পিটার গিজ্জির কবিতা

মার্কিন কবি পিটার গিজ্জি। ২০১৬ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ Archeophonics ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের জন্য চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত হয়। Archeophonics কবির উদ্ভাবিত এক নতুন শব্দ, Archaeology (প্রত্নতত্ত্ব) এবং Phonics (ধ্বনিতত্ত্ব) শব্দের সন্ধিকরণ, যার অন্দরমহলে আছে এক প্রাচীন টেকনোলজি ফোনাটোগ্র্যাফির ইতিহাস। ফোনাটোগ্র্যাফির যন্ত্রটি ১৮৫৭ সালে আবিষ্কার করেন ফরাসি বুকবিক্রেতা স্কট দে মার্টিনভিলে। শব্দের প্রতিঘাতে চলা একটি স্টাইলাস তৈরি করে শব্দতরঙ্গের ভিসুয়্যাল রেকর্ডিং এবং এই পদ্ধতিতে তিনি প্রথম রেকর্ড করেন ফরাসি লোকসংগীত “Au Clair de la Lune,”(“By the light of the moon”)। তিনি একটা সিলিন্ডারের ওপর কাগজ মুড়ে সেটা লন্ঠনের ওপর ঘোরাতে থাকেন, যতক্ষণ না তা লণ্ঠনের ভুসোকালির ধোঁয়ায় কালো হয়ে যায়। তারপর দুটো স্টাইলাস চালনা করেন সেই ভুসোকালির ওপর। একটা স্টাইলাস চলে টিউনিং ফর্কের কম্পনের দ্বারা আর অন্যটি একটি পর্দার ভেতর দিয়ে বাহিত কোনো ব্যক্তির স্বরধ্বনির দ্বারা। তারপর কাগজের ওপর তৈরি প্যাটার্নটি কেমিক্যাল দিয়ে ফিক্স করা হয়। তৈরি হয় শব্দের ভিসুয়্যাল প্রতিরূপ। ইতালির অডিও ইতিহাসবিদ ডেভিড জিইভানোনি স্কটের তৈরি সেই স্বরধ্বনির প্লেব্যাক তৈরি করেন অপটিক্যাল ইমেজিং ও ভার্চুয়াল স্টাইলাস এর মাধ্যমে। বাতাস, যা সংগীতেরই এক পুরোনো প্রতিশব্দ, সেই বাতাস শব্দটির রূপকে কবি গেঁথেছেন আর্কিওফোনিক্সের ধ্বনিতত্ত্ব। ২০১৮ সালে Bridgeable Lines: An Anthology of Borderless World Poetry in Bengali অ্যান্থোলজিতে কাজ করতে গিয়ে মুগ্ধ হই তাঁর শেষতম কাব্যগ্রন্থ নিউ পোয়েমস: দ্য ব্রাদার ইন এলিসিয়ম পড়ে। আর সেই মুগ্ধতা থেকেই এবারের যাত্রা তাঁর আর্কিওফোনিক্স কাব্যগ্রন্থে, সেখান থেকেই কিছু অনুবাদ।

এ পৃথিবী কোনো উপসংহার নয়

এমিলি ডিকিন্‌সনের জন্য ও তারপর

যখন তোমার জানলা দিয়ে দেখি আর একটা জানলা দেখতে পাই

আমার মাথার ভেতর এক পরিণয় দেখি, একটা স্টাইলাস আর খাঁজ

তরঙ্গ তুলছে এক স্বরধ্বনি

যখন তোমার জানলা দিয়ে দেখি আর একটা জানলা দেখতে পাই

এইসব গাছ বাস্তব নয়, তারা হাওয়া থেকে জেগে ওঠে

পড়ে যায় ধুলোর মত

ফলত গায়ন হল দেখা আর দর্শন সংগীত

আমি দেখেছি শিরোভূষণ ও রাজমুকুট, গুলবাহার ও মৌমাছি, রবিনপাখি

ফিতেগুলো আর বরফের চাকতি

একফালি আলোয় ছড়ানো ছন্দ

যখন তোমার জানলা দিয়ে দেখি আর একটা জানলা দেখতে পাই

আগুন ও মেয়েটাকে দেখি, লাল চুল আর হেজেল চোখ

প্রকাশ্য এই আকাশে

পৃথিবী যখন ফিরে তাকাবে সে হবে রেকর্ডের ধ্বনি

কুহুডাকা গুল্মের নাম হবে ডিকিন্‌সন

দলমাত্রা, উষ্মধ্বনি, ঠুংঠুং শব্দ আর সৌজন্যসোহাগ সকলই ছিঁড়ে পড়বে   

তোমার জানলার বাইরে আমি আর একটা জানলা দেখি

বাতাসে এক শবযাত্রা দেখি, দেখি শ্বেতস্ফটিকের স্থান

আমি পরিসীমা পাঠ করি তার

  

সংগীত

আমি রং চাই বোনার জন্য,

রক্তপাতের জন্য,

গান চাই উড়তে, বাঁক নিতে,

ভাবতে রেখা বরাবর।

কোমল মণ্ড সাজিয়ে

খুলে দিতে চাই সবুজের

মৌলিক অনুভবগুলো।

গায়ক পাখিরাই

কঠিনতম অংশ

আর তাদের সমাপতন,

গুমোট অবস্থা, চুলোয় যাক।

এ পৃথিবী নিয়নিত

শান্ত সন্ধ্যায়।

আমি হেঁটে যেতে চাই,

যেতে চাই আগুনের ভেতর,

জ্বলে যেতে চাই

ব্লেকে, চাঁদেল সুভাষিতে

ডুবে যেতে চাই

তার শরীরী বাগিচায়।

ওপরের ওই চাঁদ

আমার জীবন।

বন্ধুর আর বাস্তব আজ রাতে,

শীতল সন্মিলনে

সূর্য প্রতিফলন।

ওইখানে থাকে এক কম্পিত স্বর,

ন্যুব্জ আলো

এই সমীকরণে।

গোলমেলে রশ্মিগুলো ভরা থাকে ভ্রান্তিতে,

পরী ও ভূতপ্রেতে

আর সোনাজহরতে,

নায়কে, গায়কে,

আর তোমার মুখে।

অচিন হয়ে ওঠো তুমি

প্রিয়তম রাত।

   

বৃষ্টিদিন আর সোমবারগুলো

এসবের ওপরে এই আর

এসবের নীচে ওই

এই হ্যাঁ আর

ওই হ্যাঁ এর মধ্যে

ভূতুড়ে অবস্থা

মেয়েটি আর

তিরগুলোর মধ্যে

বহু আগের

আর বহু দূরের

গ্যালাক্সি আর

এলোমেলোতার মধ্যে

নিজের সঙ্গে কথা বলছি

আপাতত

একটা গান

 

 

কীভাবে পড়তে হয়

                     রোজমারি ওয়ালড্রপের জন্য

এক আলোর পৃথিবী আর এক মুক্তবাদের পৃথিবী

উষ্ণতা আর গতিময়তার শব্দবিন্যাস

অন্ধকারে মানবসমাজ মৃদু ক্রন্দনে

দানবীয় শূন্যতা আর সময়

খোঁজের উষ্ণতায় জ্বলছে মন

তাললয়ছন্দে ধ্বনির সাদৃশ্য

অনলস নিঃশব্দ ম্যাজিক

পাঠগত এক জ্যোতির্বলয়, বাতাসজাত

 

 

 

 

কবি পরিচিতি

মার্কিন কবি পিটার গিজ্জি[1] (জন্ম ১৯৫৯) বর্তমানে আমহার্স্টের ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর কাব্যগ্রন্থ Archeophonics ২০১৬ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের জন্য চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত হয়। এছাড়া তাঁর বহু আলোচিত বইগুলি: In Defense of Nothing: Selected Poems 1987-2011 (২০১৪), Threshold Songs(২০১১)। পিটার গিজ্জি ১৯৯৪ সালে অ্যাকাডেমি অফ অ্যামেরিকান পোয়েটস দ্বারা প্রদত্ত Lavan Younger Poets Award এর প্রাপক। তাঁর প্রাপ্ত কবিতার ফেলোশিপ: The Rex Foundation, The Howard Foundation, The Foundation for Contemporary Arts, The John Simon Guggenheim Memorial Foundation এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত The Judith E. Wilson Visiting Fellowship. তাঁর সম্পাদিত প্রজেক্ট: o-blek: a journal of language arts, The Exact Change Yearbook, The House That Jack Built: The Collected Lectures of Jack Spicer and, with Kevin Killian, My Vocabulary Did This to Me: The Collected Poetry of Jack Spicer.

[1] https://www.petergizzi.org/

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত