বিপুল দাসের গল্প টাইটল মিউজিক

আজ ২৭ জুলাই কবি,কথাসাহিত্যিক বিপুল দাসের জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।



দোলা, এই দেখ আমার জুলফি, আমার কানের পাশে সব চুল সাদা। পাগলামি করিস না। এই সতেরোই সেপ্টেম্বর আমি আটচল্লিশে পড়ব। আর তোর বার্থ ডে তো আমি জানি। ছাব্বিশে পা দিলি। বাইশ বছরের ডিফারেন্স আমাদের। তুই বললেই আমি বিশ্বাস করব।
তোমার বিশ্বাস অবিশ্বাসে আমার কিচ্ছু আসে যায় না। যা সত্যি, তাই বললাম। রোজ যদি তোমার একটা ফোন না পাই, আমি কিন্তু সোজা তোমার অফিসে গিয়ে সব তছনছ করে দিয়ে আসব। জানো তো আমাকে, সত্যিই আমি পারি। বেশি কিছু চাইনি তো তোমার কাছে। শুধু রোজ এক বার তোমার সঙ্গে কথা বলব। তোমার কথা শুনব।
পাগল, পাগল হয়ে গেছিস তুই। আমি সুস্থ আছি, আমি বুঝতে পারছি কী অ্যাবসার্ড একটা কথা তুই বলছিস। এ রকম হয় না দোলা। আমাকে তো তুই ভাল করে এখনও জানিস না। চার মাস আমরা একসঙ্গে নাটকের রিহার্সাল দিয়েছি। তোর সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, সেগুলো তো আমার বা তোর নিজের কথা নয়। আমরা তৈরি করা সংলাপ বলেছি। যেমন চেয়েছে প্রবালদা, তেমন সিচুয়েশন তৈরি করেছি।
তুমি একটা আকাট, আনস্মার্ট, লেবদুসমার্কা ল্যাগব্যাগার্নিগাস।
এক কথায় বললে পারতিস। মেয়েরা তো আজকাল ছেলেদের মতোই যখন তখন স্ল্যাং বলছে। আমাকে তোর ও রকম কেন মনে হল, জানতে পারি?
বুদ্ধু, হাবাগঙ্গারাম, অগারাম, উদো। তৈরি করা সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে আমার নিজের না বলা সংলাপ কেন বুঝতে না।
বুঝতাম দোলা। বিশ্বাস হত না। মনে হত প্রবালদা, তপনবাবু, স্বাতী আমার মতো ওরাও বুঝি তোর নিজের কথা, চোখের ভাষা বুঝতে পারছে। ভয় হত। এক দিন রিহার্সাল শেষ হতে দেরি হয়েছিল। আমার বাইকে তোকে বাড়ি পৌঁছে দিতে বলেছিল প্রবালদা। খুব মজা পেয়েছিস এমন মুখ করে আমার দিকে তাকিয়েছিলিস।
তুমি নার্ভাস হয়ে ঘড়ি দেখছিলে। শেষে বলেছিলে, বেশি রাত হয়নি। বাস পেয়ে যাবে। প্রবালদা তোমাকে ধমক দিয়েছিল। সুড়সুড় করে বাইক স্টার্ট করেছিলে। আমি পিছনে বসেছিলাম।

মানিকতলা ব্রিজ পেরোতেই আমার কাঁধে হাত রাখলি তুই। আমার হাত কেঁপে উঠল।
আমার বুক কাঁপছিল। রিহার্সালের বাইরে তোমার এত কাছে কোনও দিন বসিনি। নিজেকে এত সুচিত্রা মনে হচ্ছিল… কী বোকার মতো বললাম না? আমার তো ইচ্ছে করছিল পিছন থেকে তোমাকে জড়িয়ে ধরতে।
শিয়োর অ্যাকসিডেন্ট হত।
অ্যাকসিডেন্ট তো হয়েই গিয়েছে। রোজ তোমার সঙ্গে কথা বলতে কী ভীষণ ইচ্ছে করে। জানতাম, শো হয়ে গেলে আর রোজ দেখা হবে না। মাঝে মাঝে হয়তো প্রবালদা রিহার্সাল ফেলবে। গ্রুপে যেতে বলবে। এক মিনিট দেরি করে গেলে যাচ্ছেতাই বলবে। কত কায়দা করে তোমার নম্বর জোগাড় করেছি। কত দিন কল করতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে নম্বরগুলো মুছে দিয়েছি। তখন যে কী কষ্ট হত।
দোলা, সেধে কেন এই কষ্ট নিলি বল তো? কী পাবি? তোকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিচ্ছু নেই। যদি জানতাম…
ও মা, আমি আবার তোমার কাছে কখন কিছু চাইলাম। শুধু, রোজ একটা ফোন।
দোলা, আমার সংসার আছে। বউ, ছেলেমেয়ে। আমার সময়, আমার বেঁচে থাকা, আমার সুখদুঃখ, আমার স্নেহ ভালবাসা, শরীরের কামনা বাসনা, এমনকী আমার দেখা আর না দেখা স্বপ্নগুলো পর্যন্ত টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
আচ্ছা বলো তো, তুমি কী ভেবেছ? তোমাকে নিয়ে আমি কোথাও পালিয়ে যাব? তার পর তাহারা সুখে সংসার করিতে লাগিল সে রকম কোনও হ্যাপি এন্ডিং?
না দোলা, এ হয় না। সব কিছু টালমাটাল হয়ে যাবে। কেন তুই এমন একটা ইমপসিবল মিশনে নিজেকে জড়ালি।
তার পর তুমি আমাকে জিজ্ঞেস না করেই বাঁ দিকে ঘুরলে। উল্টোডাঙা থেকে ভি আই পি ধরলে। খুব সাবধানে চালাচ্ছিলে তোমার বাইক।
আমি জানতাম তুই ও-দিক থেকেই আসিস। তোর এক দিন রিহার্সালে আসতে দেরি হচ্ছিল। প্রবালদা বলছিল লেক টাউনে ঝামেলা হয়েছে। ভি আই পি অবরোধ করে রেখেছে লোকাল লোকজন। তুই নাও আসতে পারিস। তোরটা স্বাতীকে প্রক্সি দিতে বলে রিহার্সাল শুরু হয়েছিল।
তফাতটা কি সে দিন বুঝতে পেরেছিলে?
হুঁ। স্বাতী চেষ্টা করছিল। হয়তো তোর চেয়ে ভাল করার চেষ্টা করছিল। জানিস তো, প্রক্সিতেও কেউ ফাঁকি দিলে প্রবালদা কেমন রেগে যায়।
আমি কেষ্টপুরের মোড়ে বাসে বসে থাকতে থাকতে তোমার কথা ভাবছিলাম। আমার মন বলছিল স্বাতীদি এখন আমার পার্ট প্রক্সি দিচ্ছে। আমার জন্য প্রবালদা বসে থাকবে না। আমি তো জানিয়েই দিয়েছিলাম জ্যামে আটকা পড়েছি। মনে মনে দেখছিলাম তুমি স্বাতীদিকে বলছ, দোলা, এই দেখ আমার জুলফি… ব্যাক স্টেজে গিয়ে ডান দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলছ, দোলা, সেধে কেন এই কষ্ট নিলি বল তো…
ট্রাফিক আইল্যান্ড পার হলে আমার কাঁধে একটু জোরে চাপ দিয়েছিলিস। আমি বুঝেছিলাম এ বার তোকে নামাতে হবে। বাইক থেকে নেমে আমার দিকে এক বার তাকিয়েই লাল আলোর সুযোগ নিয়ে ভিড়ে মিশে গেলি। এক বার শুধু দেখলাম ওপার থেকে আমাকে খুঁজছিস। তখনও তো জানি না… এই, তুই সত্যিই আমার অফিসে গিয়ে ঝামেলা করবি নাকি?
করবই তো। আর কিছু তো চাইনি তোমার কাছে। শুধু রোজ এক বার তোমার কথা শুনব।
কী লাভ দোলা। কথা শুনতে শুনতে এক দিন ক্লান্ত হয়ে পড়বি।
তাই তো চাইছি। তোমার কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ব।
দোলা, ড্রামা করিস না। রোজ শুধু আমার কথা শোনার জন্য তুই আমার সঙ্গে জড়াতে চাইছিস?
বিশ্বাস করো। ওই যে, শেষ দৃশ্যে তুমি ভলিউম চেপে, কিন্তু কী ভরাট গলায় বলো দোলা, নেমে আয়। এই যে, আমি এখানে তোর জন্য অপেক্ষা করে আছি রাতে আমি তোমার ওই কথা স্বপ্নে শুনি। আমি অনেক উঁচু একটা টাওয়ারের মাথায় বসে থাকি। তুমি ডাক দিলে স্বপ্নের ভেতরেও আমার কী অসহ্য সুখ হয়…
ও, তাই বল। আমার গলার আওয়াজ পেলে তোর এক ধরনের ইয়ে, মানে এক্সাইটমেন্ট হয়। তাই রোজ তোকে আমার ফোন করে কথা শোনাতে হবে। আমার ভয়েস শুনে সেক্সুয়াল প্লেজার পেতে চাস।
না, না, বিশ্বাস করো। ওই যে বলো আমি এখানে তোর জন্য অপেক্ষা করে আছি, অডিটোরিয়াম হাততালিতে ভরে যায়, তোমাকে তখন মনে হয়…।
কী, কী মনে হয়? চুপ করে আছিস কেন, কী রে? আমাকে তখন তোর কী মনে হয়?
তোমাকে মনে হয় একটা নরম শিমুলতুলোর বালিশ, একটা পয়সা জমানোর পিগি, এক জন দমকল কর্মী, একটা টলটলে নীল জলের নদী।
ও। চলি রে। পরে দেখা হবে। মাথা থেকে ও-সব ভূত তাড়া তো।
তোমার নম্বর আমি জানি। আমারটা তুমি নেবে না?
কেন, রোজ তোকে কথা শোনাতে হবে? হয় না দোলা, ও ভাবে হয় না। ক্লান্তিকর কথা শুধু।
তা হলে কী ভাবে চাও আমাকে? সত্যি কি চেয়েছ আমাকে? কথাহীন জড়পুতুলের মতো আমাকে।
আমি তো বলিনি তোকে আমি চাই। এক বারও বলিনি। আমি শুধু বলেছি অসম্ভব, কেমন করে হবে। আমি বিশ্বাস করিনি তোর চাওয়া। এক রকম পাগলামি আছে তোর।
হ্যাঁ হ্যাঁ পাগলামি আছে আছে আছে।
এই এই দোলা, কোথায় যাচ্ছিস, ওই টাওয়ারে উঠিস না, হাই-টেনশন লাইন। দোলা, নেমে আয়। এই যে, আমি এখানে তোর জন্য অপেক্ষা করে আছি…

দুই
দোলা, নাটকটা কিন্তু শুধু ডায়ালগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তোমার ক্যারেকটার তোমাকে বুঝে নিতে হবে। রিহার্সাল শেষ হল, বাড়ি চলে গেলাম ও-ভাবে হবে না। প্রতিটি সংলাপ তোমাকে ভাবতে হবে। ভেরিয়েশন না আনলে কিচ্ছু দাঁড়াবে না। হ্যাঁ, হ্যাঁ, পাগলামি আছে আছে আছে এখানে প্রথম দুটো ‘আছে’ বলে টাওয়ার ধরে ঝাঁকাবে, শেষের ‘আছে’ বলেই টাওয়ারের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখবে। তুমি তো প্রফেশনাল, এত বার দেখাতে হবে কেন। আসলে অফিস-ক্লাবগুলোতে শো করে করে একটা টাইপ তৈরি করে ফেলেছ, ভাঙতে পারছ না। দুলাল, বাইরে গিয়ে সিগারেট খা। চা বলে আয়। শ্রাবণী,তোদের গ্রুপের সবাইকে বলে দিবি ড্রিম সিকোয়েন্সে সবার ওড়না যেন এক রকম হয়। লাস্ট শো-এ পুতুলের ওড়না একটু অফ হোয়াইট ছিল। চলবে না। বুলুদা, তুমি সিনিয়র লোক, বলতে খারাপ লাগে ব্যাক স্টেজে গিয়ে যখন ডায়ালগ বলছ, গলা একটু তুলবে না? মাথা থেকে ও সব ভূত তাড়া তো, এটা বলার আগেই ওঠার ভঙ্গি নেবে। ডায়ালগ শেষ করে হঠাৎ তুমি উঠছ। গত দুটো শো-এ তাই করেছ। অথচ রিহার্সালের প্রথম দিন থেকে তোমাকে বলে আসছি। দেখছ তো, মিনিমাম স্টেজ প্রপ, শুধু সংলাপের ওপর নাটকটা দাঁড়িয়ে আছে।
এক্সপেরিমেন্টাল নাটক, ড্রামা উইদিন ড্রামা। বুঝছ না, তোমার আর দোলার সিকোয়েন্সগুলো কী রকম গুরুত্বপূর্ণ। চা নাও। সঞ্চয়, থার্ড সিনে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তোকে কী করতে বলা হয়েছে। সারাক্ষণ দীপার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিস। মারব এক চাঁটি। বলেছি না বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেতের চেয়ারটা ফর্টি ফাইভ ডিগ্রি বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দিবি।
আবার কার ফোন এল। হ্যাঁ রানা, বল। হ্যাঁ, কল শো নিচ্ছি। সে সব সামনাসামনি আলোচনা করা যাবে। হ্যাঁ, রজতদা, সীমাবউদি একদম ফার্স্ট রো-এ ছিল। ভাল লেগেছে ওদের। না, বিবেকদের কাগজ রিভিউ করবে না। আমি জানতাম। সে অনেক ব্যাপার আছে। পরে বলব তোকে। এই, তোরা রেডি? প্রথম থেকে।
আচ্ছা দাঁড়া, পাঁচ মিনিটের ব্রেক। চলো বুলুদা, বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে আসি। না ভাই, টিকিটের ব্যাপার আমি কিছু জানি না। ও সব প্রতুল জানে। নেহাত স্ক্রিপ্ট পড়ে ভাল লাগল, অনিরুদ্ধর কথায় রাজি হলাম। টিকিটফিকিটের কথা আমি বলতে পারব না। বুলুদা, দোলা কিন্তু লাস্ট শো-এ ফাটিয়ে দিয়েছে। তুমি দু’একটা জায়গায় একটু শেডেড হয়ে যাচ্ছ।
কী ব্যাপার বলো তো। তুষারের প্রোডাকশনে তো দুর্দান্ত করো। প্রায়
একাই নামিয়ে দাও। এদের সঙ্গে কি অসুবিধা হচ্ছে কোনও। তা হলে বলো, আমি দরকার হলে শাফল করব। আজ রিহার্সালের পর একটু বসবে নাকি। না না, বাইরে নয়, আমার ওখানেই। ঠিক আছে, তুমি বেরিয়ে যাও। আমি ওই কু-ঝিক-ঝিক কম্পোজিশনটা আর এক বার দেখেনি। মিউজিক কিন্তু সায়ন্তন দারুণ করেছে। ব্যাপক এফেক্ট এসেছে।

তিন
দোলা, কোথায় গেলি?
এই যে, আসছি মা। ডাকছ কেন?
তুই যে বললি এ বার ওরা পেমেন্ট বেশি দেবে। কোথায়, কাল রাতে আমি আর গুনে দেখিনি। সকালে দেখলাম বেশি তো নেই।
দিয়েছিল। এক্সট্রা টাকাটা আমি রেখেছি। আমার দরকার আছে। তোমাকে যা দেওয়ার, কম তো দিইনি।
তোর টাকার দরকার আছে, আমার নেই?
বাবার পেনশনের টাকা কে পাচ্ছে? কোনও দিন কিছু দিয়েছ? সব সময় হাত পেতে আছ। শুধু রিহার্সালে আসা যাওয়ার খরচ কত হয় জানো? গত মাসে শো-এর দিন দেরি হচ্ছিল বলে বাধ্য হয়ে ট্যাক্সি নিয়েছি। কতগুলো কড়কড়ে টাকা এক বারে বেরিয়ে গিয়েছে।
কথা শোনাবি না। তুই কি মনে করিস তোর টাকায় বেঁচে আছি। নাকি মনে করিস তোর বাবার মতো আমিও তোকে মাথায় তুলে নাচব।
প্লিজ মা, সকালে উঠেই শুরু কোরো না।
আমি কোথায় শুরু করলাম। তুই তো তোর বাবার পেনশনের কথা তুললি। মানুষটা নেই। তার টাকাগুলো নিতে কি আমার ভাল লাগে। টাকাগুলো দিয়ে কী করবি দোলা? আমাকে দে না। এ বার ইলেকট্রিক বিল অনেক বেশি এসেছে।
শাড়ি-ব্লাউজ-ব্রেসিয়ার কিনব, লিপস্টিক-ক্রিম কিনব, ফেশিয়াল করতে যাব। তোমার আপত্তি আছে?
হ্যাঁ, যত বুড়ি হচ্ছিস, তত সাজগোজের বাহার বাড়ছে। এ সবের পিছনে বেশি খরচ করে কী লাভ দোলা। বয়স কত হল সে হিসেব আছে?
মা, বাবা আমার জন্য একটা বালা বানিয়ে রেখেছিল, এক দিন পরতে দেবে? চুপ করে আছ কেন? তোমাকে আবার ফেরত দেব। মা, তুমি কোনও দিন বাবাকে ডিউটির সময় দেখেছ? খাকি পোশাক, মাথায় লাল হেলমেট, জলভরা লাল গাড়ি নিয়ে ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে আগুনের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
এক বার দেখেছি। আমাদের পাড়াতেই এসেছিল। বেনারসীলালের পাট গুদামে আগুন লাগল যে বার, ও দিকের আকাশটা লাল। এখান থেকে ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছিলাম। দমকলের ঘণ্টা শুনলেই বুকের ভেতর কেমন কেঁপে ওঠে আমার।
শেষ বার, মই বেয়ে তিন তলার ওপর জল ছুড়ে দিচ্ছিল বাবা, গ্যাসের সিলিন্ডার ফাটল…
চুপ কর দোলা, চুপ কর। কেন সে কথা মনে করিয়ে দিস।

মা, আমার যে ভীষণ বাবার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে, মা গো… কত ওপরে উঠে বসে আছি, সামনে কেরোসিন, পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস। নীচে তাকিয়ে দেখি আমার জন্য কেউ বসে নেই।
চুপ করে পোড়ারমুখী। নাটক করে করে মাথাটা গিয়েছে। সত্যিমিথ্যের তফাত বুঝিস নে। যা হয় না, তাকে আর কেমন করে পাবি। আয় দেখি, তোর মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিই।
মা, বালাটা সত্যি সোনার? ইমিটেশন নয় তো!
প্রতিমাসে অল্প অল্প টাকা জমিয়ে তোর কথা ভেবে… কানের, গলারও করবে বলেছিল। দাঁড়া, বালাটা নিয়ে আসি।
থাক মা। ওটা দেখলে পরতে ইচ্ছে করবে। পরলে মনে হবে, ইস এর পাশে একটা লোহা-বাঁধানো, তার পর কত মিথ্যে স্বপ্ন পর পর পর পর…

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত