এখন এক পথের ভিখারি। এই বলে বলাই খুব কাঁদতে লাগল।

কানাই বলল, তুমি দুঃখ কর না দাদা। যা গেছে, তা যাবার জন্যি গেছে। এখন তুমি আবার আমাদের জাত ব্যাবসায় ফিরে এস। জলদেবতার পুজো কর।

কথাটা বলাইয়ের খুব মনে ধরল। বলল, আমার নৌকা যখন অতবড় ঝড়ে ডুবে গেল, সব লোক, ধন-সম্পদ ভেসে গেল, তখন আমিও জলের তলায় চলে যেতুম বুঝলি ভাই। কিন্তু এক মাছ আমাকে রক্ষা করল। অত বড় মাছ আমি কোনদিন দেখিনি। তার পিঠে চেপেই বাকি নদী পেরুই। আমি বুঝেছি, মাছই আমার প্রাণ রক্ষা করেছে। এখন থেকে আমি তোদেরই মত জাল ফেলে মাছ ধরব।  আমি তেজারতির কারবার ছেড়ে দেব। 

এই বলে সে গ্রামের সব জেলেদের জমি জমা পুকুর সব ফিরিয়ে দিল। মাছ ধরতে শুরু করল নদীতে। কানাইয়ের পাশে এক মাটির ঘর গড়ে নিল।

এখন দুই ভাই সব সময় একে অন্যের পাশে থাকে।  এক সঙ্গেই খাবার খায়। একের বিপদে অন্যে ঝাঁপিয়ে পরে। আর যখন তাদের মন খারাপ হয়, জলদেবতাকে ডাকে। তিনি নৌকা করে আসেন। সেই নৌকা চেপে কানাই-বলাই জলদেবতার বাড়ি যায়। মন্ডা মেঠাই খেয়ে আসে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত