ফুল, অশ্রু, প্রেম-৩১ নারীর কবিতা (পর্ব-১৩) । মুম রহমান
ইহুদি, জার্মান কবি ও নাট্যকার ন্যালি সাক্স (১৯৬৬-) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আর দশজন ইহুদির মতোই জার্মানী ত্যাগ করতে বাধ্য হন। হিটলার আর তার নাৎসিবাদের উত্থান তার কণ্ঠস্বরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আর মানবতার পক্ষে আরো জোড়ালো করেছে। তার লেখায় ইহুদিদের নির্যাতন, বেদনা উঠে এসেছে। সুইডেনের স্টকহোমে বসেই তিনি হিটলারের নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে যান। তার কবিতায় প্রতিবাদ থাকলেও ভাষায় গীতলতা বিদ্যমান। ১৯৬৬ সালে কবিতার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৬১ সালে জার্মানীতে তার নামেই দ্বিবার্ষিক পুরস্কার চালু হয়।
যদি কেউ আসে
যদি কেউ আসে
বহু দুর থেকে
রুদ্ধশ্বাস ভাষা নিয়ে
এক ঘোটকীর হ্রেস্বা রবের মতো
কিংবা
কিচিরমিচির
ফিঙে পাখি তার বাসা থেকে
কিংবা
যদি তা করাতে চিৎকার হয়
কেটে ফেলছে যে নৈকট্যকে টুকরো টুকরো করে
যদি কেউ আসে
বহু দুর থেকে
কুকুরের মতো কুঁকড়ে গিয়ে
কিংবা একটা ইঁদুরের মতো
শীতের সময়-
তাকে উষ্ণতায় ঢেকে দাও
হয়তো রয়েছে বেশ
আগুম জমা তার জুতার তলায়
(হয়তো সে আরোহণ করে এসেছে
এক উল্কাপিন্ড
তাকে বকো না
যদি তোমার কার্পেট চিৎকার করে তার রন্ধ্র থেকে
একজন আগুন্তক সদাই বহন করে
তার ঘর নিজের বাহুতেই
একজন অনাথের মতোই
আর হয়তো
সে যতো কিছুই খুঁজছে আসলে খুঁজছে
একটি কবর
মাটি দিতে।
এক বৃদ্ধ দম্পতি
আরো পড়ুন: ফুল, অশ্রু, প্রেম-৩১ নারীর কবিতা (পর্ব-১২)
এক বৃদ্ধ দম্পতি
হাতে হাত রেখে উঁচুতে বসা
যেন যুগল নক্ষত্রমন্ডল
এখন ঘিরে আছে স্নিগ্ধ সিন্ডার-গীতি*
অতীতের
যে গানে তারা ভালোবেসে ছিলো আর মরে গিয়েছিলো
আমার এই বেদনা মুগ্ধকর
এক কাগজের-পুতুলের বীরের স্বপ্ন
এই অবশিষ্ট ঝলসানি রেটিনার উপর
এই অসভ্য নিদ্রাহীনতার বৃদ্ধি
স্মৃতির পতনে-
পাহাড়ের চূড়া
পাহাড়ের চূড়াগুলি
একে অপরকে চুমু খাবে
যখন মানুষেরা তাদের মরণ কুড়েঘর ছেড়ে চলে যাবে
এবং একে অপরকে মুকুট পরাবে
রংধনু দিয়ে
সাতরঙা সান্তনা
পৃথিবীর রক্তক্ষরণের –

জন্ম ২৭ মার্চ, ময়মনসিংহ। এমফিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা লেখালেখি।