আজকের দিনেই আত্মহনন করেছিলেন টেস্টটিউব বেবির জনক

আজ থেকে ৩৮ বছর আগের কথা। একজন বাঙালি ডাক্তার আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। নাম সুভাষ মুখোপাধ্যায়। আত্মহত্যার কারণ অনেকটা সামাজিক-রাষ্ট্রিক গ্লানি মেখে বিবর্ণ বেঁচে থাকা। ভদ্রলোকের অপরাধ, তিনি ভারতবর্ষের প্রথম টেস্টটিউব বেবি এবং বিশ্বের দ্বিতীয় টেস্টটিউব বেবির আবিষ্কর্তা। কিন্তু বুরোক্র্যাটিক সমাজ তাঁর কথা মানতে চায় না। একজন সাধারণ ডাক্তার, তাঁর সাধারণ পদ্ধতিতে কেমন করে সব অসাধারণ যন্ত্রসম্বলিত ডাক্তারদের সিস্টেমকে ছাপিয়ে ভারতে টেস্টটিউব বেবির জনক হয়ে গেলেন? আইনের বিধান তখন দোষ চাপাল, অমুক ডাক্তার প্রথম টেস্ট টিউব বেবির দাবি করছেন, যা এককথায় ‘অনায্য’! সভ্যতার ইতিহাসে ব্যতিক্রমীদের কপালে দুর্ভোগ চিরকালের ব্যাপার। তা তিনি গ্যালিলিও-ই হোন, বা এদেশের সুভাষবাবুই হোন। ব্রেখটের নাটকে গ্যালিলিও যখন মেনে নিলেন সূর্যই পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে, তখন একজন তাঁকে বলেছিলেন, সত্যিই দুর্ভাগা এই দেশ, এখানে এই কথার প্রতিবাদ করার মতো কোনও বীর নেই। গ্যালিলিও হেসে বলেছিলেন, যে দেশে বীরের দরকার, তার চেয়ে দুর্ভাগা দেশ আর হয় না! সত্যিই সুভাষবাবু তো বিপ্লবী ছিলেন না, ছিলেন একজন আবিষ্কর্তা, একজন সত্যসন্ধানী। সেই সত্যকে কবন্ধের মতো চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁর উপর লাগানো হয়েছিল অপবাদ, মিথ্যে স্বীকৃতির শ্লেষবাক্য। ভদ্রলোক আর পারেননি, ১৯৮১ সালে মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে বেছে নিয়েছিলেন আত্মহত্যার পথ। সময় চলে যায় ঠিকই, তারপর সত্যটা একদিন সামনে আসেই। সূর্যের সত্য হোক বা আবিষ্কারের সত্য। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার প্রায় দু’দশক পর ২০০২ সালে তাঁর সেই অমূল্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাটির প্রকাশ ও পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। জানা যায়, কোনটি সেই অনুদ্ঘাটিত সত্য আর কোনটি আরোপিত মিথ্যে। কিন্তু, ততদিনে…

আজ সেই কলঙ্কিত দিন। সত্যকে চিনতে না পারা, একজন সত্যান্বেষীকে বিশ্বাস করতে না পারার খেদ হয়তো রয়ে যাবে। তবু ইতিহাসের চিরায়ত সত্যে অমলিন হয়ে রয়ে যাবেন ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবির জনক ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

 

 

 

 

.

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত