একগুচ্ছ কবিতা

বাবা একটি গাছ
একটি গাছ।বটবৃক্ষ,হেমন্ত কারাগারে সাক্ষী লিখছিল।
সরোদমাখা শাদা দুধের মতো চাঁদ
বহুবার শুরুগুলো ছড়িয়ে যায়
গুটি পায়ে অসংখ্য আয়োজন জমা
বাবার স্টেশন থেকে একা যাত্রার দীর্ঘপথ-
ঢ্ল বেয়ে নেমে গেছে আমার মতো
হাত পা গজানো আলো অন্ধকার রূপান্তরে
এমন বিখ্যাত আনন্দ,মাধ্যমিক হাসি-পূর্ণদৈর্ঘ্য আঙ্গুল
আজো সম্পদনা করে-ঘর উঠানে,কেবল স্রষ্টাময় বাবা!
রাত ভাষা বোঝে
আমার প্রিয় তুমি।সব সময়
-শ্যামলা নারী,হেমোগ্লোবিন গাঁথা
রক্তজবার মতো লাল চোখ…
আগুন ঢালো,জল ঢালো
তবু ভীষণ যন্ত্রণায় ভালবাসা।
একলা যুবক,আমি একলা পুরুষ
চোখে গহিন সুখসার আকাঙ্ক্ষা,
কোজাগরী স্বপ্ন বুকডান মৌসুম তলে
স্নায়ুচাপা তরঙ্গ নিঃশ্বাস ওড়ায়-
পাগল পাগল অনুরণন বাহানা
পাখির মতো চুপচাপ গাছডালে
রাত ভাষা বোঝে,তুমি কী বোঝ না?
সন্ন্যাসব্রত যৌবন
পাকা আমের মতো;
নীল ডাউনে শোয়ানো দু থুতুর হাসি,বিম্ভিত সংসার লালা
সুবহে কাজেবের আকাশ চুষে খায়-
একেবারে আলাদা রকম নিয়মে-আমাদের স্কয়ার প্রেম
কেবল ভাতঘর হতে ছোট ছোট আলো বের হয়ে আসে
হাত পা সরঞ্জাম গঠনে কোমরবাঁধা উঠান,
সহস্রাধিক নক্ষত্র,গম্বুজঅলা মিনার হতে
পৃথিবী যতদূর সুন্দরতা গড়ায়-
তার খাঁজকাটা পিপ্পল পাতা খসে পড়া রোদখুন
সন্ধ্যা দেবালয়ে জ্যোৎস্নার মতো
খাটের ওপর একখানা উত্তেজিত রাত আঁকে-
তারপর সারি সারি তন্দুর,বুকপোড়া রুটি,ভোজ ভোজ হেলান দেয়া জিলাপি,সন্ন্যাসব্রত যৌবন দু’জনে ভাগ করি।
অফেরতযোগ্য গোপন সংসার
হাততালি উড়ে যাও,অডিটোরিয়ামের দক্ষিণে
লবঙ্গলতিকার মতো জল শান্ত যেখানে নারীটি বসা
টান টান ছাপা শাড়ি,মৃদু হাসি-তার থুতুর ওপরে
শুয়ে থাকা হলুদ ধানক্ষেত ঠোঁট;বিভোর সমুদ্র
এই বাঁকানো উঠান আমার দীর্ঘহাতে মাপা কেবলি
বসন্ত বাগান,স্বপ্ন-ঘ্রাণে জমা
লবণাক্ত প্রেমের মুঠোতল,অফেরতযোগ্য গোপন সংসার!
তোমার অসুস্থতা
আমার সুস্থতা তোমাকে দিলাম
তোমার অসুস্থতা আমাকে দিতে পারো
মনের বসন্তকারাগারে বেঁচে থাকা তুমি!
তোমার দূরে থাকা
তোমার এড়িয়ে চলা
আমার অন্তর্দ্বদন্দ্ব রোমান্টিকতা
বহুবার স্বভাব খোঁজে
একটু মায়া,একটু আড়াল;গহিন মনোরমে আত্মগোপন
এই তো কদিন হয় প্রচণ্ড জ্বর,তরঙ্গ জ্বর অনুরণন ছড়ায়
একটি কাঁথা,একটি বালিশে জমে থাকা
তোমার অবহেলা
নির্ঘুম বাঁকাপথে ঠিকঠাক স্বপ্ন টোকা দেয়…
.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত