| 28 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
অনুবাদ অনুবাদিত কবিতা

অনুবাদ কবিতা: প্রকল্প রঞ্জন ভাগবতী’র অসমিয়া কবিতা । বাসুদেব দাস

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

নগাঁও জেলার চলচলিতে   ১৯৭৬ সনে কবি, অনুবাদক এবং লেখক প্রকল্প রঞ্জন ভাগবতী জন্মগ্রহণ করেন। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অধিকারী শ্রী ভাগবতীর কবিতা ইংরেজি, বাংলা ,এবং হিন্দি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ গুলি যথাক্রমে ‘গুয়াহাটি এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ'(২০১৬), ‘অসমীয়া লিটিল ম্যাগাজিন আরু  অন্যান্য প্রসঙ্গ'(২০২০),’ বলধারোহী আরু অন্যান্য কবিতা'(২০২১)।অনূদিত গ্রন্থ ‘ ‘কথা পতা চরাই আরু অন্যান্য বিদেশী সাধু’ (২০১৯)। শ্রী ভাগবতী বর্তমানে ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা বিভাগে কর্মরত।


 
 
পথ
 
নিজেকে নিয়ে আমার চিন্তা হয় না, কেননা–
সঙ্গে নেবার জন্য আমার গাড়ি-ঘোড়া নেই,
মাটি- বাড়িও নেই,
সম্পত্তি বলতে কয়েকটি বুকসেলফ
– সঙ্গে নেওয়া যায় না
আত্মীয়স্বজন কেউ যাবে না আমার সঙ্গে
পুরস্কার– সম্মানও কিছুই জোগাড় করতে পারলাম না
– গলায় ঝুলিয়ে নেবার জন্য
নিয়মমাফিক উচ্চতা এবং ওজনে
আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ
একটু আধটু সংকীর্ণ জায়গা পেলেই
পার হয়ে যেতে পারব।
চিন্তা হয় তাদের নিয়ে–
যে ভ্রমবশতঃ
না লোভবশতঃ
সঙ্গে নেবার জন্য অনেক কিছু সংগ্রহ করেছে
আজীবন সংগ্রহ করা সাধারণ জিনিস গুলির সঙ্গে
তাদের–
অনেক প্রশস্ত পথের প্রয়োজন হবে।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
উলঙ্গ মানুষ
 
মানিব্যাগে ধন আছে বলেই
যেদিকে মন যায় চলে যেতে পারি না
কী খাব কী পরব বলার জন্য
খাপ পেতে থাকে নৈতিকতার প্রহরী 
আইডেন্টিটিকার্ড গুলিই জীবন বাঁচালে বাঁচাবে
বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে হয়ে নিতে হবে নিশ্চিত–
সমস্ত পরিচয় সঙ্গে নেওয়া হয়েছে কিনা বেধে- সেধে
ধর্ম জাতি ভাষার পোশাকগুলিই  আসল
উলঙ্গ মানুষের নেই কোথাও কোনো কদর
 
উলঙ্গ মানুষ হয় নবজাতক না হয় মৃত
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 

 


আরো পড়ুন:অনুবাদ কবিতা: তোষপ্রভা  কলিতা’র অসমিয়া কবিতা 


 

 
 
খেলা
 
খেলতে এসেছ
খেল
খেল
খেলে যাও
 
 
হারজিত নয় বড় কথা
খেলতে পারাটাই
আসল
 
সময় বড় কম
নিয়মগুলি শেখায় লেগে থাকলে
খেলবে কখন
খেলায় মন দাও 
নিয়মগুলি খেলতে খেলতেও শিখতে পারবে
 
পরাজিত হওয়ায় দুঃখ নেই
বিজয়ী হওয়াতেও নেই সুখ
 
খেলতে এসেছ
খেল
খেল
খেলে যাও
খেলতে পারাটাই আসল
 
 
 
 
 
 
 
নির্বাচন শেষ হল
 
প্রার্থনা গৃহে ভিড় কমল
ধর্মের কথা কেউ বলল না
সৈনিকের বীরগাথা কেউ গাইল না
প্রতিবেশীকে শিক্ষা দেওয়ার কথা কেউ ভাবল না
ধর্ষণকারীর ফাঁসির কথা চাপা পড়ে গেল
কৃষকের আত্মহত্যার খবর পুনরায় বের হতে লাগল
দেশপ্রেমগুলি আমাদের জন্য রেখে
দেশ নিয়ে নেতা গেল লঙ্কায়
 নির্বাচন নিশ্চয় শেষ হল
 
 
 
 
 
 
নারী স্বাধীনতার বিষয়ে
 
শ্রীমতী আমাকে নারী স্বাধীনতার বিষয়ে লিখতে বলেছে
আমাকে মায়ের বিষয়ে লিখতে হবে
বেটি বাঁচাও ,বেটি পড়াও বিজ্ঞাপনটিতে বলা ডানা জোড়া
মা ও একদিন পেতে চেয়েছিল
একটা এক টাকার অভাবের কাহিনিটা মা আজও বলে
বৃত্তিতে বসতে না পারার রাগটা মা অ্যালুমিনিয়ামের একটা হাতার ওপর প্রপ্রকাশ করেছিল
নিজের না হলে নেই
ডানা গজানো একটা পাখি উড়ানোর মা কামনা করেছিল
তারপরে আমরা কয়েকজন হলাম–
শেষ যাত্রার ভার বহন করার জন্য চারটি মজবুত কাঁধ
ছেলেদের উড়ার জন্য ডানার প্রয়োজন নেই
 
মা ছেলেদের–
হাতা ভাঙ্গার কথা লুকিয়ে একটাকার কাহিনিটা
সব সময় বলে
 
মা বৌমাদের ডানাগুলি কখনও
নেড়েচেড়ে দেখে
কারও প্রশস্ত,
কারও দীর্ঘ
 
ডানা নেই বলে মা নিজে ভাবে
আমরা মায়ের ডানার নিচে লালিত-পালিত হলাম
 
এতটুকু লিখে শ্রীমতীকে পড়ে শোনালাম
সে বলল,’ এটা মায়ের কবিতা।
আমার কবিতা আমাদের মেয়েরা ভালো লিখবে।’
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত