সেমিফাইনাল খেলা হচ্ছে না প্রোটিয়াদের

কঠিন এক সমীকরণ মাথায় নিয়ে রোববার লর্ডসে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান-সাউথ আফ্রিকা। সমীকরণ হল, ম্যাচে জেতা তো চাই-ই, সেমিফাইনালের স্বপ্ন জাগিয়ে রাখতে হলে জিততে হবে নিজেদের বাকি সবগুলো ম্যাচেও। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে সঙ্গে আবার তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের ফলাফলের দিকেও। পাহাড় সমান বোঝা নিয়ে আপাতত প্রথম যুদ্ধে বিজয়ী পাকিস্তান। তাদের কাছে ৪৯ রানে হেরে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে প্রোটিয়াদের।

২০০৩ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের পর এই প্রথম সেমিফাইনাল খেলা হচ্ছে না প্রোটিয়াদের। প্রথমে ব্যাট করে ৩০৮ রানের শক্তপোক্ত এক ইনিংস দাঁড় করিয়েছিল পাকিস্তান। জবাব দিতে গিয়ে ৯ উইকেটে ২৫৯ রানে থমকে যায় ফ্যাফ ডু প্লেসিসদের ইনিংস।

হেরে তলানির দল আফগানিস্তানের চেয়ে মাত্র এক ধাপ উপরে অবস্থান সাউথ আফ্রিকার। ৭ ম্যাচে মাত্র এক জয় আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে বৃষ্টির কল্যাণে পাওয়া এক পয়েন্টে দলটির সংগ্রহ মাত্র ৩। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও আর কোনো সুযোগ নেই তাদের।

উল্টো পিঠে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল পথটা এখনও বেশ কঠিন। তবে সম্ভাবনা থাকল। ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্টে টেবিলের ছয়ে উঠে দলটিকে শেষ চারে খেলতে হলে জিততে হবে বাকি ৩ ম্যাচে। শুধু জিতলেই হবে না, কামনায় থাকতে হবে পয়েন্ট টেবিলের সেরা চার দলের কারো পতনেরও!

লর্ডসে নামার আগে প্রায় একই অবস্থানে থেকে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান-সাউথ আফ্রিকা। মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন বেহাল দশা, তেমনি মাঠের বাইরেও দুই দলের অবস্থা ছিল বেশ করুণ। একদলকে ঘিরে যত-শত বিতর্ক তো আরেক দলের সঙ্গী সর্বনাশা চোট। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে কে কাকে ছোবল মারে সেটাই ছিল দেখার। প্রোটিয়াদের দুর্ভাগ্য, বিতর্কবাণে তেঁতে থাকা পাকিস্তানিদের কোপটা পড়ল তাদের ঘাড়েই!

৩০৯ রানের বিশাল রান তাড়ায় সাউথ আফ্রিকা যে জেতার অবস্থায় নেই সেটা বোঝা গেল দ্বিতীয় ওভারে প্রথম বলেই। মোহাম্মদ আমিরের সুইং করা মিডল-লেগ স্টাম্প বরাবর বল খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হয়ে দলকে বিপদে রেখে গেলেন ফর্মহীন ওপেনার হাশিম আমলা (২)!

ফর্মহীনতা যেমন শত্রু তেমনি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ছিল রেকর্ডও। ২০১১ আসরে ভারতের বিপক্ষে ২৯৭ রানই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় রানতাড়া করে জয়। সেই রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন কুইন্টন ডি কক- ডু প্লেসিস জুটি। ৮৭ রানের জুটিতে পাকিস্তানিদের রক্ত ঠাণ্ডা করে দিচ্ছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান!

অবশেষে ২০তম ওভারে ব্রেক থ্রু এনে দেন লেগস্পিনার শাদাব খান। মিড-উইকেট দিয়ে মারতে গিয়ে ৪৭ রানে কাঁটা পড়েন ডি কক। প্রথম ওভারেই অবশ্য একবার জীবন পেয়েছিলেন প্রোটিয়া ওপেনার। এর চার ওভার পরেই এডেন মার্করাম (৭) ফিরলে প্রোটিয়াদের কান্নার ব্যবস্থা সারেন শাদাবই।

এরপরও দলের প্রাণ হয়ে জ্বলছিলেন ডু প্লেসিস। কিন্তু ৬৩ রানে প্রোটিয়া অধিনায়ককে উইকেটের পেছনে সরফরাজের ক্যাচ বানিয়ে বড় কাঁটা সরিয়ে দেন আমির। পরে রেসি ফন ডার ডুসেন ও ডেভিড মিলার ৫৩ রানের জুটিতে কিছুক্ষণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও শাদাব ও শাহেন শাহ আফ্রিদি মিলে ফিরিয়ে দেন দুজনকেই। এরপর দ্রুতলয়ে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় সাউথ আফ্রিকা।

সাউথ আফ্রিকার ৬ উইকেট সমানভাবে ভাগ করেছেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ ও শাদাব খান। ২ উইকেট পেয়েছেন আমির। বাকি একটি উইকেট পকেটে পুড়েছেন শাহেন শাহ আফ্রিদি।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করে দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান ওপেনিংয়ে তোলেন ১৪.৫ ওভারে ৮১ রান!

পরে দুই ছোবলে দুই ব্যাটসম্যানকেই সাজঘরে ফেরত পাঠান ইমরান তাহির। দুজনেরই রান ৪৪। এই দুজনকে ফিরিয়ে এক কীর্তিও গড়েছেন এ লেগ-স্পিনার। বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এখন তিনিই।

দুই ওপেনার ফেরার পর দ্রুত ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ (২০)। তাকে ফেরান অলরাউন্ডার আন্দিলে ফেলুকোয়ও। এরপর শোয়েব মালিকের জায়গায় দলে ডাক পাওয়া হারিস সোহেলকে নিয়ে মিডলঅর্ডারের ভিত গড়ে তোলেন বাবর আজম। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৮১ রান।

বাবর দারুণ খেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আবারো আউট হন হাফসেঞ্চুরির পর। ৮০ বলে ফেরেন ৬৯ করে। অন্যপ্রান্ত সামলানো হারিস সোহেল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন ফিফটি। একদম শেষদিকে আউট হয়েছেন ৫৯ বলে ৮৯ রান করে! ১৫ বলে ২৩ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলে দলের স্কোর ৩০০ ছাড়াতে ভূমিকা রাখেন ইমাদ ওয়াসিম।

প্রোটিয়াদের হয়ে সেরা বোলার লুনগি এনগিডি। ৬৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৪১ রান খরচায় ২ উইকেট পেয়েছেন ইমরান তাহির।

 

 

 

 

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত