| 18 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

গল্প: সুরত মিয়ার হাল হকিকত । মাহমুদ সানা

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

এ যেনো কম্বল জড়িয়ে থাকার দিন। ঘুম ভাঙলেও বিছানা না ছাড়ার দিন। প্রথম শীতের মৌসুম। শৈত্যপ্রবাহ চলছে শহরে। যেনো পাশ ফিরে আরো খানিক ঘুমিয়ে নেওয়ার দিন এসেছে। তবুও শহরের যে প্রান্তে সাপের মতো বেঁকে গ্যাছে ট্রেন লাইন, তারই দুই ধারে গাঁ ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঘিঞ্জি ঘর গুলোর মধ্যে একটি ঘরের বিছানায় সারারাত যে মুখ ঢাকা ছিলো কাঁথার ওমে। ঠিক শীতের সূর্য যেমন কুয়াশার থেকে বেঁচে অলস ভাবে উদিত হয় তার মতো জেগে উঠলো তাছলি। তাছলির কোন মৌসুমেই ঘুম ভেঙে পাশ ফিরে ঘুমাবার ফুসরত মেলেনা। রোজ এক তাড়া নিয়ে ঘুম ভাঙে তাছলির। তাছলি তার দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়া মেয়ের ঘুম ভাঙ্গায়। বেরিয়ে পড়ে সিলভারের মগ হাতে। ট্রেন লাইনের স্লিপার পেরিয়ে শহরের বড় ড্রেন লাইনের স্লাবের উপর চায়ের দোকান। তাছলি সেখান থেকে মগে করে চা নিয়ে আসে। এদিকে তাসলির দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়ে পুরোন ডানোর টিনের কৌটোর মধ্যে থেকে কেজি দরে কিনে আনা বিস্কুট হাতে নিয়ে বসে থাকে প্রতিদিনের মতো। তাছলি ঘরে ঢুকে একটা কাচের গ্লাসে মেয়েকে চা ঢেলে দেয়। সিলভারের মগের বাকি চা টুকু ক্লান্তির মতো চুমুক দেয় তাছলি।

শহরের ধুলোবালি, অনিয়ন্ত্রিত গাড়ী, কোলাহল, অগোছালো চারপাশ। তবুও নানা রঙের দেয়াল গুলো উচুঁ উচুঁ তলার বড় বড় বাড়ীর শহরে যারা আমার আমার বাড়ী বলে ফেরে। ঠিক শহরের অন্য প্রান্তের ঘিঞ্জি ঘর থেকে বেরিয়ে আসে অনেকে। শহরের ঐসব বড় বড় উচুঁ তলার বাড়ীর গৃহস্থালির কাজ করতে। তার মধ্যে তাছলি একজন।

তাছলি গতদিনের ফেলে রাখা থালা-বাসন সাফ করে ঘরঝাড় দিয়ে রান্নাঘর গোছাতে থাকে বাড়ীওয়ালীর সাথে। তাছলি গোছাতে গোছাতে বাড়ীওয়ালীকে বলে, আফা মাইয়ার বাফের বয়সাটা বেশি। তয় মনটা পোলাপানের সমান। কাইল রাইতে মাইয়ার লইগ্যা লাল ড্রেস কেনছে। কন আফা অহন কি ঈদ? বাড়িওয়ালী তার হাতের কাজ করে যাচ্ছে। তাছলি বলে চলে তার কথা, আফা আমার লইগ্যাও কানের দুল আনছে কন পোলাপানের কামনা? বাড়ীওয়ালী রুমের বিষেশ কয়েকটা যায়গা অনুসন্ধানীর মতো দেখে বলল, ফ্রিজের কোনায় ময়লা রয়ে গ্যাছে একটু দেখেশুনে ঝাড় দিস।ও কি বলছিলি? আফা আমি অহোন তাইলে যাই। বাড়ীওয়ালী বলল, হ্যাঁ যা। আচ্ছা শোন! ডাইনিং টেবিলে দুটো রুটি আর ডিম আছে খেয়ে যা। তাছলি বাড়তি রুটি, ডিম অথবা ভাজির জন্য রোজ বাড়ীওয়ালীর কাছে এসে চলে যাওয়ার অনুমতি নেয়। তাছলি একটা রুটি খায় বাকি রুটি আর ডিম মেয়ের জন্য নিয়ে যায়।

১.
রিক্সার যাত্রী বসার সিটে বসে নিজের বসবার সিটে পা তুলে তার পাকা চুল গুলোয় চিরোনি চালায়। তারপর গলায় মাফলার পেচিয়ে বিড়ি ধরায় সুরত মিয়া। রিক্সা স্টান্ডে আরো কয়েকজন রিক্সাওয়ালা আছে। সবার কেন্দ্র সুরত মিয়াকে ঘিরে। সুরত মিয়া হেসে দিয়ে বলে, বুঝছো মিয়া মানষির জীবনডা হলো শড়ি গিটির মতো। আটকায়েও রাখতি পারো আবার সড়াত করে খুলেও ফেলতি পারো। ছোকড়া টাইপের এক রিক্সাওয়ালা বলে উঠলো, কাকা তুমি জ্ঞানের কথা কইছো। সুরত মিয়া প্রশংসা শুনে আনন্দ পায়। ফলে সুরত মিয়া প্রত্যেকবারের মতো তার উদারতার পরিচয় দেয় সবার হাতে বিড়ি তুলে দিয়ে। সুরত মিয়া আবার বলতে শুরু করে শোন মিয়া আমি আর কি! আমার দাদাতো ছেলো বুদ্ধিজীবীগের কাতারে। তার বুদ্দিতি জমিদারগের জমিদারি চলতো। মধ্য বয়সের এক রিক্সাওলা বলে উঠলো, কাকা তুমার দাদা নিজি বলে জমিদার ছেলো। হ সেতো ছেলো! সুরত মিয়া জোর গলায় বলে। গলার সর নামিয়ে সুরত মিয়া সেই মধ্য বয়সি রিক্সাওয়ালাকে লক্ষ করে বলে, আরে ইডাতো কচ্ছি তার আগের কথা। তালি শোনো, জমিদার বাড়ী সকালে ফল ফলাদি ইলাহি নাস্তা নিয়ে বইসে থাকতো আমার দাদা যাবে তারপর খাদ্য খাবারে হাত, ন’লি না। দাদাও জমিদাররে মনেত্তে ভালো জানতো। একবার কি হইছে শোনো ইংরেজরা আসলো জমিদারের বাড়ী। দাদা তহন হাটে এদিকি ইংরেজের কথা কেউ বুঝতি পারতিছেনা। ইংরেজ মানুষ, চট কইরে রাইগেগেলো এর মধ্যি আমার দাদা হাজির। ইংরেজরা যা যান্তি চালো তার সব কিছুই বুঝই শুনোয়ে ভাঙ্গায়-চুরায় কয়েদেলো। ইংরেজ বিটা দাদার গায় হাত দিয়ে কলো…এর মধ্যে কয়েকজন যাত্রী এসে হুড়মুড় করে রিক্সায় উঠে চলে গেলো। রিক্সাস্ট্যান্ড প্রায় ফাঁকা ছোকড়া বয়সের রিক্সাওয়ালা আর সুরত মিয়া রয়ে গেলো।


আরো পড়ুন: গল্প: চোরের সর্দার । ইকবাল তাজওলী




দাদার গল্প বলে চলে সুরত মিয়া। জমিদারের ছুয়ালপুয়াল ছেলোনা তারপর জমিদার মরার ঘরে বইসে আমার দাদারে জমিদারি দিয়ে যায়। তখন হইলো আমার দাদা জমিদার। আমার দাদা জমিদার থাকতি আর একবার ইংরেজ আইছোল গাড়ী ভইরে। তার মধ্যি যে ইংরেজ ছেলো সগোলির সামনে সে বিরাট উচো লম্বা। মুখ খান লাল টকটইকে। আইছোল জমিদারি ছিনেই নিতি। দুই এক কথায় দাদার সাথে লাইগে গ্যালো ঝগড়া। দাদার মিজাজ ছেলো চড়া। দেলো কইসে একচড়। দাদার ভারি সাহস ছেলো সে থাকপে না কেন! এদিগি সারা গিরামের চাষাভুষা ছেলো দাদার পক্ষে। এর মধ্যে আর এক রিক্সাওয়ালা এসে স্টান্ডে থামলো। সুরত মিয়া বলে চললো কাহিনী, তারপর মাড়ির এক দাঁত পইড়ে গ্যালো সেই দাঁত ম্যালাদিন ছেলো আব্বার টিরাংকের মধ্যি সারা। নদী ভাঙনে যেবার ঘরবাড়ি… থেমে গিয়ে আগোত রিক্সাওয়ালাকে লক্ষ করে সুরত মিয়া বলে, কিরাম আছো? ছুয়ালপুয়ালগে কি কও কাকা। উগের এহোনো এইসব বুঝার বাল জালাইছে! আগত রিক্সাওয়ালার কথা শুনে সুরত মিয়া হাসে। উদার সুরত মিয়া একটা বিড়ি বের করে সেই রিক্সাওয়ালাকে দেয়। আগত রিক্সাওয়ালা সুরত মিয়াকে বলে, আর ভালো কাকা! শুনিছো খবর। আমাগের শান্তি শ্যষ। আমাগের রিক্সার মটর খুলে ফেলতি হবে। সিটি করপোরেশনের মিটিং ফিটিং-ই বলে কইছে। মটর আলা রিক্সা টাউনির রাস্তায় চলবেনা। সুরত মিয়া বলে, শোন মিয়া নতুন চাদর কিনলি জিরাম পুরোন চাদরের কদর কোমে আমাগের অবস্থা এ্যাহন সেরাম। আগত রিক্সাওয়ালা আফসের সুরে বলে, কাকা নতুন মটর লাগালাম কিস্তিও শ্যষ হয়নাই। সুরত মিয়া বলে, চলো সগলি মিলে সিটি করপোরেশনের অফিসি যাইয়ে আমাগে কথ কই। সুরত মিয়ার যে আরো তিন মাসের কিস্তি বাকি সেটা সচেতন ভাবে চেপে যায়। ছোকড়া রিক্সাওয়ালা বলে ওঠে, কাকা যে মটর খুলার কথা কইছে তারে কইশে এট্টা চড় দিলি কিরাম হয় চলো দেহি। সুরত মিয়া বিড়ির আগুনে আর একটা বিড়ি ধরায়।


হাটুর মদ্যি চিনচনি কইরে ব্যথা করে সুমায় সুমায়। তাও ভালো। এইটুক ব্যরামডা ভুইলে গেলি আরাম। মানষির মাথার মদ্যি কত কি না আছে। হাতের মদ্যি কি হ্যন্ডেল ধরায় দিছে মুড়ান দিলিই পংখিরাজের মোতন উড়াল দিতি চায়। এ ভারি এক কায়দা। এইসব ভাবতে ভাবতে হেসে ফেলে সুরত মিয়া। রিক্সাসায় বসা দুজন যুবক যাত্রী সুরত মিয়াকে লক্ষ করে বলে বসে, মামা হুদায়ি পাঙ্খা হইয়া গেলা কেন? সুরত মিয়ার হাসি ক্ষীণ হয়ে আসে। সুরত মিয়া পিকাপ ধরে প্যাসেঞ্জার নিয়ে যায় শপিং কমপ্লেক্সের সামনে। সুরত মিয়া প্যসেঞ্জার নামিয়ে রিক্সায় লাগানো মটরের দিকে তাকায়। ভাবে এই যন্ত্রর খুইলে ফেললি আরাম সত্যি শ্যাষ। শপিং মলের সামনে ভ্যানের উপর চোখ যায় সুরত মিয়ার দেখে আর ভাবে, দুনিয়ার হিসেব কিতেবই আলাদা ধনি আর গরীবির সব কিরাম গায়গায় মিশা। শপিং মলে উঠলি ধনির কিনা কাটা আর না উঠলি গরীবির। শপিং মলের সামনে ভ্যানের দিকে এগিয়ে যায় সুরত মিয়া। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়া মেয়ের মুখ ভেসে ওঠে চোখের পাতায়। লাল রঙের একটা জামা কেনে ভ্যান থেকে মেয়ের জন্য। পাশের ভ্যানে জলজল করছে অলঙ্কার। সেখান থেকে এক যোড়া কানের দুল কেনে। খুব যত্নের সাথে রিক্সার বক্সে মেয়ের লাল জামা আর কানের দুল রাখে। সুরত মিয়া কোন প্যসেঞ্জার রিক্সায় না নিয়ে এক মনে চালিয়ে নিজের স্টান্ডে এসে থামে। সুরত মিয়ার মন বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। ‘সত্যি যদি মটর বন্ধ কইরে দেয়’ এই চিন্তা সুরত মিয়াকে গ্রাস করে রাখে। আরো তিন মাসের কিস্তি। সারা জীবন প্যাডেল মাইরে হাড় ক্ষয় করে ফ্যাল্লাম, এখন যখন একটু শান্তির মুখ দ্যাখলাম তা যেন আর সয্য হলোনা। সারা জীবনডা ভর শাসনের মদ্যি থাকলাম। নিজির শান্তি নিজির গরজ মোতন আর চলতি পারলাম না। সুরত মিয়ার পাংশুল চেহারা সচরাচার দেখা যায়না। দুঃখ-কষ্ট তাঁর কাছে ঝেড়ে ফেলা ময়লার মতো। কিন্তু আজ এক অনিশ্চিত ক্ষতির কথা ভেবে গোমরা মুখে বসে থাকে সেই একি কায়দায়। রিক্সার যাত্রী বসার সিটে বসে নিজের বসবার সিটে পা তুলে। মধ্য বয়সী সেই রিক্সাওলা এসে সুরত মিয়াকে বলে, কাকা শুয়াল ব্যলাতো ভালোই দ্যাখলাম এহন চিহারা ওরাম ক্যা! কি হইছে কাকা শরিল খারাপ? সুরত মিয়া তাঁর পুরোন হাসি ফিরিয়ে এনে বলে, না মিয়া কি যে কও। বয়স তো আর আমার মন ধরতি পারেনাই। ধরো জিরাম আসমান আর জমীনির মধ্যি থাকা মেঘের মোতন।


তাছলির চোখ মুদে আসে ক্লান্তিতে। তার শরীর মন সমস্ত জুড়ে কেবল বিশ্রাম চায়। তবুও ভেতরে এক অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকে। তাছলি তার দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়া মেয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে থাকে। মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। আর একটু পর পর ঘুমের ঝিমটি দেয়। তাছলি অপেক্ষা করে স্বামীর জন্য ভাবে লোকটার বয়স হয়েছে। শীতের রাত। এতো রাত করলে কখন যেনো অসুস্থ হয়ে পড়ে এই ভেবে তাছলির খুব ভয় হয়। রক্তের আপন বলতে কেউ নাই। বয়স হলেও লোকটা আছে বলে সাহস পায়। তাছলি ঝিমটি দেয় আর ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে কখন সে জানেনা।

টিনের দরজায় আস্তে আস্তে টোকার শব্দ পায়। তাছলি ক্লান্ত শরীর আর ঘুমঘুম চোখে দরজা খোলে। হাসি মুখে সুরত মিয়া বলে, বউ আইজকে আরো ইট্টু আগে আসতি পারতাম হইছে কি সুলতানের ছুয়াল বড়োডা স্টান্ডে আইসে… থামিয়ে দিয়ে তাসলি বলে, আপনের অহন অতো কথার দরকার নাই রোজ একটা কইরা উছলত বানান। খাইয়া ঘুমাইতে আহেন। তাসলি চকিতে শুয়ে পড়ে আর সুরত মিয়া নিচে খেতে বসে। খেতে খেতে বলে শোনো বউ সুলতানের বড়ো ছুয়ালডা কলো সিটি কর্পোরেশনেত্তে রিক্সায় মটর খুইলে ফেলতি কইছে। তাছলি উঠে এসে সুরত মিয়ার পাসে বসে বলে, তিন মাসের কিস্তি বাকি! তাইলে অহন উপায় কি! সুরত মিয়া বলে আরে চিন্তা করিসনা রকি আছেনা ছুয়ালডার সেইরাম সাহস ওগে কয়ডারে নিয়ে যাবো সিটি কর্পোরেশনের অফিসি এ্যাট্টা কিছু ব্যাবস্থা হবেনে। তাছলি মলিন মুখ করে থাকে। সুরত মিয়া হাত মুছতে মুছতে বলে, বউ ব্যাগডা খোলো। তাছলি খুলে দেখে একটা লাল জামা। ঘুমন্ত মেয়ের দিকে তাকায়ে হাসে জামাটা হাতে নিয়ে। সুরত মিয়ার দিকে তাকায় সুরত মিয়া বলে, বউ মাইয়েডারে ভারি ঢক দিহা জাবেনে জামাডা গায়দিলি। তাছলি আপ্লুত রাগে বলল, হইছে ঘুমাইতে আহেন। সুরত মিয়া তাছলির হাত টেনে ধরে বলে, রাগ হইছো! তাছলি রাগের মাত্রা বাড়িয়ে বলে, না আনন্দ হইছি। সুরত মিয়া জানে তাছলি তাকে পছন্দ করে মনে মনে সুরত মিয়ার সব কিছুতে আনন্দ পায়। কিন্তু বাইরে সে চোখে মুখে রাগের রেখা নিয়ে ঘোরে। সুরত মিয়া পকেটে হাত দিয়া কানের দুল বের করে তাছলির হাতে দেয়ে। তাছলি তিব্র রাগ নিয়া সুরত মিয়ার দিকে তাকায়। কিন্তু গলাটা শান্ত করে বলে, তুমার বয়স কি বাড়বোনা! সুরত মিয়া ঘরের চালের দিক তাকিয়ে বলে, বয়স বাড়বে কিভাবে রে বউ! দিনি দিনি কুইমেইতো যাচ্ছে। তছলি শুয়ে পড়ে চকিতে। সুরত মিয়া মেয়ের পাশে বসে থাকে মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে। তাছলি ঘুম ঘুম চোখে বলে, হইছে আদর আহেন ঘুমাইতে। সুরত মিয়া শব্দ করে হেসে ওঠে বলে, বউ মায়েডা দেখতি কলাম মেম সাহেব গে মতো হইছে। আমার দাদির চিহারার মোতন। তাছলি হেসে দিয়ে বলে ঠিকই কইছেন। কিন্তু আপনের দাদিতো আপনে হওনের আগে দুইন্যা ছাড়ছে। ও হ দাদার কাছে শুনিছিলাম দাদি নাকি মেম সাহেব গে মতো দেখতি। তাছলি বলে, কথায় কথায় খালি আপনের দাদা-দাদি আর হেগো জমিদারি ঘুমান অহোন।

সুরত মিয়া সুয়ে পড়লো। চোখে ঘুম আসেনা রিক্সার মটরের কিস্তির কথা ভাবে। এই সব কিস্তির কথা ভাবতে ভাবতে অস্থির লাগে তার। হঠাত্ দাদার কথা মনে হয় সুরত মিয়ার। দাদার জমিদারি শেষ হয়ে গেলেও তিনি আমদের মধ্যে থাকতেন। সুরত মিয়ার মনে পড়ে এক দিনের কথা দাদা ডাক দিয়ে বললেন, সুরত শোন ভাই। জমিদারি জামা কাপুড়ির মতো বদলায়। মন কি বদলায়! জমিদারির গল্পের মধ্যে যে এক তৃপ্তি সেটাই সুরত মিয়ার জীবনটা টিকায়ে রেখেছে। সুরত মিয়া বলে, বউ বুঝিছো দাদা আমারে তার আয়ু দিয়ে গেছে। তাছলি ঘুমের মধ্যে সাড়া দিয়ে বলে তুমার দাদা কত বছর দুইন্যাতে ছিলেন। তা সঠিক কতি পারিনা তয় শুনিছি আড়াইশ বছর। আসলে দাদার বয়সের কোন হিসেব নাই বট গাছের মোতন। তাছলি পাশ ফিরে কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সুরত মিয়া ঘুমের জন্য তার দাদার আরো একটা গল্প খুজেঁ বেড়াচ্ছে মাথার মধ্যে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত